‘স্ক্যানিংয়ে পণ্য খালাসে ফায়দা লুটবে চোরা কারবারিরা’

ঢাকা, রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯ | ৪ কার্তিক ১৪২৬

‘স্ক্যানিংয়ে পণ্য খালাসে ফায়দা লুটবে চোরা কারবারিরা’

ফরিদ আহমেদ ৫:২৩ অপরাহ্ণ, জুলাই ২১, ২০১৯

‘স্ক্যানিংয়ে পণ্য খালাসে ফায়দা লুটবে চোরা কারবারিরা’

অর্থমন্ত্রী আ হ ম  মুস্তফা কামাল চাইছেন দেশের সব স্থল ও নৌবন্দরে স্ক্যানিং মেশিন স্থাপন করতে। দেশের আমদানি-রফতানি সহজ ও দ্রুততম সময়ে শেষ করতে স্ক্যানিং করে পণ্য খালাস করার পক্ষে তিনি।

কিন্তু অর্থমন্ত্রীর এমন প্রস্তাবের বিপক্ষে এনবিআরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তাদের মতে শুধুমাত্র স্ক্যানিং করে পণ্য খালাস করা হলে দেশি ও আন্তর্জাতিক চোরা কারবারিরা উৎসাহিত হবেন।

কর্মকর্তারা জানান, চোরা কারবারিরাই এর ফায়দা লুটবে। এই প্রক্রিয়ায়  নিষিদ্ধ, নিরাপত্তার জন্য হুমকি ও ঘোষণা বহির্ভূত পণ্য আমদানির পরিমাণ বেড়ে যাবে। কারণ দেশের স্ক্যানিং প্রক্রিয়াতেই রয়েছে গলদ।  

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, অর্থমন্ত্রণালয় থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) বলা হয়েছে সকল পণ্য স্ক্যানিং করে তারপর বন্দর থেকে বের করা হবে। বাজেটেও বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। এজন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক স্ক্যানিং মেশিন কেনার কাজও তড়িগড়ি করে শুরু করেছে অর্থমন্ত্রণালয়।

অর্থমন্ত্রণালয় বলছে আমদানিকারকের সবোর্চ্চ ১০ শতাংশ পণ্য কায়িক পরীক্ষা করা হবে। বাকি পণ্য স্ক্যানিং করেই খালাস দিতে হবে। অর্থমন্ত্রণালয়ের এমন প্রস্তাবের বিপক্ষে এনবিআরের শীর্ষ কর্মকর্তারা।

এনবিআরের শীর্ষ এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে রোববার পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, বাংলাদেশে যেভাবে কন্টেইনারে পণ্যগুলো আসে সেখানেইতো স্ক্যানিংয়ের কার্যকারিতা হারায়। প্রায় ৯০ শতাংশ কন্টেইনারে একাধিক আইটেমে পণ্য আসে। ১০টা থেকে শুরু করে একটা কন্টেইনারে আমরা ৩০০ এর মতো আইটেমও পেয়েছি। এক্ষেত্রে শুধুমাত্র স্ক্যানিংয়ের ইমেজ দেখে কিভাবে পণ্য খালাস করবো আমরা। আর এটা করাটাও কতটুকু যৌক্তিক হবে।

তিনি বলেন, মূলত স্ক্যানিং মেশিন যেভাবে কাজ করে সেটা হলো এক্সরের মতো। এই মেশিন কন্টেইনারের ভেতরে যে পণ্য আছে তার একটা ছবি দেবে। আর এই ছবিটা হবে কার্টুনের সাইজ ও শেইফের। এই ছবি দিয়ে আমদানিকারক সাইজ ও শেইফের যে ঘোষণা দিয়েছেন তার ভিন্ন কোনো সাইজ ও শেইফের কিছু এনেছেন কিনা তা নিরুপপ করবে।

তিনি আরো বলেন, আমাদের এখানেতো প্রায় সবগুলো কন্টেইনারেই একাধিক আইটেমের পণ্য আনেন। এক্ষেত্রে স্ক্যানিংয়ের ছবিতেও একাধিক সাইজ আসবে। এক্ষেত্রে আমদানিকারক যে পণ্যের যতটুকু ঘোষণা দিয়েছেন ততটুকু এনেছিন কিনা কিংবা কার্টুনের সাইজ ও শেইফ ঠিক রেখে ভেতরে হেরোইন বা অন্যান্য ঘোষণা বহির্ভূত পণ্য ও দেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরুপ কোনো পণ্য আনছে কিনা তা কীভাবে নিরুপণ করবে। নাকি নিশ্চিত না হয়েই অর্থমন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত মোতাবেক আমরা পণ্য ছেড়ে দেবে। আমাদের কাছে মনে হচ্ছে অর্থমন্ত্রীর এ সিদ্ধান্ত বাস্তায়ন হলে দেশে ভয়াবহভাবে আমদানি নিয়ন্ত্রিত পণ্যের স্মাগলিং বেড়ে যাবে। কারণ শুধুমাত্র স্ক্যানিংয়ের ইমেজ দেখে এমন কোনো সিদ্ধান্তে আসা যাবে না। এই কন্টেইনার ঝুঁকিমুক্ত বা এই কন্টেইনারে ঘোষণা বহির্ভূত কোনো পণ্য নেই এ কথা বলা যাবে না।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের সাবেক এক কর্মকর্তা নাম প্রাশ না করার শর্তে পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, যে পর্যন্ত আমরা একটা কন্টেইনারে এক আইটেম পণ্য আনা নিশ্চিত করতে না পারি সে পর্যন্ত স্ক্যানিং সিস্টেমটা কোনো কাজে আসবে না। একক আইটেম একটা কন্টেইনারে আনলে তবেই এটা  স্ক্যানিংয়ের পর কোনো ধরনের সন্দেহ না হলে এক্সামিনিশন ছাড়াই পণ্য ছাড়া যেতে পারে। কিন্তু একাধিক পণ্যের ক্ষেত্রে এটা কোনোভাবেই করা উচিত হবে না। অর্থমন্ত্রণালয় একাধিক আইটেমের ক্ষেত্রেও স্ক্যানিংয়ের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা এই মুহূর্তে খুবই ঝঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত হবে।

তিনি বলেন, বিভিন্ন পণ্য যখন স্ক্যানিংয়ে থাকে সেখানে এনবিআরের এআরও পদপর্যাদার একজন লোক থাকেন। সে মূলত দেখে আমদানিকারক পণ্যের যে ঘোষণা দেন তার প্যাকিংয়ের সাইজ এবাং শেইফ এক আছে কিনা , সাইজ ও শেইফের বাইরে ভিন্ন কোনো কিছু কন্টেইনারে আছে কিনা। কিন্ত একাধিক পণ্য যখন কন্টেইনারে থাকবে তখনতো সাইজ এবং শেইফ অটোমেটিক ভিন্ন হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে আমদানিকারকরা চাইলেই এক পণ্যের ঘোষণা দিয়ে অন্য পণ্য আনতে পারবেন। এমনকি নিষিদ্ধ পণ্য ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি এমন পণ্য  আমদানি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মূলকথা শুধুমাত্র স্ক্যানিংয়ের ওপর নির্ভর করে আমদানি–রফতানি পণ্য ছাড় করা হলে দেশের স্মাগলাররাই (চোরা কারবারি) এর সুবিধা নেবেন বলে জানান তিনি।

এফএ/এইচআর

 

আমদানি-রপ্তানি: আরও পড়ুন

আরও