চাকরি চাই না, চাকরি দিতে চাই

ঢাকা, রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯ | ৪ কার্তিক ১৪২৬

চাকরি চাই না, চাকরি দিতে চাই

পরিবর্তন প্রতিবেদক ২:৩১ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৬, ২০১৯

চাকরি চাই না, চাকরি দিতে চাই

সব জেলায় উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ দিতে কারিগরি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাত শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান।

তিনি বলেন, আমার এই নতুন উদ্যোক্তাদের একটিই স্লোগান- চাকরি চাই না, চাকরি দিতে চাই’।

মঙ্গলবার ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্স করপোরেশন (আইএসসি) এবং ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরফ) যৌথ আয়োজনে ‘বাংলাদেশি রফতানি পণ্যের বহুমুখীকরণ’ শীর্ষক ওয়ার্কশপে সালমান এফ রহমান একথা জানান।

রাজধানীর পল্টন টাওয়ারে ইআরএফ’র নিজস্ব কার্যালয়ে এই ওয়ার্কশপ হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ইআরএফ’র সভাপতি সাইফ ইসলাম দিলাল।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল ইসলামের সঞ্চালনায় এতে উপস্থিত ছিলেন- বিশ্ব ব্যাংক গ্রুপের সিনিয়র ইকোনমিস্ট মাশরুর রিয়াজ ও বেসরকারি খাত বিশেষজ্ঞ হোসনা ফেরদৌস।

সালমান এফ রহমান বলেন, বাংলাদেশকে সহজে ব্যবসা করার সূচকে উন্নতি করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। দেশে উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে উপজেলা পর্যায়ে কারিগরি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হচ্ছে।

তিনি বলেন, রফতানি পণ্যের বহুমুখী করতে হবে। তবে সেটা পোশাককে বাদ দিয়ে নয়। পোশাকে আমরা বিশ্বে দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছি। এখাতে আরও উন্নতির সুযোগ আছে। পাশাপাশি অন্য খাতের রফতানি বাড়াতে উদ্যোগ নিতে হবে।

আওয়ামী লীগের এই এমপি বলেন, পোশাকের মতো সব রফতানি খাত সমান সুযোগ পাবে। অতীতে আমরা সেই সুযোগ দিতাম না। এবার সে সুবিধা পাবে। এ বিষয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

তিনি বলেন, আমাদের গার্মেন্টস পণ্যের বহুমুখীকরণ হয়েছে। পাশাপাশি গার্মেন্টস পণ্যের বাজারেরও বহুমুখীকরণ হয়েছে। আগে আমরা আমেরিকা ও ইউরোপীয় দেশগুলোতে রফতানি করতাম। এখন বিশ্বের অনেক দেশে গার্মেন্টস পণ্য রফতানি করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাত শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক এই উপদেষ্টা বলেন, শিল্পের এক খাত থেকে যখন আমরা অন্য খাতে যাচ্ছি, তখনই আমাদের অভিজ্ঞতার অভাব দেখা দেয়। এক্ষেত্রে আমাদের শ্রমিক সংকট না হলেও ব্যবস্থাপকের সংকট রয়েছে। সেই অভিজ্ঞতার অভাবে আমরা বাইরে থেকে ব্যবস্থাপক আনি। আশা করি, ভবিষ্যতে এ সংকট থাকবে না।

তিনি বলেন, আগামী অক্টোবরের শেষ নাগাদ বিশ্ব ব্যাংক যখন ইজ অব ডুইং বিজনেসের র‍্যাঙ্কিং ঘোষণা করবে, আশা করছি বাংলাদেশ ডাবল ডিজিটে থাকবে। যদি আমাদের আশা পূরণ হয়, তাহলে এটি বাংলাদেশের রফতানি পণ্য বহুমুখীকরণের ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে।

তিনি আরও বলেন, চলতি বছরের শেষ নাগাদ বাংলাদেশে ওয়ানস্টপ সার্ভিস চালু করা সম্ভব হবে। বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (বিডা), বাংলাদেশ ইকোনমিক জোন অথরিটি (বেজা), বেপজা ও হাইটেক পার্ক এসব জায়গায় যারা বিনিয়োগ করবে, তারা ওয়ানস্টপ সার্ভিসের সুবিধা পাবেন।

ইআরএফ সভাপতি দিলাল বলেন, বাংলাদেশ থেকে বর্তমানে ৭৪৪টি পণ্য রফতানি হচ্ছে। কিন্তু, রফতানি আয়ের ৮৪ শতাংশই আসে একটি মাত্র খাত পোশাক শিল্প থেকে।

তিনি বলেন, একটি পণ্যের ওপর এভাবে নির্ভরশীল হয়ে একটি দেশ এগিয়ে যেতে পারে না। তাই রফতানি পণ্য বহুমূখীকরণের উদ্যোগ নেয়া এখন সময়ের দাবি।

এফএ/আইএম

 

আমদানি-রপ্তানি: আরও পড়ুন

আরও