শীর্ষ করদাতা জর্দা ব্যবসায়ী কাউস মিয়া

ঢাকা, শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮ | ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

শীর্ষ করদাতা জর্দা ব্যবসায়ী কাউস মিয়া

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৬:২৫ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ০৪, ২০১৮

শীর্ষ করদাতা জর্দা ব্যবসায়ী কাউস মিয়া

চাঁদপুরের হাকিমপুরী জর্দা বিক্রেতা দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সরকারকে সবচেয়ে বেশি কর রাজস্ব দিয়ে আসছেন। একবার-দুই বার নয়, এ নিয়ে চার-চার বার দেশের নামি-দামি আর প্রভাবশালী ব্যবসায়ীদের পেছনে ফেলে চলতি বছরও সবচেয়ে বেশি কর দিয়ে শীর্ষ করদাতার সম্মাননা পাচ্ছেন কাউস মিয়া।

এর আগে গত ২০১৫, ২০১৬, ২০১৭ সালেও সবচেয়ে বেশি কর দিয়ে শীর্ষ করদাতা হয়েছিলেন হাকিমপুরী জর্দার মালিক কাউস মিয়া। ১৯৫০ সালে মাত্র আড়াই হাজার টাকা দিয়ে ব্যবসা শুরু করেন তিনি। বানানো শুরু করেন শান্তিপুরী জর্দা। পরে ১৯৯৬ সালে নাম পরিবর্তন করে রাখেন হাকিমপুরী জর্দা।

বর্তমানে বিভিন্ন ব্যবসা আর জায়গা-জমি মিলিয়ে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে তার। চাঁদপুরে ব্যবসা শুরু করলেও স্থান পরিবর্তন করে বর্তমানে ঢাকা থেকেই ব্যবসা পরিচালনা করছেন তিনি।

দেশের সেরা এ করদাতার বয়স এখন প্রায় ৮৭ বছর। কর অঞ্চল-২ ঢাকায় আয়কর রিটার্ন দাখিল করেন তিনি। এ নিয়ে টানা ৪বারসহ মোট এগারবার তিনি সেরা করদাতার সম্মাননা পাবেন।

চলতি বছর এনবিআর করদাতাদের উৎসাহ ও স্বীকৃতি প্রদানের অংশ হিসেবে ৭৬ ব্যক্তি, ৫৫টি কোম্পানি ও অন্যান্য ১০ মিলে ১৪১ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে দীর্ঘ সময় আয়কর প্রদানকারী হিসাবে ট্যাক্স কার্ড প্রদান করবে।

এরমধ্যে সিনিয়র সিটিজেন ক্যাটাগরিতে ট্যাক্সকার্ড পাচ্ছেন গোলাম দস্তগীর গাজী, তপন চৌধুরী, ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার বদরুল হাসান, স্যামুয়েল এস চৌধুরী ও অনিতা চৌধুরী।

গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ক্যাটাগরিতে লেফট্যানেন্ট জেনারেল আবু সালেহ মো. নাসিম (অব.), মো. নাসির উদ্দিন মৃধা, এস এম আবদুল ওয়াহাব, মো. ইদ্রিস আলী মিয়া এবং মো. আতাউর রউফ।

প্রতিবন্ধী ক্যাটাগরিতে চট্টগ্রামের সুকর্ণ ঘোষ, সিলেটের মো. মামুনুর রশিদ ও রাজশাহীর ড. কাজী আখতার হোসেন।

নারী ক্যাটাগরিতে ঢাকার রুবাইয়াত ফারজানা হোসেন, রাজশাহী কর অঞ্চলের রত্না পাত্র, ঢাকার পারভীন হাসান, রংপুরের নিশাত ফারজানা চৌধুরী ও ঢাকার মাহমুদা আলী শিকদার।

তরুণ (৪০ বছরের নীচে) ক্যাটাগরিতে এলটিইউর করদাতা নাফিস সিকদার, ঢাকার গাজী গোলাম মতুর্জা, মো. হাসান, জুলফিকার হোসেন মাসুদ রানা এবং চট্টগ্রামের মো. আমজাদ খান।

ব্যবসায়ী ক্যাটাগরিতে এ শ্রেণিতে রয়েছেন ঢাকার মো. কাউছ মিয়া, আব্দুল কাদির মোল্লা, কামরুল আশরাফ খান, এলটিইউর সৈয়দ আবুল হোসেন এবং মো. নুরুজ্জামান খান।

বেতনভোগী ক্যাটাগরিতে লায়লা হোসেন, মোহাম্মদ ইউসুফ, হোসনে আরা হোসেন, খাজা তাজমহল এবং এম এ হায়দার হোসেন।

ডাক্তার ক্যাটাগরিতে ঢাকার এ কে এম ফজলুল হক, প্রাণ গোপাল দত্ত, জাহাঙ্গীর কবির, এন এ এম মোমেনুজ্জামান ও মো. নুরুল ইসলাম।

সাংবাদিক ক্যাটাগরিতে ট্যাক্স কার্ড পাবেন, প্রথম আলো সম্পাদক ও প্রকাশক মতিউর রহমান, ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টার এর সম্পাদক মাহ্ফুজ আনাম, চ্যানেল আইয়ের পরিচালক (বার্তা) শাইখ সিরাজ, চট্টগ্রামের দৈনিক আজাদীর সম্পাদক মোহাম্মদ আবদুল মালেক এবং বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নঈম নিজাম।

আইনজীবী ক্যাটাগরিতে ঢাকার মাহবুবে আলম, শেখ ফজলে নূর তাপস, আহসানুল করিম, কাজী মুহাম্মদ তানজীবুল আলম ও নিহাদ কবির।

খেলোয়াড় ক্যাটাগরিতে মাশরাফি বিন মুর্তজা, তামিম
ইকবাল ও সাকিব আল হাসান।

অভিনেতা/অভিনেত্রী ক্যাটাগরিতে মাহফুজ আহমেদ, এম এ জলিল অনন্ত এবং এস এ আবুল হায়াত।

শিল্পী ক্যাটাগরিতে রুনা লায়লা, তাহসান রহমান খান ও এস ডি রুবেল।

স্থপতি ক্যাটাগরিতে ফয়েজ উল্লাহ, হাসান সামস উদ্দীন ও ইকবাল হাবিব।

প্রকৌশলী ক্যাটাগরিতে মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, মো. হাফিজুর রহমান ও মোহাম্মদ হামিদুল হক।

হিসাবরক্ষক ক্যাটাগরিতে মো. মোক্তার হোসেন, এম বি এম লুৎফুল হাদী ও বিমলেন্দু চক্রবর্ত্তী।

নতুন করদাতা ক্যাটাগরিতে মিয়া মনিকা রফিকুলোভনা, তাফিজুল ইসলাম পিয়াল, সাইফুল ইসলাম, রানা মালিক, মোসাম্মাৎ সেলিনা আক্তার, রাসেল রায় ও মোছা. ছিয়াতুন নেছা।

অন্যান্য: এলটিইউর করদাতা এ শ্রেণিতে পাচ্ছেন সদর উদ্দিন খান, আবু মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন খান ও নজরুল ইসলাম মজুমদার।

ব্যাংকিং ক্যাটাগরিতে ইসলামী ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক, এইচএসবিসি, সাউথইস্ট ব্যাংক ও পূবালী ব্যাংক।
আর্থিক প্রতিষ্ঠান ক্যাটাগরিতে আইডিএলসি ফাইন্যান্স, ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফাইন্যান্স ফান্ড এবং উত্তরা ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট।

খাদ্য ও আনুষঙ্গিক ক্যাটাগরিতে নেসলে বাংলাদেশ, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ ও ট্রান্সকম বেভারেজেস।

প্রকৌশল ক্যাটাগরিতে বিএসআরএম স্টিলস, পিএইচপি কোল্ড রোলিং মিলস এবং পিএইচপি নফ কন্টিনিউয়াস গ্যালভানাইজিং মিলস কার্ড পাচ্ছে।

তৈরি পোশাক ক্যাটাগরিতে রিফাত গার্মেন্টস, জিএমএস কম্পোজিট, দ্যাটস ইট স্পোর্টস ওয়্যার, ফোর এইচ ফ্যাশন, কেডিএস গার্মেন্টস ও অ্যাপেক্স লেনজারি।

এ ছাড়া টেলিযোগাযোগে গ্রামীণফোন, জ্বালানিতে তিতাস গ্যাস, সিলেট গ্যাস ও শেভরন বাংলাদেশ, পাটশিল্পে জনতা জুট, সুপার জুট ও আইয়ান জুট, আবাসনে স্পেসজিরো, বে ডেভেলপমেন্টস ও স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার্স, চামড়াশিল্পে বাটা সু, অ্যাপেক্স ফুটওয়্যার ওলালমাই ফুটওয়্যার, অন্যান্য শ্রেণিতে ব্রিটিশ–আমেরিকান টোব্যাকো, মেটলাইফ, লাফার্জহোলসিম ও নিটল মোটরস প্রভৃতি প্রতিষ্ঠানকে ট্যাক্স কার্ডের জন্য মনোনীত করা হয়েছে।

এফএ/এএসটি