পায়রা বন্দর দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে বাণিজ্য বাড়াবে: ড. আতিউর রহমান

ঢাকা, শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮ | ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

পায়রা বন্দর দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে বাণিজ্য বাড়াবে: ড. আতিউর রহমান

পরিবর্তন প্রতিবেদক ১:১০ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৮

পায়রা বন্দর দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে বাণিজ্য বাড়াবে: ড. আতিউর রহমান

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেছেন, দেশের উন্নয়ন হবে পায়রা বন্দর কেন্দ্রিক। এই বন্দর ঘিরে দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে শিল্পায়ন বাড়াতে এখন পদক্ষেপ নিতে হবে। দেশের উন্নয়নে পদ্মা সেতু হচ্ছে। এ সেতু হয়ে গেলে পায়রা বন্দর হবে আমদানি রফতানি বাণিজ্যের বড় কেন্দ্র। পদ্মা সেতু ও পায়রা বন্দর দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে আগামী দিনে বড় ভূমিকা রাখবে।

শুক্রবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘পায়রা বন্দর ও সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটায় অর্থনৈতিক সম্ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ সব কথা বলেন।

পটুয়াখালী জার্নালিস্ট ফোরাম, ঢাকা কর্তৃক আয়োজিত সেমিনারে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান ছাড়াও আরো উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ ও আব্দুল মাতলুব আহমাদ এবং আজমত গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান ড. মো. আতাহার উদ্দিন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর বলেন, প্রতিবেশি দেশ ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে রফতানি বাড়াতে সুযোগ তৈরি করবে পায়রা বন্দর। চট্টগ্রাম ও মংলার চেয়েও এগিয়ে থাকবে এ বন্দর। আন্তর্জাতিক এ বন্দর ঘিরে বিদেশি বিনিয়োগ বহুগুন বাড়বে বলে মনে করেন তিনি। 

কিনি বলেন, এ ছাড়াও বন্দর কেন্দ্রিক অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন হবে। পাশাপাশি কুয়াকাটা পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন হলে বিদেশি পর্যটকদের ভিড় বাড়বে। দক্ষিণ অঞ্চলে বিনিয়োগ বাড়াতে ওই অঞ্চলের জন্য নগদ সহায়তা ঘোষণা দেওয়ার আহবান জানান সাবেক এ গভর্নর।

কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, গত সাত দিন ধরে চট্টগ্রাম বন্দরে দুটি জাহাজের পণ্য খালাস করতে পারছেন না। পদ্মা সেতু চালু হলে এবং পটুয়াখালীর পয়রা বন্দর উন্নয়ন হলে এই সমস্যা থাকবে না। তখন দ্রুত পণ্য খালাস করে শিল্পের কাঁচামালের চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে। পাশাপাশি রফতানি পণ্য দ্রুত পাঠানো যাবে। এতে বাণিজ্য বহুগুণ বাড়বে।

তিনি বলেন,  বন্দর ছাড়া বাণিজ্য হয় না। চট্টগ্রাম বন্দরের গভীরতা সাড়ে নয় মিটার। আর পায়রা বন্দরের গভীরতা ২০ থেকে ২১ মিটার। এই বন্দর উন্নয়ন হলে পটুয়াখালী অঞ্চলে শিল্পের বিনিয়োগ বহুগুন বাড়বে।

আব্দুল মাতলুব আহমাদ বলেন, এক সময় দেশের উন্নয়ন হয়েছে চট্টগাম বন্দর দিয়ে। এর পরে মংলা বন্দর হলেও তেমন ভাল করতে পারেনি। এখন পটুয়াখালী বন্দর হচ্ছে। পদ্মা সেতু হলে এই বন্দর হবে বাণিজ্যের বড় হাব।

তিনি বলেন, পায়রা বন্দর দিয়ে সহজে বাণিজ্য করার সুযোগ তৈরি হবে। দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন হবে এই বন্দরকে ঘিরে। বন্দর কেন্দ্রিক অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে উঠছে। গ্যাস ও বিদ্যুতের ব্যবস্থাও রয়েছে। এ কারণে পটুয়াখালী অঞ্চলে উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের নজর রয়েছে। বিনিয়োগের এখন সবচেয়ে ভাল গন্তব্য হবে পটুয়াখালী। বিদেশি উদ্যোক্তাদের ওই অঞ্চলে বিনিয়োগের জন্য এখন নিয়ে যাবেন তারা।

সেমিনারে মূল বক্তব্য দেন পটুয়াখালী চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, পটুয়াখালীতে শিল্প করার অনেক সুযোগ ও সম্ভাবনা রয়েছে। বিভিন্ন শিল্পের উদ্যোক্তারা সেখানে জমি কিনছেন। নতুন নতুন অনেক শিল্পে বিনিয়োগের জন্য ব্যবসায়ীরা ঘুরে দেখছেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন, ডিআইজে সভাপতি আবু জাফর সুর্য ও সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী ও পটুয়াখালী চেম্বারের সহসভাপতি খন্দকার ফরহাদ জামান বাদল প্রমুখ।

পিজেএফ সভাপতি হাসান আরেফিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন পটুয়াখালী উৎসব উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক রুহুল আমিন রাসেল।

এফএ/এফএম