‘তৈরি পোশাকের মতো জুতা রপ্তানিতে প্রস্তুত বাংলাদেশ’

ঢাকা, বুধবার, ১৮ জুলাই ২০১৮ | ২ শ্রাবণ ১৪২৫

‘তৈরি পোশাকের মতো জুতা রপ্তানিতে প্রস্তুত বাংলাদেশ’

সচিবালয় প্রতিবেদক ৫:২৬ অপরাহ্ণ, জুন ২৬, ২০১৮

print
‘তৈরি পোশাকের মতো জুতা রপ্তানিতে প্রস্তুত বাংলাদেশ’

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, চামড়া বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী রপ্তানি পণ্য। বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের তৈরি ফুটওয়্যারের (জুতা) বিপুল চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশের তৈরি চামড়াজাত পণ্যের বেশ সুনাম রয়েছে। প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ উন্নত মানের চামড়া উৎপাদিত হয় বাংলাদেশে। বাংলাদেশ বিপুল পরিমাণ চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য বিশ্বের অনেক উন্নত দেশে সুনামের সাথে রপ্তানি করে আসছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী মঙ্গলবার ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থা (ওইসিডি)র উদ্যোগে আয়োজিত বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও ফুটওয়্যারের উপর একটি বিশেষ ওয়ার্কশপে বক্তব্য প্রদানের সময় এসব কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ফুটওয়্যারের উন্নত মানের কাঁচামাল বাংলাদেশের নিজস্ব উৎপাদিত, আমদানি করতে হয় না। বাংলাদেশে বিপুল সংখ্যক দক্ষ জনশক্তি রয়েছে। ফলে বাংলাদেশ তৈরি পোশাকের মতো কমমূল্যে উন্নত মানের ফুটওয়্যার তৈরি ও রপ্তানি করতে সক্ষম। ইতোমধ্যে বাংলাদেশে বিশ্বমানের ফুটওয়্যার তৈরি রপ্তানি শুরু করেছে। বাংলাদেশের সাড়ে ১৬ কোটি মানুষের চাহিদা পূরণ করে বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করছে। সংগত কারণেই বাংলাদেশে একের পর এক আধুনিক ও বিশ্বমানের ফুটওয়্যার কারখানা গড়ে উঠছে। এ সেক্টরে বিদেশি বিনিয়োগও আসছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, মার্কিন যুক্তরাস্ট্র ও কানাডার মতো উন্নত দেশগুলো বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাকের মতো ফুটওয়্যার আমদানি করলে লাভবান হবে।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উন্নয়ন শীল দেশে পরিণত হতে যাচ্ছে। ২০২৭ সাল থেকে চূড়ান্তভাবে উন্নয়নশীল দেশে প্রবেশ করবে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের অর্থনীতির গতির চাকা অব্যাহত রাখতে সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন। বাংলাদেশ রপ্তানি পণ্য সংখ্যা বৃদ্ধি এবং নতুন নতুন রপ্তানি বাজার সৃষ্টির জন্য কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশ আশা করছে উন্নত বিশ্ব বাংলাদেশের পাশে থাকবে এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বরেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের জন্য বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় সবকিছু করছে। শ্রম আইন সংশোধন করে শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কারখানাগুলো সংস্কার করা হয়েছে, ফায়ার ও ইলেক্ট্রিকাল সেফটি নিশ্চিত করা হয়েছে। এখন শ্রমিকরা নিরাপদ ও কর্মবান্ধব পরিবেশে বাংলাদেশের শ্রমিকরা কাজ করছে। বাংলাদেশে একের পর এক গ্রীন ফ্যাক্টরি গড়ে উঠছে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক কারখানাগুলো এখন সম্পূর্ণ কমপ্লায়েন্স। তৈরি পোশাক কারখানাগুলো অত্যাধুনিক করে গড়ে তুলতে শিল্প মালিকদের নতুন করে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করতে হয়েছে। ক্রেতাগোষ্টির উচিৎ পণ্যের মূল্যের দিকে দৃষ্টি দেয়া। যাতে কারখানার মালিকগণ তৈরি পোশাকের উপযুক্ত মূল্য পান। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কানাডা, মার্কিন যুক্তরাস্ট্র এবং আইএলও’র সাথে সাসটেইনিবিলিটি কম্প্যাক্ট করেছে। তিনটি পিলারের উপর এটি প্রতিষ্ঠিত। বাংলাদেশ শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করেছে, বিল্ডিং-ফায়ার সেফটি নিশ্চিত করার পাশাপপাশি শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা হয়েছে কিন্তু তৃতীয় পিলার  তৈরি পোশাকের ন্যায্য মূল্যের বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে না। এখন বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সুপারিশ গ্রহণ এবং কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন।

বাংলাদেশে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. মুজিবুল হক চুন্নু এ ওয়ার্ক শপে বক্তব্য দেন।

বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের সদস্য বাণিজ্য সচিব শুভাশীষ বসু, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব আফরোজা খান, এফবিসিসিআই’র প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ শফিউল ইসলাম, বিজিএমই’র প্রেসিডেন্ট মো. সিদ্দিকুর রহমান, বাংলাদেশ এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোনের নির্বাহী পরিচালক মেজর জেনারেল মো. হাবিবুর রহমান খান এবং ব্রাসেলসে নিযুক্ত বাংরাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ সাহাদাত হোসেন ওয়ার্কশপে উপস্থিত ছিলেন।

এসএস/এসবি

 
.



আলোচিত সংবাদ