বাংলাদেশ থেকে কম দামে বিশ্বমানের পণ্য আমদানি করুন: বাণিজ্যমন্ত্রী

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ জুলাই ২০১৮ | ৪ শ্রাবণ ১৪২৫

বাংলাদেশ থেকে কম দামে বিশ্বমানের পণ্য আমদানি করুন: বাণিজ্যমন্ত্রী

সচিবালয় প্রতিবেদক ৩:৪৬ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৬, ২০১৮

print
বাংলাদেশ থেকে কম দামে বিশ্বমানের পণ্য আমদানি করুন: বাণিজ্যমন্ত্রী

কম্বোডিয়ায় সফররত বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, বাংলাদেশ বিশ্ববাজারে উন্নত মানের পণ্য তুলনামূলক কমদামে রফতানি করছে। কম্বোডিয়া বাংলাদেশ থেকে ওষুধ, তৈরি পোশাক, প্লাস্টিক পণ্য, চামড়া ও পাটজাত পণ্য এবং তামাকসহ প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি করলে লাভবান হবে। বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের পণ্যের চাহিদা বেড়েই চলছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব অর্থনীতি ও ফাইন্যান্সিয়াল সিসটেমে এশিয়ার দেশগুলোর শক্তিশালী অবস্থান থাকা প্রয়োজন। সদস্য দেশগুলোর অর্থনৈতিক অসমতা দূর করতে দৃশ্যমান কিছু পরিবর্তন প্রয়োজন। এশিয়ার দেশগুলোর অর্থনীতি শক্তিশালী করতে নীতিগত ও রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি থাকা একান্ত দরকার। সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর অবদান রাখার সুযোগ থাকা প্রয়োজন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বুধবার কম্বোডিয়ার ফোম প্যান হোটেলে অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড, ফাইন্যান্স এ ডেভেলপমেন্ট অব গ্লোবাল ভেলু চেইন শীর্ষক তিন দিনব্যাপী কর্মশালার উদ্বোধন করে এসব কথা বলেন।

কম্বোডিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী প্যান সোরাসাক কে সাথে নিয়ে তিনি যৌথভাবে এ কর্মশালার উদ্বোধন করেন।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, স্বাধীনতার পর ১৯৭২-৭৩ সালে ২৫টি পণ্য ৬৮টি দেশে রফতানি করে বাংলাদেশ আয় করতো ৩৪৮.৪২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। আজ বিশ্বের প্রায় ১৯৯টি দেশে ৭৪৪টি পণ্য রফতানি করে আয় করছে প্রায় ৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০২১ সালে বাংলাদেশ হবে ডিজিটাল মধ্য আয়ের দেশ। এ সময় রফতানির পরিমাণ দাঁড়াবে ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে তৈরি পোশাক রফতানি করে আয় হবে ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ব্যাংকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি, রেমিটেন্স আসছে প্রায় ১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। দেশের অর্থনীতি দ্রত এগিয়ে যাচ্ছে। বড় বড় প্রকল্প বাংলাদেশ সরকার নিজস্ব অর্থে বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তীর্ণ হবার প্রথম ধাপ সফলভাবে অতিক্রম করেছে। উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেতে যে তিনটি বিষয়ে সফলতা অর্জন করতে হয়, সে তিনটিতেই এক সঙ্গে বাংলাদেশ সফল হয়েছে। উন্নয়নশীল দেশে উত্তীর্ণ হতে এটি বিরল দৃষ্টান্ত।

কম্বোডিয়ার ন্যাশনাল ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আয়োক মালি কর্মশালায় বৈদেশিক বাণিজ্য এবং এসএমই বিষয়ে কী-নোট উপস্থাপন করেন। কর্মশালায় বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া, মিয়ানমার, থাইল্যান্ডের ১৪০ জন ব্যাংকার্স ও ব্যবসায়ী অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে বাংলাদেশের ৫২ জন ব্যাংকার্স রয়েছেন। কর্মশালার উদ্বেধনী অনুষ্ঠানের পর উভয় দেশের বাণিজ্যমন্ত্রী উপস্থিত ব্যবসায়ীদের নিয়ে ঘণ্টাব্যাপী বাণিজ্য বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেন। বাণিজ্যমন্ত্রী এ সময় বাংলাদেশের রফতানি বাণিজ্য তুলে ধরেন। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতার বিষয় তুলে ধরেন।

কর্মশালায় বক্তব্য রাখেন কম্বোডিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী প্যান সোরাসাক, স্ক্যাপের মাইক্রোপলিসি অ্যান্ড ফাইন্যান্সিং ফর ডেভেলপমেন্ট ডিভিশনের আলবাতো ইসগুট, সিইও কা কি ম্যান, এবং ভিনসেন্ট ও’ব্রেইন এবং কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ডে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মিসেস সাঈদা মুনা তাসনিম।

এসএস/এএল

 
.



আলোচিত সংবাদ