এটাই পাকিস্তান ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে উজ্জীবিত সাফল্য!

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন ২০১৯ | ১২ আষাঢ় ১৪২৬

বিষয় :

পাকিস্তান

সরফরাজ

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি

আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ২০১৭

এটাই পাকিস্তান ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে উজ্জীবিত সাফল্য!

পরিবর্তন ডেস্ক ২:৪৫ অপরাহ্ণ, জুন ২১, ২০১৭

এটাই পাকিস্তান ক্রিকেট ইতিহাসের  সবচেয়ে উজ্জীবিত সাফল্য!

ইমরান খানের হাত ধরে ১৯৯২ ওয়ানডে বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছে পাকিস্তান। ২০০৯ সালে ইউনিস খানের পাকিস্তান জিতেছে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপাও। কিন্তু দলের পারফরম্যান্স আর জয়ের ধরন বিবেচনায় সরফরাজ আহমেদ এগিয়ে রাখলেন এবারের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শিরোপাকেই। পাকিস্তানের অধিনায়ক বললেন, এবারের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়টাই পাকিস্তানের ক্রিকেট ইতিহাসের সেরা সাফল্য! সবচেয়ে উজ্জীবিত জয়!

এমনিতে মান ও মর্যাদার দিক থেকে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির উপরেই অবস্থান বিশ্বকাপের! সেটা জেনেও সরফরাজ এগিয়ে রাখলেন নিজের নেতৃত্বে জেতা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিকেই। কারণটাও স্পষ্টই।  ১৯৯২ বিশ্বকাপে ইমরানের খানের অধীনে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল পাকিস্তানের এক ঝাঁক তারকা ক্রিকেটার। অধিনায়ক ইমরান খানসহ ওয়াসিম আকরাম, মুশতাক আহমেদ, আকিব জাভেদ, আমির সোহেল, রমিজ রাজা, সেলিম মালিক, জাভেদ মিয়াদাদ, ইজাজ আহমেদ, ইনজামাম-উল-হক, মঈন খান-বিশ্ব ক্রিকেঙ্গানে এদের প্রত্যেকেই ছিলেন একেকজন তাঁরা।

২০০৯ সালে ইউনিস খানের পাকিস্তান দলেও তারকা ক্রিকেটারের অভাব ছিল না। বিপরীতে সরফরাজের এই দলে বিশ্ব তারকা ছিলেন না একজনও! বরং অনভিজ্ঞতার চাদর গায়ে সরফরাজের দলই ছিল টুর্নামেন্টের সবচেয়ে আন্ডারডগ। শুধু অনভিজ্ঞই তো নয়। নিজেদের দেশে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে নির্বাসনের পর থেকে পাকিস্তান পেছনের দিকেই হাঁটছে। বিশ্ব পরাশক্তি দলগুলোর বিপক্ষে মাঠে নামলেই খাবি খাচ্ছিল।

এবারের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেও এসেছিল র‌্যাংকিংয়ে বাকি সব দলের থেকে পেছনে থেকে। ৮ দলের টুর্নামেন্টে তারা ছিল ৮ নম্বর দল! ভাঙাগড়ার ভেতর দিয়ে হাঁটা সরফরাজের দলকে নিয়ে খোদ পাকিস্তানিদের প্রত্যাশাও ছিল কম। কিন্তু সেই দলটিই কিনা সবাইকে বিস্মিত করে জিতে নিল শিরোপা। সেটাও বেশ দাপটের সঙ্গে। সেমিফাইনালে টুর্নামেন্টের টপ ফেভারিট ইংল্যান্ড পাত্তাই পায়নি। ফাইনালে আরেক ফেভারিট ভারত তো স্রেফ খড়কুটোর মতো উড়ে গেছে!

১৯৯২ বিশ্বকাপে ইমরানের দল শিরোপা জিতলেও গ্রুপপর্বের ৮ ম্যাচের মধ্যে ৩টিতেই হেরে ছিল। এক ম্যাচে নিশ্চিত হার বাঁচিয়ে দিয়েছিল বৃষ্টিও। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেই ম্যাচে মাত্র ৭৪ রানে অলআউট হয়ে যায় পাকিস্তান! জবাবে ইংল্যান্ড ৮ ওভারেই ১ উইকেট হারিয়ে তুলে ফেলেছিল ২৪ রান। ঠিকই তখনই বৃষ্টি এসে ভাসিয়ে দেয় ম্যাচ। ইমরান খানের পাকিস্তান পায় মহামূল্যবান একটি পয়েন্ট। ওই পয়েন্টের সুবাদেই ভাগ্যজোরে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া ও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে টপকে সেমিফাইনালে উঠে যায় পাকিস্তোন! ২০০৯ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপেও ইউনিস খানের দল হেরেছিল দুই ম্যাচে।

অন্যদিকে সরফরাজের অনভিজ্ঞ এই দল চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শিরোপা জয়ের পথে হেরেছে মাত্র এক ম্যাচে। ভারতের বিপক্ষে সেই হারের পর অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়ায় পাকিস্তান। পরের ৩ ম্যাচের তিনটিতেই জিতেছে দাপটের সঙ্গে। সব মিলে দলের পারফরম্যান্সে অধিনায়ক সরফরাজ ভীষণ খুশি। বলেছেন, দলের কাছে এর চেয়ে বেশি তার আর চাওয়ার ছিল না। সরফরাজের দাবি দল প্রত্যাশার চেয়েও ভালো করেছে, ‘এ রকম গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্টের শিরোপা জেতা প্রত্যেক ক্রিকেটারেরই আজন্ম স্বপ্ন। অধিনায়ক হিসেবে দলের কাছে এর চেয়ে বেশি কিছু চাইতে পারতাম না আমি। পাকিস্তানের জন্য এই গৌরব ছিনিয়ে আনায় দলের প্রত্যেক সদস্যেরই অভিনন্দন প্রাপ্য।’

সরফরাজের দাবি এই সাফল্য পাকিস্তানের ক্রিকেট মানচিত্রকে নতুন করে উঁচিয়ে ধরেছে। তিনি মনে করছেন, এই জয় দেশের ক্রিকেটকে এগিয়ে যাওয়ার পথে জোগাবে অনুপ্রেরণা। পাকিস্তানের তরুণ ক্রিকেটারদের করবে উজ্জীবিত, ‘এই জয়ের অর্থ পাকিস্তান ক্রিকেটের জন্য অনেক কিছু। কারণ, গত কয়েক বছর ধরেই আমরা কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলাম।’

কেআর

 

আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি - ২০১৭: আরও পড়ুন

আরও