পাকিস্তানের সাফল্যের পেছনে কিছু সাহসী সিদ্ধান্ত!

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন ২০১৯ | ১২ আষাঢ় ১৪২৬

বিষয় :

পাকিস্তান

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি

শিরোপা

আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ২০১৭

পাকিস্তানের সাফল্যের পেছনে কিছু সাহসী সিদ্ধান্ত!

পরিবর্তন ডেস্ক ৭:০৬ অপরাহ্ণ, জুন ২০, ২০১৭

পাকিস্তানের সাফল্যের পেছনে কিছু সাহসী সিদ্ধান্ত!

দল সাফল্য পেলে, তখন সবকিছুকেই মনে হয় সুন্দর! সব সিদ্ধান্তকেই মনে হয় কার্যকরী! তবে শুধু সাফল্যের দৃষ্টিভঙ্গিতেই নয়, ক্রিকেটকীয় দৃষ্টিতেও স্পষ্ট, আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে প্রথম বারের মতো পাকিস্তানের শিরোপা সাফল্যের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে বেশ কিছু সাহসী সিদ্ধান্ত! ফিটনেস ঘাটতির কারণে উমর আকমলকে দেশে পাঠিয়ে দেওয়া, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির মতো গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্টে তিন তিনজন ক্রিকেটারের ওয়ানডে অভিষেক ঘটানো, আহমেদ শেহজাদের মতো অভিজ্ঞ একজনকে বাদ দিয়ে ফখর জামানের মতো এক নবাগতকে দিয়ে ইনিংস ওপেন করানো-এর প্রতিটা সিদ্ধান্তেই ছিল সাহসিতকার ছাপ। বিস্ময়করভাবে পাকিস্তান কোচ-অধিনায়কের এই সাহসী সিদ্ধান্তের সবগুলোই হয়েছে ফলপ্রসু!

সরফরাজ আহমেদের নেতৃত্বে অপেক্ষাকৃত তরুণ ও অনভিজ্ঞ দল নিয়েই ইংল্যান্ডে পাড়ি জমায় পাকিস্তান। অনভিজ্ঞ সেই দল থেকে ফিটনেস ইস্যুতে উমর আকমলের মতো অভিজ্ঞ একজনকে দেশে পাঠিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়াটা সত্যিই কঠিন ছিল। কিন্তু পাকিস্তানের দক্ষিণ আফ্রিকান কোচ মিকি আর্থার, প্রধান নির্বাচক ইনজামাম-উল-হক, অধিনায়ক সরফরাজ ফিটনেস প্রশ্নে কোনো ছাড় দেননি। উমর আকমলকে ইংল্যান্ড থেকে সোজা পাঠিয়ে দেন দেশে।

এরপর আহমেদ শেহজাদকেও বসিয়ে রাখাটা ছিল পাকিস্তান টিম ম্যানেজমেন্টের আরেকটি দূরদর্শী সিদ্ধান্ত। ভারতের বিপক্ষে গ্রুপপর্বের প্রথম ম্যাচে ব্যাট হাতে ব্যর্থ শেহজাদ। আউট হন মাত্র ১২ রান করে। ব্যস, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে পরের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচেই দল থেকে বাদ অভিজ্ঞ শেহজাদ! তার পরিবর্তে পাকিস্তান টিম ম্যানেজমেন্ট অভিষেক ঘটান ফখর জামানের। আর ওয়ানডে অভিষেকেই ক্রিকেট বোদ্ধাদের নজর কাড়েন ২৭ বছর বয়সী ফখর।

না, অভিষেক ম্যাচটা খুব বেশি বড় ইনিংস অবশ্য পাননি ফখর। করেছিলেন মাত্র ৩১ রান। তবে ২৩ বলের ছোট্ট সেই ইনিংসেই ৬টি চার মেরেছিলেন ফখর। যার প্রতিটি শিটেই ছিল পরিণত ব্যাটসম্যানের ছায়া! ম্যাচ চলাকালেই টুইটারে ফখর জামানের প্রশংসা করেন ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক মাইকেল ভন, নিউজিল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক ড্যানিয়েল ভেট্টোরিরা। ক্রিকেটবোদ্ধাদের সেই প্রশংসা যে মিথ্যে ছিল না, ফখর জামান তা ৪ ম্যাচের ক্যারিয়ারে ভালোভাবেই বুঝিয়ে দিয়েছেন।

পরের তিন ম্যাচের দুটিতেই করেছেন হাফসেঞ্চুরি। ওভালে ভারতের বিপক্ষে ফাইনালে তো করে ফেললেন সেঞ্চুরিই। ১০৬ বলে ১১৪ রানের ইনিংস খেলে পেয়েছেন ফাইনালের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারও। ফখর জামান আলোতে আহমেদ শেহজাদ টুর্নামেন্টের বাকি ম্যাচগুলোতে আর একাদশে ফিরতেই পারেননি। নিকট ভবিষ্যতে ফিরতে পারবেন কিনা বলা যাচ্ছে না!

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ‘অলিখিত কোয়ার্টার ফাইনাল’এ রূপ নেওয়া ম্যাচেও আরেকজনকে অভিষেক ঘটায় পাকিস্তান! এপ্রিলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে স্পিন ভেল্কি দেখানো শাদাব খানের পরিবর্তে মাঠে নামায় ফাহিম আশরাফ নামের নতুন একজনকে। তো অভিষেকেই আলো কাড়েন ফাহিম। ৩৭ রান দিয়ে তুলে নেন ২ উইকেট।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে আর বড় চমক উপহার দেয় সরফরাজের দল। চোটের কারণে কার্ডিফের ম্যাচে খেলতে পারেননি পেসার মোহাম্মদ আমির। তার জায়গায় পাকিস্তান মাঠে নামায় আরেক নবাগত পেসার রুম্মন রাইসকে। বাঁহাতির পরিবর্তে বাঁহাতি! এই ‍যুক্তিতে আইসিসি টুর্নামন্টের সেমিফাইনালের মতো ম্যাচে নতুন একজন বোলারকে অভিষেক ঘটানো সাহসী সিদ্ধান্তই শুধু নয়, বিস্ময়কর! শুধু অভিষেক ঘটানোই তো নয়, অধিনায়ক সরফরাজ রুম্মন রাইসের হাতেই তুলে দেন নতুন বল! ২৫ বছর বয়সী বাঁহাতি পেসার অভিষেকেই টিম ম্যানেজমেন্টের সেই আস্থার প্রতিদান দেন দারুণভাবে। ৪৪ রান দিয়ে ২ উইকেট তুলে নেওয়া রুম্মন রাইসই পাকিস্তানকে এনে দেন প্রথম ব্রেক থ্রু।

তো অভিষেক দারুণ বোলিং করা রুম্মনকে ওভালের ফাইনালে বসিয়ে রাখার সিদ্ধান্তেও ছিল সাহসিকতার পরিচয়! মোহাম্মদ আমির অনেক অভিজ্ঞ ঠিক আছে। কিন্তু তিনি খুব বেশি ফর্মে ছিলেন না। টুর্নামেন্টের প্রথম তিন ম্যাচে নেন মাত্র ২ উইকেট। তারপরও ভারতের কথা বিবেচনা করে রুম্মনকে বসিয়ে ফাইনালে আমিরকেই খেলায় পাকিস্তান। সেই বিবর্ণ আমিরই ফাইনালে নতুন বল হাতে আভির্ভূত হন বিধ্বংসীরূপে। ৩৩ রানের মধ্যেই গুঁড়িয়ে দেন ভারতের টপ অর্ডার। একে একে ফিরিয়ে দেন ভারতের ব্যাটিংয়ের তিন মহীরূহ রোহিত শর্মা (০), বিরাট কোহলি (৫) ও শিখর ধাওয়ানকে (২১)।

প্রতিটি সিদ্ধান্তই এমন ফলপ্রসু হলে সেই দল তো সাফল্যে আকাশ ছোঁবেই!

কেআর

 

 

আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি - ২০১৭: আরও পড়ুন

আরও