রোয়ানের জীবন তার চরিত্রের মতোই রঙিন

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯ | ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

রোয়ানের জীবন তার চরিত্রের মতোই রঙিন

পরিবর্তন ডেস্ক ১:১৬ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৬, ২০১৯

রোয়ানের জীবন তার চরিত্রের মতোই রঙিন

রোয়ান সেবাস্তিয়ান অ্যাটকিনসন। দুনিয়া তাকে মিস্টার বিন নামেই চেনে। অদ্ভুত এবং একাধারে অসাধারণ মুখের ভাবভঙ্গি তাকে ভুলতে দেয় না। দর্শকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন মিস্টার বিন। কিন্তু জানেন কি শুধুই কি কমেডিয়ান ছিলেন তিনি? তার আরও অনেক গুণ ছিল।

১৯৫৫ সালে ইংল্যান্ডে জন্ম অ্যাটকিনসনের। চার ভাইয়ের মধ্যে সবচেয়ে ছোট ছিলেন তিনি। পড়াশোনাতে খুব মেধাবী ছিলেন। নিউক্যাসল ইউনিভার্সিটি থেকে ইলেক্ট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং করেন। কিন্তু থেমে থাকেননি তিনি। এরপর ১৯৭৫ সালে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ। তার গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয় ১৯৭৮ সালে।

এহেন মেধাবী ছাত্রের কমেডিতে আসা নেহাতই গল্পের মতো। মন দিয়ে তার রিসার্চ পেপারের কাজ করছিলেন তিনি। কখনো ভাবেননি যে ইঞ্জিনিয়ার থেকে শেষমেশ কমেডিয়ান হয়ে উঠবেন।

অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির ছাত্রদের একটি কমেডি দল ছিল। একবার অ্যাটকিনসনকে তারা একটি শো-এর জন্য বেছে নিয়েছিল। অ্যাটকিনসনের কাজ ছিল সেই শো-এর জন্য স্ক্রিপ্ট লেখা আর কমেডি ছবি আঁকা। একটা লাইনও লেখেননি অ্যাটকিনসন। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের মুখটাকেই বিকৃত করে স্কেচ বানিয়েছিলেন। সেটাই পরে মিস্টার বিন হয়ে যায়।

এরকম আরো ঘটনা ঘটেছে তার জীবনে। না জেনেই যেমন নিজের বিকৃত মুখের ছবি এঁকেই তিনি মিস্টার বিন হয়ে গিয়েছিলেন, তেমন না জেনেই পরিস্থিতির শিকার হয়ে একবার রিয়েল লাইফ পাইলটের ভূমিকাও পালন করতে হয়েছিল তাকে।

সেটা ছিল ২০০১ সাল। ব্যক্তিগত বিমানে কেনিয়ায় ছুটি কাটাতে যাচ্ছিলেন তিনি। মাঝ আকাশেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন পাইলট। বাধ্য হয়ে অ্যাটকিনসনকেই পাইলটের আসনে বসতে হয়। যতক্ষণ না পাইলটের জ্ঞান ফেরে মাঝ আকাশে বিমান চালিয়েছিলেন তিনিই।

অ্যাটকিনসেনর ভারতীয় যোগও রয়েছে। তার প্রথম স্ত্রী সুনেত্রা শাস্ত্রীর বাবা ভারতীয়। মা ব্রিটিশ। সুনেত্রা ভীষণ সুন্দরী একজন মেকআপ আর্টিস্ট ছিলেন। ১৯৮৭ সালে বিবিসি-র একটি সেটে অ্যাটকিনসনের সঙ্গে তার পরিচয়।

সুনেত্রাকে দেখেই তার প্রেমে পড়েছিলেন অ্যাটকিনসন। সুনেত্রা ছিলেন তার সহঅভিনেতার মেকআপের দায়িত্বে। জানা যায়, সুনেত্রার সঙ্গে কথা বলার জন্য অ্যাটকিনসন তার সহ-অভিনেতাকে রাজি করিয়ে অন্য মেকআপ আর্টিস্ট-এর কাছে পাঠিয়েছিলেন আর নিজে সুনেত্রার তত্ত্বাবধানে।

দুজনে ডেট করতে শুরু করেন। তিন বছর পর বিয়ে। সুনেত্রা ও অ্যাটকিনসনের দুই সন্তান, এক ছেলে এক মেয়ে। সব ঠিকই চলছিল। কিন্তু বিয়ের ২০ বছর পর থেকে দু’জনের সম্পর্কে চিড় ধরতে থাকে।

সুনেত্রার বারবারই মনে হত, তার স্বামী তার কাছ থেকে কিছু লুকোচ্ছেন, তাকে ঠকাচ্ছেন। এই নিয়ে দু’জনের মধ্যে অশান্তি লেগেই থাকত। তখন ৩১ বছরের কমেডি অভিনেত্রী লুইস ফোর্ডের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকে অ্যাটকিনসনের। অ্যাটকিনসনের বয়স তখন ৬০ বছর।

তা প্রকাশ্যে আসার পর স্ত্রী সুনেত্রা বিয়ের ২৫ বছর পর ২০১৪ সালে ডিভোর্সের আবেদন করেন। ২০১৫ সালে তাদের বিচ্ছেদ হয়। অ্যাটকিনসনের মেয়ে লিলি বাবার সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রাখেননি। এমনকি নিজের পদবীও শাস্ত্রী রেখেছেন তিনি।

এর দু’বছর পর ৬২ বছর বয়সে ফের বাবা হন অ্যাটকিনসন। লুইস ফোর্ডের বয়স তখন ৩৩ বছর মাত্র।

ইসি/

 

হলিউড ও অন্যান্য: আরও পড়ুন

আরও