যেভাবে হলিউড ছবির শুটিং হয়

ঢাকা, ১৩ জুন, ২০১৯ | 2 0 1

যেভাবে হলিউড ছবির শুটিং হয়

পরিবর্তন ডেস্ক: ৩:৪১ অপরাহ্ণ, মে ২৯, ২০১৯

যেভাবে হলিউড ছবির শুটিং হয়

হলিউডের সিনেমা বা টিভি শোতে কল্পনাশক্তি দিয়ে সুন্দর সুন্দর ছবি ধারণ করা হয় না। বরং প্রযুক্তি ব্যবহার করে  অধিকাংশ সিনেমা তৈরি করা হয় শক্তিশালী কম্পিউটার ভিজ্যুয়াল ব্যবহার করে।

পর্দায় অনেক সময় অবিশ্বাস এবং হাস্যকর যেসব ঘটনা দেখানো হয় সবসময় তা সেই জায়গায় শুট করা হয় না। এজন্য পর্দার পেছনে যারা কাজ করেন তাদের প্রচুর পরিশ্রম করতে হয় শুট করার সময়। শুট করার পর এডিট করে তবে পর্দায় তুলে ধরা হয়।

হ্যারি পটার:

ব্রিটিশ লেখিকা জে. কে. রাউলিং রচিত কাল্পনিক উপন্যাসের সিরিজ হ্যারি পটার। এই সিরিজগুলোতে জাদুকরদের পৃথিবীর কথা বলা হয়েছে। সিনেমা গড়ে উঠেছে মূলত হ্যারি পটার নামের এক কিশোর জাদুকরকে ঘিরে। যে তার প্রিয় বন্ধু রন উইজলি ও হারমায়নি গ্রেঞ্জারকে সাথে নিয়ে নানা অ্যাডভেঞ্চারে অংশ নেয়।জাদু সাম্রাজ্যের প্রতিপত্তি লাভের উদ্দেশ্যে সে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কর্মকাণ্ড ঘটায়। এই কর্মকাণ্ডগুলো তুলে ধরা হয়েছে মূলত উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে। ছবিতে লাইব্রেরীর ভিতরে যে হাত দেখানো হয়েছে তা মূলত জাদুকরী প্রাণীর উপলব্ধি বোঝানো হয়েছে।

গেম অব থ্রোনস:

এই সিনেমায় যে ড্রাগন দেখানো হয়েছে, সিনেমা শুট করার সময় আসলে সেটি ছিল না। বরং লাঠির সাথে লাগানো তুলায় মোড়ানো বালিশের মতো একটা কুশন ছিল।  প্রযুক্তির মাধ্যমে সেটি পরে ড্রাগন হিসেবে দেখানো হয়েছে।

বিউটি অ্যান্ড দ্য বিস্ট:

ওয়াল্ট ডিজনি পিকচার্সের ব্যানারে নির্মিত হলিউডের রোমান্টিক চলচ্চিত্র বিউটি অ্যান্ড দ্য বিস্ট। এটি অ্যানিমেশন নির্ভর নাট্য চলচ্চিত্র। এই সিনেমায় অভিনয় করেছেন এমা ওয়াটসন, ড্যান স্টিভেনস, লুক ইভান্স, কেভিন ক্লিন, জশ গাড, এমা থম্পসন। সিনেমায় দেখানো হয় এমা ওয়াটসনের রোমাঞ্চ দেখে দানবের মাঝে ভালোবাসা ও মনুষ্যত্ব জন্ম নেয়। সিনেমার পাশাপাশি ডিজনি ডিজিটাল থ্রিডি, আইম্যাক্স ও আইম্যাক্স থ্রিডি ফরম্যাটে বিউটি অ্যান্ড দ্য বিস্ট মুক্তি দেওয়া হয়। ড্যান স্টিভেনস সিনেমায় মূলত প্যাডেড ড্রেস পরে চলাফেরা করেন।

লাইফ অব পাই:

বাঘের জীবন নিয়ে সিনেমাটি তৈরি করা হয়েছে। কম্পিউটার অ্যানিমেটেড সাহসিক নাট্য চলচ্চিত্রটির শুটিং দেখলে সুরাজ শর্মা, ইরফান খান, রাফে স্পল, জেরার্ড ডিপারডাইউ, টাবুর এবং আদিল হুসেইনের সাহস নিয়ে আপনি প্রশ্ন তুলতেই পারেন!  পানির মধ্যে যেসব ৩ডি লাইভ-অ্যাকশন শুট দেখানো হয়েছে তা মূলত কম্পিউটার অ্যানিমেটেড। অ্যাং লি পরিচালিত এই চলচ্চিত্রের অভিযোজিত চিত্রনাট্য লিখেছেন ডেভিড ম্যাগী।

স্পেস জ্যাম:

সিনেমাটি দেখা মাত্রই হৃদয়ে ধাক্কা লাগার কথা। শৈশব-কৈশোরে এই সিনেমা যে কারো মনে ভালো লাগা একটা সিনেমা হিসেবে স্থান পাবে। এই সিনেমার অধিকাংশ চরিত্রই কার্টুন চরিত্র হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। কার্টুন চরিত্রগুলো তৈরি করা হয়েছে উন্নত প্রযুক্তি দিয়ে। 

টাইটানিক

প্রাকৃতিক দূর্যোগ কবলিত রোমান্টিক চলচ্চিত্র। এই সিনেমায় মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও (জ্যাক) ও কেট উইন্সলেট (রোজ)। উচ্চবিত্ত পরিবারের মেয়ে রোজের সাথে নিম্নবিত্ত জ্যাকের প্রেম হয়। প্রেমের গল্প আর প্রধান চরিত্রগুলো কাল্পনিক হলেও পার্শ্ব চরিত্র ঐতিহাসিক সত্যের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে।  টাইটানিক জাহাজ ডুবির দৃশ্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ক্যামেরন স্কেল মডেলিং ও কম্পিউটার অ্যানিমেশনের মাধ্যমে। এ কারণে সিনেমা তৈরি করতে প্রচুর অর্থ খরচ হয়।

দ্য অ্যাভেঞ্জার্স

মার্ভেল স্টুডিও দ্বারা প্রযোজিত হলিউডের সুপারহিরো চলচ্চিত্র হচ্ছে দ্য অ্যাভেঞ্জার্স। ওয়াল্ট ডিজনি স্টুডিওর মোশন পিকচার্স পরিবেশিত এই সিনেমায়ও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।

ম্যাড ম্যাক্স: ফুরি রোড

অস্ট্রেলীয় বিজ্ঞান কল্পকাহিনি নির্ভর অ্যাকশনধর্মী চলচ্চিত্র ম্যাড ম্যাক্স:ফুরি রোড। ম্যাড জর্জ মিলার পরিচালিত এই সিনেমায় অভিনয় করেছেন মেল গিবসন। এই সিনেমায় যে গাড়িটি দেখানো হয়েছে সেটি সত্যিকারের গাড়ি দেখানো হয়েছে। কিন্তু এর বাইরে যে বিস্ফোরণ এবং দূর্ঘটনা দেখানো হয়েছে তা সবই কম্পিউটার মাধ্যমে তৈরি করা। 

গার্ডিয়ান অব দ্য গ্যালাক্সি

হলিউডের সেরা মার্ভেল সিনেমা গার্ডিয়ান অব দ্য গ্যালাক্সি। এই সিনেমার শুট মূলত উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে করা হয়েছে।  এখানে ছবিতে দেখা যাচ্ছে শুট করার সময় হাতের নিচে দেখানো হয়েছে মানুষের মাথা। কিন্তু সিনেমায় দেখানো হয়েছে ভয়ঙ্কর এক প্রাণীকে।  এই সিনেমা পুরোটা দেখলে যে কেউ চোখের পানি ফেলতে পারেন। কিন্তু সব শুট সত্যি না ভেবে দেখলে নিজের আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করেতে পারবেন।

জিজাক/ 

 

হলিউড ও অন্যান্য: আরও পড়ুন

আরও