‘বয়সভিত্তিক হকিতে জোর না দিলে জাতীয় দলের রেজাল্ট আসবে না’

ঢাকা, শনিবার, ২১ জুলাই ২০১৮ | ৬ শ্রাবণ ১৪২৫

‘বয়সভিত্তিক হকিতে জোর না দিলে জাতীয় দলের রেজাল্ট আসবে না’

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৫:০৮ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ০৬, ২০১৭

print
‘বয়সভিত্তিক হকিতে জোর না দিলে জাতীয় দলের রেজাল্ট আসবে না’

এশিয়া কাপ হকি শেষ হয়েছে দিন বিশেক হলো। ৩২ বছর পর এশিয়ার বিশ্বকাপ নামে পরিচিত টুর্নামেন্টটি আয়োজন নিয়ে মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়াম ছিল ব্যস্ততম এক জায়গা। অবশ্য রাজধানীর গুলিস্তানের ওই জাগয়াটি বরাবরই ব্যস্ত খুব। হকির মাঠে সাজ-সাজ বর পড়ে কেবল ঘরোয়া বা আন্তর্জাতিক কোনো আসর হলেই। এশিয়া কাপ শেষ হওয়ার পর যেমন এখন নিঃস্ব হয়ে পড়ে আছে ভাসানীর অ্যাস্ট্রো টার্ফ। আবার খেলা হলেই কেবল মুখর হবে তা। এবারের এশিয়া কাপ হকিতে আট দলের মধ্যে ষষ্ঠ হয়েছে বাংলাদেশ। কিন্তু এই আসর বাংলাদেশ হকির ভবিষ্যত নিয়ে অনেক বার্তাও কি দিয়ে যায় নি? সামনে হকির উন্নয়নে কি কি করা প্রয়োজন? জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক কাজী আবু জাফর তপন এক্ষেত্রে জোর দিচ্ছেন বয়সভিত্তিক হকির দিকে।

৩২ বছর পর এশিয়া কাপ আয়োজনে আয়োজক হিসেবে শতভাগ সফল ছিল বাংলাদেশ। এশিয়ান হকি ফেডারেশনের সিইও তৈয়ব ইকরাম তো আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন করে বলে দিয়েছেন, আয়োজক বাংলাদেশকে নিয়ে তিনি গর্বিত। আর মাঠের বাংলাদেশ? আট দলের আসরে র‌্যাঙ্কিংয়ে সবার থেকে পেছনে ছিল বাংলাদেশই। ষষ্ঠ হতে পারলে পরের আসরে সরাসরি খেলার যোগ্যতা মেলার নিশ্চয়তা নিয়ে নেমেছিল ঘরের মাঠে। তাই ওটাই প্রধান লক্ষ্য ছিল রাসেল মাহমুদ জিমি, মামুনুর রহমান চয়নদের। সেটি পেরেছেনও তারা। তাই এখানেও শতভাগ সফল বলাই যায় তাদের। যদিও পুরো টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের খেলা আসলে মন ভরাতে পারেনি কারো। তবে যা ঘটার তা তো ঘটেছেই। এখন সামনে তাকানোর পালা। যদিও হকি নিয়ে সামনে তাকাতে বুক কাঁপে সাধারণ দর্শকেরও! তার পরও আশার সামান্য উপলক্ষ্য পেলেই তো স্বপ্ন দেখার শুরু। বাংলাদেশ ষষ্ঠ হওয়ার সেটিকেই বা কাজে লাগানো হবে না কেন?

সার্বিক দিক বিচার করলে দেশের হকির মান উন্নয়নে অনেক বিষয়ই সামনে আসবে। তবে সাফল্যের ক্ষেত্রে বয়ষ ভিত্তিক হকিকে গুরুত্ব দেওয়াটাকে অতি জরুরি মানেন কাজী জাফর তপন। ১৯৯৪ সালে জাতীয় দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ছিলেন জাতীয় দলের ম্যানেজারও। বর্তমানে ফেডারেশনের এই সদস্য বলছেন, ‘আমাদের এখন প্রথমেই যেটা করতে হবে সেটি হলো বয়সভিত্তিক হকিকে গুরুত্ব দেওয়া। ১২-১৪ বছরের কিশোরদের দিয়ে শুরু করতে হবে। এতোদিন যা হয়েছে সেগুলোতে রেজাল্ট যেহেতু আসছে না আমাদের তাই এই দিকে মনযোগী হতে হবে। এখন শুরু করলে আমাদের টার্গেট রাখতে হবে ২০২২ বা ২০২৪। তখন আমি বলতে পারবো আমি কি রেজাল্ট পেলাম।’

এখানেই থামেন না তপন। বলে যান, ‘যতোই তৈরি ছেলেদের নিয়ে তিন-মাস ছয় মাস ক্যাম্প করি, রেজাল্ট অতীতেও আসেনি। আগামীতেও আসবে না। এটা আমার খেলোয়াড়ী জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে আমি বলতে পারি।’

বয়সভিত্তিক হকিতে ছেলেদের প্রথম পাঠটা বিদেশি কোচের হাতে হলে সেটি বেশি কাজে আসবে বলে বিশ্বাস করেন তপন। সবাই যখন ইউরোপিয়ান হকিকে অনুসরণ করছে সেখানে বাংলাদেশেরও সেটি করা উচিত বলে মনে করেন তিনি। তপন তাই বলেন, ‘হাতেখড়িটা হতে হবে বিদেশি কোচের অধীনে। তাহলে তাদের বল ধরার স্টাইল, খেলার যে ধারা সেটা রপ্ত করতে পারবো। ভারতের মতো দল এখন ইউরোপিয়ান হকি কোচের অধীনে চলছে। অথচ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে মানুষ ভারতে বিভিন্ন কোচেস ট্রেনিংয়ের জন্য যায়। তারপরও ওরা ইউরোপিয়ান কোচ ব্যবহার করছে। কারণ ওরা বুঝেছে, ইউরোপিয়ান কোচ নিয়োগ না দিলে ভারতীয় হকির উন্নতি হবে না। বিকেএসপিগুলোতে যদি আমরা ইউরোপিয়ান কোচ নিয়োগ দিতে পারি, সেটা ফেডারেশন না হোক, বিকেএসপি বা মন্ত্রণালয় দিক। অন্তত হাতেখড়িটা বিদেশি কোচের অধীনে হোক।’

উদারণ হিসেবে তপন বলেন, ‘একজন ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের ছাত্র আর বাংলা মিডিয়াম স্কুলের ছাত্রের ইংলিশ উচ্চারণে যে পার্থক্য, সেই পার্থক্য যেদিন আমরা আনতে পারবো সেদিন বলতে পারবো আমরা হকির জন্য কিছু করতে পেরেছি। এবং একটা ভালো রেজাল্ট আমরা আশা করতে পারি।’

কাজী আবু জাফর তপন ১৯৭৯ সাল থেকে ২০ বছর খেলেছেন দেশের শীর্ষ হকিতে। ১৯৭৯ থেকে প্রথম দুই বছর খেলেছেন দ্বিতীয় বিভাগে। ১৯৮১ সালে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত খেলেছেন প্রিমিয়ার হকিতে। ১৯৮৬ থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত প্রতিনিধিত্ব করেছেন জাতীয় দলের। জাতীয় দলকে বিদায় বলেন ১৯৯৪ সালে। সে বছর জাতীয় হকি দলকে নেতৃত্বও দিয়েছেন তিনি। ১৯৯৯ সালে মাঠের হকিকে বিদায় বলেন তপন।

টিএআর/ক্যাট

 
.



আলোচিত সংবাদ