বড় দলের বিপক্ষেও এবার লড়াইয়ের জন্য নামব: চয়ন

ঢাকা, শনিবার, ১৮ আগস্ট ২০১৮ | ২ ভাদ্র ১৪২৫

বড় দলের বিপক্ষেও এবার লড়াইয়ের জন্য নামব: চয়ন

তোফায়েল আহমেদ ৮:৩২ অপরাহ্ণ, আগস্ট ০৬, ২০১৮

print
বড় দলের বিপক্ষেও এবার লড়াইয়ের জন্য নামব: চয়ন

১৮ আগস্ট ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা ও পালেম্বাংয়ে বসতে যাচ্ছে এশিয়ান গেমসের ১৮তম আসর। এশিয়ার বৃহত্তম এই ক্রীড়া আসরে ১৪টি ডিসিপ্লিনে অংশ নেবে বাংলাদেশ যার মধ্যে হকি অন্যতম। এশিয়ান গেমস সামনে রেখে জোর প্রস্তুতি চলছে জিমি-চয়নদের। ভারত এবং দক্ষিণ কোরিয়ায় গিয়ে খেলে এসেছে প্রস্তুতি ম্যাচও। তার আগে হয়েছে হকি খেলোয়াড়দের কমান্ডো ট্রেনিং। সবমিলে বাংলাদেশ হকি দলের আত্মবিশ্বাস এখন বেশ উপরে। দলের অভিজ্ঞতম সদস্য মামুনুর রহমান চয়ন সোমবার মুখোমুখি হয়েছিলেন পরিবর্তন ডটকমের। মিনি সাক্ষাৎকারে জানালেন এশিয়ান গেমসের তাদের প্রস্তুতি, লক্ষ্য ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে বিস্তারিত।

প্রশ্ন: এশিয়ান গেমসের আগে ভারতের পর দক্ষিণ কোরিয়া সফর করে এলেন। দুই দেশ মিলে মোট ১১টি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলল বাংলাদেশ দল। সব মিলে কেমন চলছে আপনাদের প্রস্তুতি?

চয়ন: এক কথায় বলবো প্রস্তুতি ফার্স্ট ক্লাস হচ্ছে। ভারত ও কোরিয়ায় দুটি সফর হলো। ভারতে ৬টি ও কোরিয়ায় ৫টি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছি আমরা। কোরিয়ার বিপক্ষে একটি ম্যাচে ড্র করেছি। বাংলাদেশ হকি দল যে উন্নতি করছে এটা তারই প্রমাণ। এখন মূল পর্বে উন্নতির ছাপ রাখতে চাই আমরা।

প্রশ্ন: এমনিতে গেমস নিয়ে কী প্রত্যাশা আপনাদের?

চয়ন: সব দলের বিপক্ষে আমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ খেলা উপহার দেব এটা হচ্ছে প্রথম লক্ষ্য। আগে যেমন শক্তিশালী দলগুলো এসেই আমাদের ৬-৭ গোল দিয়ে চলে যেতো এবার ওরকম কিছু হবে না। যেহেতু আমরা কোরিয়ার মতো দলের বিপক্ষে ড্র করেছি, তার মানে আমাদের আত্মবিশ্বাস এখন উপরে। ২০০৭-০৮ সালের সময়কার কথা বলব- তখন ওদের সঙ্গে নামলেই ৮ গোল বা ৯ গোল হজম করতাম। এই ব্যপারটা এখন আর নেই। ভালো একটা আসর উপহার দেব এটাই চাওয়া এবং সবার সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ খেলা উপহার দিতে চাই।

প্রশ্ন: কিন্ত বাংলাদেশের গ্রুপে পাকিস্তান, মালয়েশিয়ার মতো প্রতিপক্ষ...

চয়ন: আসলে আগে যেমন আমরা বড় বড় দলের সঙ্গে যতো কম গোল খাওয়া যায় এটা ভাবতাম। এবার প্রেক্ষাপটটা ভিন্ন। এবার টপ টিমের সঙ্গে আমরা নামবো ফাইট দেয়ার জন্য। আমাদের কোচ (গোবিনাথন কৃষ্ণমূর্তি) একটা কথাই বলেন, ‘সবাই প্ল্যান অনুযায়ী খেলবে এবং যে যেটা শিখেছ সেটাই কাজে লাগাবে। তো সে অনুযায়ী খেললে ভালো কিছুই হবে। আমাদের ফিটনেসও এখন ভালো। কিছুদিন আগে আমরা কমান্ডো ট্রেনিংও করেছি। সবকিছু মিলিয়ে আশা করি, ভালো একটা খেলা উপহার দিতে পারবে বাংলাদেশ হকি দল।

প্রশ্ন: এই আত্মবিশ্বাসের মূলে কি অনেক বেশি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে পারা?

চয়ন: অবশ্যই। আমরা যে ভারত সফর করলাম সেখানে কিন্তু সব ম্যাচই হেরেছি। কিন্তু ভারতে হারের রেজাল্টটাই আমরা পেয়েছি কোরিয়াতে। ফেডারেশন উপলব্ধি করতে পেরেছে প্র্যাকটিস ম্যাচের কোনো বিকল্প নেই। এমনিতে যতো প্র্যাকটিস করেন না কেন বড় দলের বিপক্ষে ম্যাচের আগে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে না পারলে অনেক ঘাটতি থেকে যায়। আমাদের ভিতর যে একটা ভয় কাজ করে সেটা দূর করার জন্যই প্র্যাকটিস ম্যাচ খুব জরুরি। আগে কোরিয়ার সঙ্গে আমাদের জাতীয় দল কিন্তু কখনো ড্র করেনি। খেলাটাও আন্তর্জাতিক হকি ফেডারেশনের অনুমতি নিয়ে হয়েছে। তাই আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি পেয়েছে ম্যাচগুলো। ফেডারেশন বিষয়টি খুবই ইতিবাচকভাবে নিচ্ছে এবং আশা করি, পরবর্তীতে তারা আরো বেশি প্রস্তুতি ম্যাচের ব্যবস্থা করবে।

প্রশ্ন: এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের সেরা সাফল্য ষষ্ঠ স্থানে থাকা। সেটিও সেই ১৯৭৮ সালের কথা। সর্বশেষ তিন আসরেই বাংলাদেশ অষ্টম হয়েছিল। এবার কোন স্থানটার জন্য খেলবেন?

চয়ন: এটা বলতে পারবেন আসলে কোচ। তবে আমরা যেটা নির্দেশনা পেয়েছি কোনো স্থান দখল করা পরের ব্যাপার। আমরা ইন্দোনেশিয়ায় যাব প্রত্যেকটা টিমের সঙ্গে ফাইট দিতে। যদি আমরা সব দলের সঙ্গে ভালো খেলতে পারি তাহলে স্থান আপনা আপনিই চলে আসবে। কিন্তু আমরা আগে যদি একটা স্থান দখলের লক্ষ্য নির্ধারণ করে রাখি তবে ভালো ভালো দলের বিপক্ষে খেলার আগে নেতিবাচক চিন্তা আসতে পারে। আকাশ ছোঁয়া প্রত্যাশা নয়, কিন্তু আশা করছি, ভালো একটা রেজাল্ট হবে এবার।

টিএআর/এমএসআই

 
.


আলোচিত সংবাদ