ভালোবাসা পাওয়া বড় ব্যাপার: পপি

ঢাকা, শনিবার, ২১ জুলাই ২০১৮ | ৬ শ্রাবণ ১৪২৫

ভালোবাসা পাওয়া বড় ব্যাপার: পপি

মাসউদ আহমাদ ১০:৩১ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৩, ২০১৮

print
 ভালোবাসা পাওয়া বড় ব্যাপার: পপি

নতুন বছরে বেশ কয়েকটি সিনেমায় কাজ করছেন সাদিকা পারভিন পপি। অভিনয়ের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতামূলক কাজেও অংশ নিচ্ছেন। কেমন ছিল অভিজ্ঞতা- জানালেন পরিবর্তন ডটকমকে...

আপনার ‘শর্টকাটে বড়লোক’ সিনেমাটি মুক্তির অপেক্ষায় আছে, এখানে কাজের আভজ্ঞতা কেমন ছিল?

এই সিনেমায় কাজের অভিজ্ঞতা খুবই ভালো। এটা নারগিস আক্তারের ছবি। আমার বিপরীতে অভিনয় করেছেন মাহফুজ আহমেদ। সিনেমার নামটাই অন্যরকম এবং সুন্দর। কাজ করে ভালো লেগেছে। রোমান্টিক ধাঁচের সিনেমা। দর্শকের ভালো লাগবে এটুকু বলতে পারি।

নতুন একটি ছবিতে কাজ করছেন ‘যুদ্ধশিশু’- এটা নিয়ে বলুন?

যুদ্ধশিশু’ সিনেমাটি তৈরি করছেন শহীদুল হক খান। সিনেমার গল্পটি মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি নিয়ে। এই সিনেমাটি নিয়ে আমি আশাবাদী। একটু অন্যধাঁচের সিনেমা। ছবির গল্পটি খুব সুন্দর। আমি উপন্যাসটি পড়েছি। মাসুদ আহমেদের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘রৌদ্রবেলা ও ঝরাফুল’ অবলম্বনে ছবিটা নির্মাণ হচ্ছে। এতে আমার সঙ্গে অভিনয় করছেন নবাগত নাদিম। আরো অভিনয় করবেন সোহেল রানা, চম্পা, নাসিম আনোয়ারসহ আরো অনেকে। এই তো বৃহস্পতিবার মহরত অনুষ্ঠিত হলো। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এবং মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী মোজাম্মেল হক সাহেব এসেছিলেন। ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে ছবিটির শুটিং শুরু হবে। ‘যুদ্ধশিশু’ ছবিটির প্রযোজনায় আছেন মল্লিক এস আরেফিন ও মহসিন আলম। নতুন কাজ তো, চরিত্র ও কাজের কথা সিক্রেট থাক। পরে বলব কেমন।

আপনি রাজশাহীতে গিয়েছিলেন বসুন্ধরা এলপি গ্যাসের প্রচারণার ক্যাম্পেইনে...

এটা জনসচেতনতামূলক একটা কাজ। আমাদের শিল্পীদের এক ধরনের সামাজিক দায়বদ্ধতা থাকে। ‘এলপি গ্যাস ব্যবহারে প্রশিক্ষণ নিন, নিরাপদ থাকুন প্রতিদিন’- এমন স্লোগানকে সামনে রেখে রাজশাহীতে আয়োজিত এই সচেতনতামূলক প্রচারণায় আমি প্রধান অতিথি হিসেবে গিয়েছিলাম। আমরা প্রতিদিন নানা কাজে গ্যাসের ব্যবহার করি- বাসায়, অফিসে, কলকারখানায়। কিন্তু গ্যাসের কারণে অনেক দুর্ঘটনা হয়। আমরা এর ব্যবহারবিধি অনেকেই জানি না। মানুষকে সচেতন করতেই এই উদ্যোগ। সরকারিভাবে এবং সামাজিক উদ্যোগে অনেকেই কাজ করছেন এটা নিয়ে। আর এলপি গ্যাস তো নামি প্রতিষ্ঠান। তারা নিজের দায়িত্বের জায়গা থেকে এই কাজটি করেছে। সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে নিজেকে জড়িয়ে রাখতে পেরে ব্যক্তিগতভাবে আমার অনেক ভালো লেগেছে।

এখন তো সিনেমার কাজ কম, তবুও চলচ্চিত্র নিয়ে আপনার ভাবনা ও স্বপ্নের কথা বলুন?

আসলে আমরা যারা ফিল্মে কাজ করছি, তাদের একটি হতাশার জায়গা তৈরি হয়েছে। কারণ আগে বছরে একশর বেশি সিনেমা নির্মাণ হতো-এখন সেটা খুবই কমে গেছে। আমরা চাই যে ভালো সিনেমা উপহার দেব, দর্শকরা দেখবেন। কিন্তু কাজ কমে যাওয়ায় কাজের জায়গায় আমরা শিল্পীরা একটা হতাশার মধ্যে আছি, এটা সত্য। সবমিলিয়ে একটা পরিবর্তন দরকার। সবার আগে দরকার সিনেমা হলগুলোকে বাঁচানো। এ জন্য সরকারিভাবে এবং সামাজিক উদ্যোগে বা ব্যক্তিগতভাবে হলেও এগিয়ে আসা দরকার। কারণ সিনেমা বানালে সেগুলো তো প্রদর্শনের জায়গা থাকতে হবে। আর সিনেমা বানিয়ে প্রযোজক যদি রিটার্ন না পান, কাজের উৎসাহও নষ্ট হয়। কাজেই আমি চাই কাজের পরিবেশ তৈরি হোক এবং হলগুলো যেন হারিয়ে না যায়।

একজন পপিকে অসংখ্য মানুষ আলাদা করে চেনে ও জানে- এটা ভেবে কী অনুভূতি হয়?

অবশ্যই অনেক ভালোলাগে। এ জন্য আমি আল্লাহকে অনেক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। পাশাপাশি আমার দর্শক ও ভক্তদের অনেক শুভেচ্ছা। কারণ মানুষের ভালোবাসা পাওয়া অনেক বড় ব্যাপার। সবকিছু পাওয়া সম্ভব। টাকা দিয়ে আমি সবকিছু কিনতে পারবো, কিন্তু মানুষের ভালোবাসা পাওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়। এ জন্য আমি নিজেকে খুব লাকি মনে করি। এত মেয়ের মাঝে মানুষ আমাকে আলাদা করে চেনে এবং ভালোবাসে, আমাকে দেখতে চায়। এটা তো সবার ভাগ্যে হয় না। এটা ভেবে আমি খুবই আনন্দ পাই।

এমএ/এমএসআই

 
.



আলোচিত সংবাদ