‘তাৎক্ষণিক বাহবা পেতে সংগীত নয়’

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ জুলাই ২০১৮ | ৪ শ্রাবণ ১৪২৫

‘তাৎক্ষণিক বাহবা পেতে সংগীত নয়’

মাসউদ আহমাদ ৭:১৫ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ০৮, ২০১৮

print
‘তাৎক্ষণিক বাহবা পেতে সংগীত নয়’

ফরিদা পারভীন লালনের গান নিয়ে পার করে দিলেন একজীবন। নতুন প্রজন্মকে শুদ্ধভাবে গান শেখানোর জন্য গড়েছেন ফাউন্ডেশন। ফ্রান্স থেকে বেরিয়েছে গানের অ্যালবাম। কেমন ছিল অভিজ্ঞতা? জানালেন পরিবর্তন ডটকমকে।

সম্প্রতি রেডিও ফ্রান্স আপনার গাওয়া লালনের গানের অ্যালবাম প্রকাশ করেছে, এই কাজের সঙ্গে কীভাবে যুক্ত হলেন?

এই অ্যালবামটা বেরিয়ে গেছে। আমরা রেডিও ফ্রান্সের আয়োজনে সুফী মিউজিক ফেস্টিভ্যালে গিয়েছিলাম। সেখানে সরাসরি অনুষ্ঠানটি হয়েছিল। তারা আমার গান শুনে পছন্দ করেছে। পরে সানন্দে অ্যালবাম প্রকাশের অফার করে। আমরা চলে আসার পরেও যোগাযোগ করে। ওরা ঢাকায়ও এসেছিল। সারা পৃথিবীর ৫ জন শিল্পীর গান নিয়ে অ্যালবাম করেছে। সানুগ্রহে প্রডিউস করেছে। বাংলাদেশ থেকে তারা আমাকে সিলেক্ট করেছেন। ঢাকায় অলিয়স ফঁসেজে অনুষ্ঠান হয়েছে, সেখানে সংস্কৃতি মন্ত্রী এসেছিলেন।

আপনার অনুভূতি কেমন?

অনুভূতি খুবই ভালো। আমি মনে করি, এটা খুবই সম্মানের বিষয়। বাংলাদেশের জন্য সম্মানের। এটা আমার একার জন্য নয়, বাংলাদেশের যারা শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মী আছেন, সবার জন্যই এটা আনন্দের।

আপনি লালনের গান নিয়ে একজীবন পার করে দিলেন; এখন তার গান সম্পর্কে আপনার ভাবনা কী?

আমি আমার নামের উপরে একটা ফাউ-েশন করেছি। সেখানে একাডেমি আছে, বাঁশি শেখানো হয়। এখানে গবেণষার কাজ হয়। লালনের গান নিয়েই আছি। আমি সাঁইজিকে ভালোবাসি। তার গান নিয়ে অনেক কিছু করার ইচ্ছে আছে। লোক গান ও লোকজ যন্ত্রের আর্কাইভ তৈরি করা, স্বরলিপির কাজ করাÑএখানে এগুলো হয়। আর আমার খুব ইচ্ছে আছে যদি সম্ভব হয়, লালনের গানের উপরে বিশ^বিদ্যালয় করার। দেখা যাক কী হয়। আমি মনে করি, আল্লাহর অনুগ্রহ ছাড়া আসলে কিছু সম্ভব নয়।

একবার বলেছিলেন, বাউলদের অনেকেই লালনের এক গান আরেক গানের সঙ্গে মিশিয়ে ফেলছেন...

এটা এখনো করে। লালনের গান নিয়ে বাউলদের প্রেম আছে, কিন্তু যতœটা নেই। যেন তেন করে নিজেরাই সুর বসিয়ে দেয়। এটা একদমই ঠিক নয়। যেন তেন করে তো সংগীত হয় না। এটার জন্য সাধনা করতে হয়। ভক্তির সঙ্গে এটা ধারণ করতে হয়। কারণ কাউকে লিজ দেওয়া হয়নি, গানগুলোকে নষ্ট করে দেওয়ার জন্য। লালনের গান ভাববাদী গান। এটা অনেকদিন ধরে শিখতে হয়।

আপনি এ পর্যন্ত লালনের কতগুলো গান করেছেন?

স্বাধীনতার পর থেকে আমি আড়াইশর মতো গান করেছি। সব গানের রেকর্ড আছে। এখন তো গানের অ্যালবাম কম বের হয়। কিন্তু আমার গানের রেকর্ড আছে। যারা পুরনো বাউল আছেন, তাদের কাছে থেকে গান সংগ্রহ করছি।

লালনের গান তো অনেকেই করেছেন, এখন করছেন, আগামীতেও করবেন; আপনার পর্যবেক্ষণ জানতে চাই?

তাৎক্ষণিক বাহবা পাওয়ার জন্য সংগীত নয়। একজন শিল্পীর ডেফিনেশন কিন্তু অনেক বড় ব্যাপার। গান করে, গায়ক বললে সেটা ঠিক আছে। কিন্তু শিল্পীর ডেফিনেশন সম্পর্কে অনেকেরই ধারণাই নেই। বিশুদ্ধতার ব্যাপারটা অনেকে গুরত্ব দেন না। এসব যেন তেন করে কাজ করাটা একদম মানতে পারি না। সাঁইজির কথা মনে করে আমি যতটুকু পারি, তার গান শেখানোর চেষ্টা করে যাচ্ছি। গানের নামে যন্ত্রের ঝনঝনানি হয় এখন।

একজন ফরিদা পারভীনকে মানুষ আলাদাভাবে চেনে ও পছন্দ করে; এটা ভেবে কী অনুভূতি হয়?

আমার খুব ভালোলাগে। একটা সময় আসবে, যখন আমি চলে যাব বা শারীরিকভাবে অচল হয়ে যাব এবং গান করতে পারব না; আমি মনে করি, তখনো মানুষ আমাকে ভালোবাসবে। এটা প্রকৃতির নিয়ম কিন্তু। আর মানুষের ভালোবাসাটা আমি খুবই উপভোগ করি। যখন কেউ আমার সঙ্গে কথা বলতে চায়, ছবি তুলতে চায়, আমি খুব স্নেহে সময় ও সম্মতি দেই। তাদের অনুরোধ রাখতে চেষ্টা করি। কারণ তারা আমাকে ভালোবাসে বলেই তো আমি এই জায়গায় এসেছি। আমি খুব খুশী মানুষের ভালোবাসা পেয়ে।

সাক্ষাৎকার : মাসউদ আহমাদ

 
.



আলোচিত সংবাদ