গান যেন কষ্টকে ভুলিয়ে দেয়

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ জুলাই ২০১৮ | ৪ শ্রাবণ ১৪২৫

গান যেন কষ্টকে ভুলিয়ে দেয়

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৮:০৮ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ০৩, ২০১৮

print
গান যেন কষ্টকে ভুলিয়ে দেয়

ফাহমিদা নবী গানে গানে কাটিয়ে চলেছেন একজীবন। বাবা মাহমুদুন নবীর গান নিয়ে অ্যালবাম করছেন, পাশাপাশি নতুন গানেও কণ্ঠ দিলেন। কেমন ছিল অভিজ্ঞতা? জানালেন পরিবর্তন ডটকমকে

সম্প্রতি নতুন গান করলেন মেঘ জমেছে মনেশিরোনামে, অভিজ্ঞতা জানতে চাই?

গানটিতে ভয়েস দিয়েছি। এখনো ভিডিও হয়নি। শীঘ্রই এটার ভিডিও প্রকাশিত হবে। গানের কথাগুলো সুন্দর। সুর চমৎকার। সবকিছু বেশ ভালো। সংগীত ও অন্যান্য আয়োজন সুন্দর। গানটি করে আমার ভালো লেগেছে। এটি প্রকাশিত হবে নতুন বছর উপলক্ষে। গানের কথা লিখেছে সজীব শাহরিয়ার এবং সুর-সংগীত করেছে সজীব দাশ। আশা করি, গানটি শ্রোতাদের ভালো লাগবে।

আপনারা দুই বোন বাবার গান নিয়ে অ্যালবাম করছেন, এটা নিয়ে বলুন?

এটা আমার অনেকদিনের ইচ্ছে ছিল। এতদিনে কাজটি করতে পারলাম। মোট ৮টি গান থাকছে। আমি আর সামিনা মিলে গেয়েছি। রেকর্ডিং হয়ে গেছে। সামনে আরো কিছু মিক্সিংয়ের কাজ বাকি আছে। কিছুদিন পর রিলিজ হবে বেঙ্গল ফাউন্ডেশন থেকে।

একজন মাহমুদুন নবী মানুষের মনে রয়েছেন সুরের পাখি হয়ে, আপনি বাবাকে কীভাবে ফিল করেন?

কীভাবে ফিল করি? তুমি একটা নতুন কথা বললে। মাহমুদুন নবীকে শিল্পী হিসেবে বাদ দেই; কিন্তু বাবা হিসেবেই যদি ধরি, তখনো তাকে বাদ দিতে পারি না। আমার বাবা সুরে সুরে কথা বলতেন। কাজেই সুর থেকে বাবাকে আলাদা করা যায় না। সুর এবং মাহমুদুন নবী এক। সুর ছাড়া বাবা না, বাবা ছাড়া সুর না। শিল্পী এবং বাবা আসলে আলাদা নয়। সোলমেট। সবসময় তিনি গানে গানে কথা বলতেন। আমার এবং সামিনার ক্ষেত্রেও এটা হয়, গান নিয়েই কথা ও কাজ হয়। এখন তোমার সঙ্গে কথা বলছি, আমি কিন্তু রান্না করতে করতে কথা বলছি। আর বাবা তো আমার পুরোটা জুড়ে আছেন। বাবাকে নিয়ে বলতে গেলে আসলে ইমোশনাল হয়ে যাব। দার্শনিক কথা বলে ফেলব। বরং অল্প করে সহজ কথা বলি। বাবার একটা শাসনের জায়গা ছিল। কখন কোথায় যাচ্ছি, সন্ধ্যার পরপরই বাসায় ফিরলাম কিনা। ঠিকমতো পড়ছি কিনা। সবকিছু ঠিকঠাক হচ্ছে কিনা-বাবা সরাসরি কিছু বলতেন না, মা আমাদের বলে দিতেন বাবার কথাগুলো। পরে বুঝতে পারতাম, বাবা এগুলো চাইছেন। আমরা সব ভাইবোন বাবার ছায়াতে বেড়ে উঠেছি এবং এখনো সেই ছায়াটা ফিল করি। আমরা সব ভাইবোন আমার মায়ের মতো, আবার ঠিক বাবার মতোও।

গান নিয়ে আপনার এখনকার ভাবনা কী?

গান নিয়ে এখনকার ভাবনা -গান করছি। আমি তো অনেক জেনারেশনের সঙ্গেই কাজ করি। ভালোলাগে। গানের শিল্পী খোঁজার আয়োজন এখন করছি না। কিন্তু গান তো থেমে নেই। একটা সময়ে আমি মনে করেছিলাম, কোনো একদিন গানের সিঙ্গেল ট্র্যাক বের হবে। এখন অলরেডি তা চলে এসেছে। কিন্তু আমি চাই যে, আমার গান যেন কখনো বিরক্তির কারণ না হয়। মানুষের কাজে ও অনুভূতিতে কোনোরকম ব্যাঘাত না ঘটায়। গান যেন মানুষকে চারপাশের সমস্ত কষ্ট ও বিরক্তিকে ভুলিয়ে দেয়। একটা সুন্দর অনুভূতি দেয়। আমি প্রত্যাশা করি, আবার গানের আসর বসবে। এখনকার ছেলেমেয়েরা মোবাইলে গান শোনে। ফেসবুকিং করে চোখ ব্যথা হয়ে গেছে বলে। একটা সময় এসব থাকবে না। মানুষ আয়োজন করে গান শুনবে। ইন্টারনেটে নয়, আয়োজন করে মন ভরে গান শুনবে।

আপনার বর্তমান ব্যস্ততা নিয়ে কিছু বলুন?

বর্তমান ব্যস্ততা গান নিয়েই। শীতের সময় গানের অনেক অনুষ্ঠান হয়। নতুন গান করছি, স্টেজ শো, টিভি অনুষ্ঠান নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটছে। গানে গানেই চলে যাচ্ছে সময়। এখন স্টেজের  মৌসুম। আমি একটু বেছে স্টেজ শো করি। সবগুলো অনুষ্ঠানে যেতে পারি না। বড় শোগুলোতে কেবল অংশ নেই।

একজন ফাহমিদা নবীকে মানুষ আলাদা করে চেনে এবং পছন্দ করে, এটা ভেবে কী অনুভূতি হয়?

এটা তো অবশ্যই ভালোলাগে। আমি তো আমার বাবার মেয়ে, কিন্তু গানের ক্ষেত্রে ‘ফাহমিদা নবী’ যদি হয়ে থাকি, এটা মানুষের ভালোবাসা পেয়ে হয়েছি। মানুষকে ইগনোর করার সাহস নেই আমার; কখনো যেন সেই সাহস না হয়। মানুষের ভালোবাসার কারণেই আমি আজ এতদূর আসতে পেরেছি। তারা যদি না থাকতো, আমার গান ভালো না বাসতো, আমি ফাহমিদা হতে পারতাম না। এই কথাটুকু আমি যেন কখনো ভুলে না যাই।

সাক্ষাৎকার : মাসউদ আহমাদ

 
.



আলোচিত সংবাদ