সিনেমায় জীবনের আকুতিগুলো দেখাতে চাই

ঢাকা, ১৮ জানুয়ারি, ২০১৯ | 2 0 1

সিনেমায় জীবনের আকুতিগুলো দেখাতে চাই

পরিবর্তন ডেস্ক ২:৪৬ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ০৩, ২০১৮

সিনেমায় জীবনের আকুতিগুলো দেখাতে চাই

স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘পৌনঃপুনিক’ ও ‘অঙ্গজ’ নির্মাণ করে বেশ পরিচিতি পেয়েছেন খন্দকার সুমন। অংশ নিয়েছেন দেশ-বিদেশের বেশ কয়েকটি উৎসবে। শিগগিরই গণঅর্থায়নে শুরু করতে যাচ্ছেন প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা ‘সাঁতাও’। সম্প্রতি সিনেমা, গণঅর্থায়ন ও অন্যান্য প্রসঙ্গে পরিবর্তন ডটকমের মুখোমুখি হয়েছেন খন্দকার সুমন।

আপনার স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র দুটিতে শিক্ষামূলক বার্তা পাওয়া যায়।

এটা আমি দিতে চাই না। এভাবে রিড করা গেলে তো ভালো।

পৌনঃপুনিক-এ এসেছে সন্তানের উপর মায়ের অভিভাবকত্ব। এই ধরনের ব্যাপার অঙ্গজ-এও পাই। এটা কি ইনটেনশনাল, নাকি গল্পের জার্নিটা এমন?

এটা আসলে ওরিয়েন্টেশনের উপর নির্ভর করে। আমি ছোট থেকে বড় হওয়ায় যে মানুষটাকে বেশি দেখেছি- আমার মা। নারী বলতে তাকে প্রথম দেখেছি। তারপর বোন, এরপর বউ। এখন দুই কন্যা সন্তানের জনক। আমার পরিবারে বাবার পর একমাত্র পুরুষ আমি। সাধারণত বাবা কাজে ব্যস্ত থাকেন। নারীদের সঙ্গে মেশা হয়েছে বেশ। সেই লাইফের দেখাগুলো, আকুতিগুলো আবার দেখাতে চাই আরকি। মানে, নিজের যাপনের জায়গা থেকে বলছি।

এ কারণে আপনার ছবিগুলো ফিমেলসেন্ট্রিক...

এটা হয়ে যায় আরকি। একজন মানুষ যেভাবে চলে, যাপন করে তা প্রভাব ফেলে তার কর্মে।

আপনার দুই ছবিতে যারা অভিনয় করেছেন, একমাত্র রানী সরকার পরিচিত মুখ। দুই ছবিরই প্রধান চরিত্র আইনুন পুতুল। পরিচিত মুখ না নেওয়ার কারণ কী?

যখন একটা চলচ্চিত্রের স্ক্রিপ্ট লেখা হয়, আমরা ওই চরিত্রের সঙ্গে মানানসই কাউকে খুঁজি- যার অভিনয় ভালো, ক্যারেক্টার পোর্ট্রেট করতে পারবে। ওই জায়গাগুলো থেকে তাদের নেওয়া।

প্রত্যেক নির্মাতারই স্বপ্ন থাকে পূর্ণদৈর্ঘ্য ছবি তৈরির। সে জায়গা থেকে টিম তৈরির জন্য ২০১৬ সাল থেকে আমরা একই টিম নিয়ে কাজ করছি। মানে নতুনভাবে সবকিছু করার চেষ্টা করি নাই। কারণ আলটিমেটলি গোল ছিল একটা পূর্ণদৈর্ঘ্য ছবি করার। এখন গণ অর্থায়নে সে ছবি করছি...।

হ্যাঁ, সাঁতাও। আপনার ওয়েবসাইটে দেখলাম উনারাই অভিনয় করছেন...

স্ক্রিপ্টের সঙ্গে সেলিব্রিটির যোগ জরুরি বিষয় নয়, চরিত্রটাই জরুরি। রানী সরকারকে সেলিব্রিটির জায়গা থেকে নেওয়া হয়নি। ওই ধরনের চরিত্রে নেওয়ার মতো অভিনেত্রী আমাদের দেশে কম। আমার প্রথম কাজ, উনি আমার সঙ্গে কাজ করতে রাজি হয়েছেন। আমি সম্মানবোধ করেছি। 

সাঁতাও নিয়ে বলুন।

আমি একটা ইমেজ দেখি। ওই ইমেজ বারবার ডিস্টার্ব করে। সেটা খুঁজতে গিয়ে গল্পটা পাই।

এর গল্প কী নিয়ে?

খুব সিম্পল গল্প। আমাদের দেশের কৃষকের যাপিত জীবন। নারীর মাতৃত্বের, সাবভৌমত্বের রূপের পাশাপাশি আমাদের সংস্কৃতিতে যে সুরেলা জনগোষ্ঠীর বসবাস- এ তিনটার সম্বন্বয়ে গল্পটা।

সুরেলা মানে?

ছোটবেলা থেকে দেখেছি আমার বাড়িতে যখন কেউ মারা যায়, তাকে স্মরণ করা হয় সুর দিয়ে। ওমুক আসল, ভাত দিতে চাইলাম, খাইলো না, বাবাধন আমার মারা গেছে, আর কোনো দিন দেখব না- এই যে স্মৃতিচারণ করে সন্তান বা প্রাণের মানুষের জন্য, সুর দিয়ে করে। আবার দেখেন বিয়ের অনুষ্ঠানে সেখানে কিছু গীত তৈরি হয়। নববধূ ভবিষ্যত কী হবে এ ধরনের আদেশ-উপদেশ থাকে কথাগুলো। আবার যখন নারী গর্ভবতী হয় গীত গাওয়া হয়- সেখানেও এমন কিছু পাবেন। এছাড়া থাকে যাপনের নানা দিক। প্রেম-প্রণয় এসব তো থাকেই। এগুলোতে কী বলা হচ্ছে আমরা খুঁজে দেখার চেষ্টা করি না। সে বিষয়গুলো দেখাতে চাচ্ছি।

এ ছবি গণঅর্থায়নে হচ্ছে। এভাবে কেন?

আমরা প্রযোজক পেয়েছিলাম। আমাকে পারিশ্রমিক দিতে চেয়েছিলেন। পাশাপাশি স্ক্রিপ্ট কিনে নিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সব কথা ফাইনাল হবে এমন সময় তারা আমার ফিলোসফিক্যাল জায়গায় চেঞ্জ করতে বললেন- এরকম হলে আমরা টাকা দেব, নইলে আমরা দেব না। তারা মাসালা কিছু চান। তখন সিদ্ধান্ত নিলাম নিজস্ব অর্থায়নে করব। আগের দুই সিনেমাও এভাবে করা।

ব্যক্তিগত অর্থায়নে করতে গিয়ে দেখি যদি আমি গণঅর্থায়নে করি, কারিগরি জায়গায় বাজেট বাড়াতে পারব। বাংলাদেশে বড় বাজেটের ফিল্ম হয় না। আর টিভিসি ইন্ডাস্ট্রি যে ইমেজ দেখিয়েছে, যদি আমি ভালো কিছু দেখাতে না পারি- দর্শক আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে।

আমি যদি ক্যানন মার্ক ফোর দিয়ে শুট করি প্রতিদিন খরচ পড়বে সাড়ে তিন থেকে চার হাজার, কিন্তু রেড এপিক নিতে চাই- আঠারো বা বিশ হাজারের মতো খরচ হবে। এভাবে সাউন্ডের বিষয়ও আছে। যদি ফান্ড বেশি হয় আমি অন লোকেশন সাউন্ডই নেব, নইলে ডাবিং করব। এ কারণে গণঅর্থায়নে যাওয়া। আর সবচেয়ে বড় বিষয় হলো প্রচারণা। ছবিটি নির্মাণের আগে দর্শক কানেক্টেড হচ্ছে। কেউ ১০০ টাকা দিয়ে কানেক্টেড হচ্ছেন, সেই টাকার সাথে তার আবেগ যুক্ত আছে। তিনি অনেক কষ্টে এ টাকাটা দিচ্ছেন। পরবর্তীতে ফিল্মটা যখন হলে আসবে তিনি দেখতে চাইবেন।

সাড়া পাচ্ছেন কেমন?

ক্যাম্পেইন তো এখনো শেষ হয়নি। শেষ হবে ৩১ অক্টোবর। আমাদের ভাবনার জায়গা থেকে অনেক বেশি সাড়া পাচ্ছি। আমরা অর্থের চেয়ে জনগণের সম্পৃক্ততা বেশি দেখছি।

হ্যাঁ, প্রতিদিনই ফেসবুকে আপনাকে থ্যাংকস দিতে দেখছি

গণঅর্থায়ন শুধু আমি করছি না। এটা ওয়ার্ল্ডওয়াইড একটা ব্যাপার। যারা এতে অংশ নেন তাদের ‘থ্যাংকস’ জানানো একটা স্বীকৃত পদ্ধতি। পাশাপাশি আমাদের সংগৃহীত টাকা প্রকাশ্যে জানিয়ে দিচ্ছি। আমরা প্রতিজ্ঞা করছি, ফিল্ম শেষ হলে ব্যয় বিবরণী প্রকাশ করব।

বাংলাদেশে এর আগেও দু-একটা ছবিতে গণঅর্থায়ন ছিল।

এই কনসেপ্ট অনেক আগে থেকে বাংলাদেশে প্রচলিত। আগে যেটা হয়েছে নির্দিষ্ট একটা সার্কেল বা জনগণ অন্তর্ভুক্ত ছিল। কিন্তু আমরা যে ডিজাইনটা করেছি এতে নির্দিষ্ট জনগণ বা কমিউনিটির বাইরে ওয়ার্ল্ডওয়াইড এর ব্যাপ্তি রয়েছে...

দেশের বাইরে থেকেও অনেকে অংশ নিচ্ছেন। ইন্ডিয়া থেকে দেখলাম..

আগামী মাসে (অক্টোবরে) নেপাল সংযুক্ত হচ্ছে। এর মধ্যে ইতালি থেকে টাকা এসেছে, অস্ট্রেলিয়া থেকে এসেছে।

গণঅর্থায়ন আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে কি না?

হ্যাঁ। আমাদের স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতারা নানা ধরনের সুন্দর সুন্দর আইডিয়া মাথায় জমিয়ে রাখে, একটারও প্রসব করছে না। তাদের হতাশা- আমার চলচ্চিত্রে কে বিনিয়োগ করবে? এর কারণে তারা স্ক্রিপ্ট করছে না, কাস্টিং ডিজাইন করছে না, বাজেট করছে না। ফলাফল হচ্ছে, অংকুরে ভালো ভালো আইডিয়া নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আমরা যদি গণ অর্থায়নের একটা চলচ্চিত্রকে সফল রূপ দিতে পারি। তবে অবশ্যই মানুষ বিশ্বাস করবে এ প্রক্রিয়ায় ভালো চলচ্চিত্র হয়। এ জায়গা থেকে আমরা আশাবাদী।

জিজাক/

 

হ্যালো তারকা: আরও পড়ুন

আরও