হিস্ট্রিক্যাল ছবি প্রডিউস হয় না : আসিফ খান

ঢাকা, ৩ অক্টোবর, ২০১৮ | 2 0 1

হিস্ট্রিক্যাল ছবি প্রডিউস হয় না : আসিফ খান

পরিবর্তন ডেস্ক: ৩:০০ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৮

হিস্ট্রিক্যাল ছবি প্রডিউস হয় না : আসিফ খান

চলচ্চিত্র নিয়ে পড়াশোনার কারণে বেশ কয়েকবছর ধরে ভারতে আছেন আসিফ খান। বানাচ্ছেন ছবিও। এ তরুণের পরিচালিত জহির রায়হানের গল্প অবলম্বনে নির্মিত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘পোস্টার’ ২৩টি পুরস্কার পেয়েছে। আর ৫০টি উৎসবে অফিসিয়াল সিলেকশনে ছিল। প্রামাণ্যচিত্র ‘দ্য সং অব পদ্মা’ ভারতের ন্যাশনাল সায়েন্স ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে স্টুডেন্ট ক্যাটাগরিতে দ্বিতীয় পুরস্কার পায়। বর্তমানে প্রস্তুতি নিচ্ছেন পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের। সম্প্রতি পরিবর্তন ডটকমের মুখোমুখি হয়ে জানালেন বর্তমান ব্যস্ততা ও অন্যান্য খবর।

বাংলাদেশে নাগরিকসূত্রে আপনার একটা আইডেন্টিটি আছে। ইন্ডিয়ার বড় বাজার হয়তো কিছুটা প্রতিকূলও। আপনি কেন কাজগুলো সেখানে করেন?

‘পোস্টার’ করার পর ইন্ডিয়াতে অনেকগুলো অ্যাওয়ার্ড পাই। ঐখানে একটা দল তৈরি হয়ে যায়। এখনো আছেন তারা। জাতীয় পুরস্কার জয়ী ও পাঞ্জাবের নামকরা আর্টিস্টরা আছেন আমার সাথে। এই টিমওয়ার্কের কারণে হয়তো গল্প মাথায় আসল, শেয়ার করার পর ছবিটা হয়ে গেল। বাজেটের সমস্যা হয় না। কিন্তু আমি হিন্দিতে কাজ করে আত্মতৃপ্তি পেতাম না। ওখানে স্ক্রিপ্ট বাংলায় থাকত, তারপর হিন্দি করতাম। সামনে একটা ফ্রেঞ্চ টাইটেলের ছবি মুক্তি পাবে। ওটারও প্রাথমিক স্ক্রিপ্ট ছিল বাংলায়।

ভাষার এই বদলে কী সমস্যা হয়?

সংলাপের অনুবাদের পর কিছু রদবদল ঘটে। দেখা গেল বাংলাতে যে ফিলটা আমি দিচ্ছি সেটা হিন্দিতে আসছে না। ওই জায়গায় তৃপ্তি পাচ্ছিলাম না। হতে পারে বাংলা অনেকদিন ধরে জানি। এ কারণে কাজগুলো হয়তো করা হয়েছে কিন্তু অ্যাম নট হ্যাপি। 

ভাবছিলাম দুটো ভাষার টানাপোড়নের আপনার কী অবস্থা হয়।

ফিল্ম আসলে টেকনিক্যাল বিষয়। আমি ইংরেজিতেও কাজ করতে পারি। ইন্টারন্যাশনাল প্রজেক্টগুলো তো ইংরেজিতে করতে হয়। ফান্ডিংয়ের ব্যাপারও আছে। কিন্তু ডায়ালগটা তো আপনাকে ফিল করতে হবে। ওই জায়গায় সমস্যা। ধরেন, আমি রোমানে হিন্দি লিখি। যখন আমার আর্টিস্টদের সঙ্গে বসি, অভিজ্ঞ আর্টিস্টরা বলে ইটস ওকে। কিন্তু আমার কাছে মনে হয় ঠিক নাই। বাংলায় সেই ভয় নাই।

এসব ঘটনার ভেতর একটা মুভি কীভাবে ইউনিভার্সাল অ্যাপিল দেয়?

আমি যে ভাষায় করি না কেন, ছবির ডিস্ট্রিবিউশন নিয়ে আগে কখনো ভাবি না। ইউনিভার্সাল হয়ে ওঠল কিনা বলা যাবে ছবিটা হয়ে উঠল কিনা তার ওপর।

নানান দেশের নানান ভাষার মানুষের সঙ্গে কানেক্ট করার ব্যাপার থাকে।

‘পোস্টার’ নিয়েই বলি। ইন্ডিয়ার দক্ষিণ অংশ কেরালা, চেন্নাই এসব জায়গায় পোস্টার দারুণ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। ওখানে লেফটিস্ট শাসন আছে, ওরা ভাবছে লেফটিস্ট ছবি। যদিও ‘পোস্টার’ ওই রকম কিছু না। গল্প যদিও পলিটিক্যাল। আবার কলকাতায় লেফটিস্ট শাসন নাই, তারা ছবিটাকে তেমন গুরুত্ব দেয়নি। আবার বাংলাদেশে কিন্তু অনেক ফেস্টিভ্যালে ছবিটা দেখানো হয়নি। তারা ভাবছে এটা পলিটিক্যাল। তখন আমি ছবি উঠিয়ে নিয়েছি। সন্মান না থাকলে তো ছবি দেওয়া যাবে না। লাল রং পোস্টারে ব্যবহার করেছি, ভাবছে লেফটিস্ট।

আপনার একটা প্ল্যান ছিল। ভাষা আন্দোলন নিয়ে পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা করার।

এটা নিয়ে ২০১৫ থেকে কাজ করছি। সরাসরি আন্দোলন বলা যাবে না। কারণ এর বাজেট পাওয়া আমার পক্ষে অসম্ভব। এটা আন্দোলনকে কেন্দ্রে রেখে একটা পিওর লাভ স্টোরি। যাকে হিস্ট্রিক্যাল ড্রামা বলতে স্বাচ্ছদ্যবোধ করব। কারণ আমাদের ইতিহাস নিয়ে ৫০টা বই পড়লে দেখবেন একটার সাথে অপরটার মিল নেই। আর যখন রাইটার খুঁজবেন দেখবেন ৩০ জন মারা গেছেন, আর যে ২০ জন বেঁচে আছেন, তারা একজন আরেকজনকে দেখতে পারেন না। আমি একজন ফিল্মমেকার কী করব? সময় লাগার বিষয় হলো ইতিহাসের এই বিষয়গুলো নিয়ে আমাকে ক্রস চেকের মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। কিছু থিম আমি করেছি। কিছুদিন আগে এক গবেষককে দেখালাম। উনি বললেন, কিছুই হয়নি। উনাকেও ক্রসচেক করতে হবে। আবার আমাদের দেশে সমালোচক বেশি। তাই চাচ্ছি না ভুল থাকুক।

মানে ভাষা আন্দোলনের ন্যারেটিভ নিয়ে একটা লাভ স্টোরি?

ভাষা আন্দোলনে ছবিটা শুরু হবে না। হবে ১৯৪৭ সাল থেকে। এটা সাধারণ মানুষের জীবনের কিছু মুহূর্তের ব্যাপার। ইমোশনালি ভাষা আন্দোলনের গল্প। মূলত পঞ্চাশ দশকের প্রেক্ষাপটে তিনজন মানুষের হৃদয়বিদারক গল্প— প্রেমের, পাওয়া ও না পাওয়ার।

প্রস্তুতি কতদূর?

পুরো স্ক্রিপ্ট না করে এগুতে চাচ্ছি না। তবে কিছু অভিনয়শিল্পীর সাথে কথা হয়েছে। এটা বাজেটের ওপর নির্ভর করছে। বাংলাদেশে কেউ হিস্ট্রিক্যাল ছবি প্রডিউস করতে চায় না। কিন্তু ভাষা আন্দোলন যদি ইন্ডিয়ায় হতো তবে এ ছবি এতদিনে ফ্লোরে চলে যেতো। সিনোপসিস নিয়ে ইন্ডিয়ার কিছু জায়গায় যাওয়া হয়েছে। সেখানকার কয়েকজন প্রযোজকের কাছে যাওয়া হয়েছে, তারা কিন্তু ভাষা আন্দোলন বুঝে না। কিন্তু লাভ স্টোরিটা বোঝে। ওরা বলে, এটা কোনোভাবে কলকাতা পর্যন্ত আনতে পারবা? আমি বলি, এটা ঢাকাতেই হয়েছে, ওখানে করতে হবে। ইন্ডিয়ায় কিন্তু নতুনদের সিনেমায়ও অনেক বাজেট থাকে। দেখা যাক লড়াইটা কেমন হয়।

এখন যে প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করছেন?

এখন যেটা করছি, এর নাম ‘শাড়ি’। নারীদের নিয়ে তিনটা কাজ করব। ট্রিলজি বলব না। বলা যায় একই থিমের উপর কাজ। প্রথমটা ছিল ‘দ্য মাদার’। পরেরটা লেখা হচ্ছে। ‘শাড়ি’র কারণেই আমি মিরপুরে আছি। এখানকার লোকেশন ভালো লেগেছে। এই লোকেশনে সময় দিতে হবে।

শটফিল্ম বা ডকুমেন্টারি অনেক হয়। কিন্তু সবার কাছে তো পৌঁছে না।

আমার কথা বলি। ‘পোস্টার’ ইউটিউবে দেওয়ার পর অনেকগুলো ফেস্টিভ্যাল মিস হয়ে গেছে। কারণ এটা অ্যাভেলেবল হয়ে গেছে। আবার নেটফ্লিক্স ও ইউটিউবের কনটেন্ট দেখেন। ইউটিউবে যে কেউ আপ করতে পারে। কোনো বাছ-বিচার নেই। মুড়ি মুড়কি একদর। কিন্তু ইন্ডিয়ার ছবিগুলো নেটফ্লিক্সে যাচ্ছে, ওভাবে আমাদের ছবিগুলো যাচ্ছে না, আয় করতে পারছে না। আর, অডিয়েন্সের কাছে পৌঁছাচ্ছে কিনা? আসলে যারা দেখার তারা দেখে নেবে।  

জিজাক/

 

হ্যালো তারকা: আরও পড়ুন

আরও