‘আমরা নির্মাতারাই দেখি না, আমজনতা কেন দেখবে?’

ঢাকা, সোমবার, ২১ জানুয়ারি ২০১৯ | ৮ মাঘ ১৪২৫

‘আমরা নির্মাতারাই দেখি না, আমজনতা কেন দেখবে?’

পরিবর্তন ডেস্ক ৩:২০ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৮

‘আমরা নির্মাতারাই দেখি না, আমজনতা কেন দেখবে?’

অনেক দিন ধরে টেলিভিশনে কাজ করছেন শবনম ফেরদৌসী। বানিয়েছেন ৩৫টির মতো ডকুমেন্টারি ফিল্ম। অংশ নিয়েছেন দেশি-বিদেশি উৎসবে। পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ আরও কিছু স্বীকৃতি। সরকারি অনুদানে নির্মাণ করতে যাচ্ছেন প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা ‘আজব সুন্দর’। বর্তমান ব্যস্ততা প্রসঙ্গে সম্প্রতি পরিবর্তন ডটকমের মুখোমুখি হয়েছেন শবনম ফেরদৌসী।

আপনার ফিচার ফিল্ম আজব সুন্দর-এর কাজ কতদূর?
আমরা সবকিছু নিয়েই এগিয়েছিলাম। আমার আবার ডিসেম্বরে পা মচকালো। দুই মাস ছিলাম বিশ্রামে। তারপর শুরু করতে গেলাম- আমার হয়ে গেল হার্টে সমস্যা। ফলে কাজটা পিছিয়ে যায়। এপ্লিকেশন করে কাজটা এক্সটেন্ড করে নিলাম। এখন প্রি-প্রডাকশন চলছে। আমাদের প্ল্যান ছিল ফেব্রুয়ারিতে কাজ শুরুর। পরে প্ল্যান হয় নভেম্বরে। কিন্তু পিছিয়ে গেল। শিগগিরই কাজ শুরু করব।

যতটুকু ধারণা পেলাম, এটা রকস্টারকে নিয়ে গল্প। কারা অভিনয় করছেন?
এটা এখনো বলতে চাচ্ছি না। সারপ্রাইজ রাখতে চাচ্ছি।

রকস্টার চরিত্রে নতুন কেউ থাকবে, নাকি পরিচিত কোনও অভিনেতা?
না। পরিচিত অভিনেতাই থাকবে।

এর মধ্যে কোনও ডকুমেন্টারি করছেন?
এটা তো আমার পার্ট অব জব। টেলিভিশনের জন্য নিয়মিত বানাতে হয়।

আমরা যেমন জন্মসাথী নিয়ে বেশ বড় পরিসরে আলোচনা দেখেছি।
এরপর আমি কিন্তু ছোট ছোট তিনটি ডকুমেন্টারি করেছি। টেলিভিশনের জন্য। একটা হলো ‘আগুন খেলা’। বস্তিতে আগুন ধরা নিয়ে। আরেকটা...

ভালোবাসা নিয়ে...
ভালোবাসা নিয়ে একটা ছিল। আরেকটা করেছি ‘ধূসর পা-ণ্ডুলিপি’। ঢাকা শহরে মানুষের বিচ্ছিন্নতা নিয়ে। যোগাযোগের অনেক মাধ্যম থাকলেও মানুষ বিচ্ছিন্ন। এটা নিয়ে আমি সিরিজ অব ডকুমেন্টারি করছি। ছোট ছোট করে। এই শহরের বৃদ্ধদের জীবন কেমন কাটছে- এটা নিয়ে রিসেন্ট কাজ চলছে।

সম্প্রতি শেষ হওয়া ডকল্যাবের ডিসিশন মেকার ছিলেন। দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশে হলো। এটি নিয়ে বলুন।
এখানে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলো থেকে যারা পিচিং করেছে, আমরা তাদের ঠিকঠাক করে দিয়েছি।

বাংলাদেশে এর ইম্প্যাক্ট কেমন পড়ছে?
ভালো। গতবার বাংলাদেশ থেকে যারা পিচ করেছে, তারা ব্যাপারটা জানতো না, তাই গোছানো ছিল না। গতবার অংশগ্রহণকারীও কম ছিল। এবার বেশি ও ভালো। কোয়ালিটি ওয়াইজ সাবজেক্ট ওয়াইজ ভালো। এখানে ১১ জনের মধ্যে আমরা বাংলাদেশের ৩ জন ডিসিশন মেকার। তার মধ্যে যখন বাংলাদেশের ওরা ভালো করছিল আমার ভালো লাগছিল। আমি খুবই আশাবাদী এটা ভালো করবে আরো। বাংলাদেশে ডকুমেন্টারির অপার সম্ভাবনা। এটা আমরা এক্সপ্লোর করিনি।

সব মিলিয়ে ভাবছেন বাংলাদেশে ডকুমেন্টারির অনেক সম্ভাবনা।
অংশগ্রহণকারীদের পারফর্ম দেখে ভাবছি- তারা অনেক কনফিডেন্ট, অনেক বোল্ড, স্ট্রং, অনেক সুন্দরভাবে প্রেজেন্ট করেছে। গতবছর দেখেছি ভিশন ক্লিয়ার ছিল না। এবার দেখলাম তাদের ভিশন পরিষ্কার। মানে এটা কাজ করছে।

এবার তো জয়েন্ট ভেঞ্চারে জোর দিয়েছেন।
এটা গতবারও ছিল। এটা আসলে থাকবে।

ডকুমেন্টারি দর্শকদের সামনে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে কী ভাবছেন?
এটা একটা সমস্যা। কিন্তু শুধু কি ডকুমেন্টারি, ফিকশনেও সেই সমস্যা। হলে কাহিনিচিত্র চলে না, আর ডকুমেন্টারি কী চলবে? ডকুমেন্টারি নিয়ে মানুষের কনসেপ্ট তৈরি হয়েছে গত বছর পাঁচ ধরে। আঠারো বছর ধরে আমি নির্মাণ করছি। টেলিভিশনে আমরা ডকুমেন্টারি করছি, এটা আমার পার্ট অব মুভমেন্ট। আমাদের একটা চ্যানেলেই (একাত্তর) শুধু ডকুমেন্টারি দেখায়। অথচ ওয়ার্ল্ডওয়াইড টিভিই প্রডিউস করে। আমাদের এখানে নাটক-সিরিয়ালই টিভি খেয়ে ফেলল। তারা বোঝে না, এখনকার দর্শকরা এগুলো দেখতে চায় না। ইন্ডিয়ান সিরিয়ালই দেখে। একটা সময় এখানে ফিচার হতো, সেটাও ধ্বংস করে দিল এখানকার ডিসিশন মেকাররা।
ডকুমেন্টারি যা দেখানো হয় ফিল্ম সোসাইটিগুলোই দেখায়। সেটাও ঢাকা কেন্দ্রিক। কখনো কখনো প্রাইভেট  ইউনিভার্সিটিগুলোতে দেখায়। তাও সবার না। আমরা বুড়া হয়ে গেছি। আমাদেরগুলোই দেখায়। তরুণরা কমই বানাচ্ছে। যা বানায়- ওই প্রিমিয়ার শো হয়। তারপর পড়েই থাকে। আর কারো ছবি বিদেশে যায় বা অ্যাওয়ার্ড পায়- তখন সবাই জানে।

তাহলে...
আর কি বলল! যারা ফিকশন ফিল্মমেকার... আমিও ফিকশন করছি। যারা ফিকশনমেকার তারা কি ডকুমেন্টারি দেখে? আমার ছবি আমার ফিল্মমেকার বন্ধুরা কয়টা দেখছেন। একটা কি দুইটা। আমি যে বাকি ৩৫টা করছি, এটা নিয়ে তাদের আইডিয়াই নেই। আমরা কিন্তু ওদের প্রতিটা ফিল্ম দেখি। ফলে এখানে একটা সমস্যা আছে। আমরা ফিল্মমেকাররাই দেখি না, আমজনতা কেন দেখবে?

ডব্লিউএস/ জিজাক/