‘কমতি রেখে অলরাউন্ডার বাপ্পীর সামনে দাঁড়াবো না’

ঢাকা, সোমবার, ২৩ জুলাই ২০১৮ | ৮ শ্রাবণ ১৪২৫

‘কমতি রেখে অলরাউন্ডার বাপ্পীর সামনে দাঁড়াবো না’

আহমেদ জামান শিমুল ৪:০৫ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২০, ২০১৮

print
‘কমতি রেখে অলরাউন্ডার বাপ্পীর সামনে দাঁড়াবো না’

গত বছর একসাথে অনেকগুলো সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন মাহিয়া মাহি। আস্তে আস্তে কাজও গুছিয়ে এনেছেন। সামনে যাচ্ছেন সাময়িক বিরতিতে। তার আগেই পরিবর্তন ডটকমের মুখোমুখি হন নায়িকা। এতে উঠে এসেছে প্রথম সিনেমার নায়ক বাপ্পীসহ নানা প্রসঙ্গ।

কোথায় আছেন? ঢাকায় না সিলেটে?

ঢাকায় আছি আম্মুর কাছে। আগে সবসময় তার কাছে থাকা হতো, এখন পারি না। সিলেটে (শ্বশুরবাড়ি) যাবো কিছুদিনের মধ্যে।

শুটিং নেই?

ওইভাবে নেই। আমি আসলে দেড় মাসের একটা ছুটিতে যাচ্ছি। আমার দেবরের বিয়ে রোজার আগে। ওর বিয়ের কেনা-কাটা নিয়ে ব্যস্ত থাকব। তবে ডাবিং, টুকটাক এক-দুদিনের কাজ থাকলে হয়ত করব। ঈদের পর আবার টানা কাজ করব। তখন পরপর অন্ধকার জগত, আনন্দ অশ্রু এবং ও মাই লাভ-এর শুটিং করব।

সর্বশেষ চুক্তিবদ্ধ হলেন ‘ও মাই লাভ’-এ। সিনেমাটি নিয়ে বিস্তারিত জানতে চাই।

এটি আবুল কালাম আজাদের সিনেমা। উনি শাবনূর ম্যাডামদের নিয়ে অনেক হিট সিনেমা দিয়েছেন। রোমান্টিক গল্প। আমার চরিত্রটি বেশ ইন্টারেস্টিং। জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহ থেকে শুটিং শুরু হবে।

বিপরীতে কে আছেন?

এখনো ঠিক হয়নি।

‘পলকে পলকে তোমাকে চাই’ তো বেশ ভালো চলল। আপনি কিন্তু আশাবাদী ছিলেন না?

এটা আসলে আমার ভাগ্য বলতে হয়। সবসময় আমার লাক ফেভার করে। গিয়াস উদ্দিন সেলিম স্যারের সিনেমার (স্বপ্নজাল) সাথে মুক্তি পেয়ে এটলিস্ট সুপার-ডুপার ফ্লপ হয়নি, এটাই অনেক। আর আমি আশাবাদী না থাকারও কারণ ছিল। একটা সিনেমা প্রচারণা, কালার কারেকশন ছাড়া মুক্তি দিয়ে দিল— এটা কেমন হয়ে গেল। 

ঈদের পর তো ‘জান্নাত’ মুক্তি পাবে। সিনেমাটি নিয়ে তো আপনার অনেক আশা।

হ্যাঁ, আসলে গল্পটি অনেক সুন্দর। আশাবাদী হওয়ার কারণ হচ্ছে, অনেকদিন পরে সাইমনের সাথে আমার সিনেমা। তার সাথে ‘পোড়ামন’ দর্শক পছন্দ করেছিল। তাছাড়া (মোস্তাফিজুর রহমান) মানিক স্যার অনেক ভালো বানিয়েছেন।

বেশ আগে চুক্তিবদ্ধ হওয়া ‘ময়না’ ও ‘নক্ষত্রের রাত’ এখনো শুটিং ফ্লোরে যায়নি। কেন?

আমি আসলে ঠিক জানি না, কেন হচ্ছে না। এটা পরিচালক-প্রযোজকরা ভালো বলতে পারবেন। তারা শুটিং শুরু করতে চাইলে অবশ্যই ডেট দেব। 

সম্প্রতি খবরে এসেছে বাপ্পীর সাথে কাজ করতে চাইছেন না। বিষয়টি কতটুকু সত্য? কেন চাইছেন না?

কাজ করতে চাইছি না— এমন না। ব্যাপারটা হচ্ছে, আমি আর বাপ্পী একসাথে ইন্ডাস্ট্রিতে এসেছি। আমার তুলনায় তার সিনেমা সংখ্যা অনেক বেশি। কারণ আমার আগেই সে জাজ মাল্টিমিডিয়া থেকে বের হয়ে গেছে। সে জায়গা থেকে আমি বলব বাপ্পী অনেক বেশি সিনিয়র। অনেক বেশি অভিজ্ঞ— মানে আমি যদি একটা সিনেমা করি, সে করেছে পাঁচটা। ও আমার থেকে অনেক বেশি শিখে গেছে, অনেক বেশি স্মার্ট হয়ে গেছে।

আরিফিন শুভ বা সাইমনের সাথে যখন কাজ করি, ওরা বন্ধুর মতো আচরণ করে। আমরা একসাথে গল্প করতে করতে কাজ করি। সেটে আড্ডা দিই। কাজকে কাজ মনে হলে বিষয়টা কঠিন হয়ে যায়। আমরা একটা সিনেমা করি ৩০-৪০ দিন ধরে। অনেকদিন আমাদের একসাথে থাকতে হয়। ভালো বোঝাপড়া হলে ভালো লাগে।

তাহলে কি বাপ্পীর সাথে কাজ করতে কোন সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে?

বাপ্পীর সাথে কাজ করতে এতদিন পর্যন্ত আমার কোন সমস্যা হয়নি, ভালোই লেগেছে। ওর সাথে লাস্ট কয়েক বছরে কাজ হয় না তো! ফলে ওর সর্বশেষ সাক্ষাৎকারগুলো দেখে মনে হয়েছে ও অনেক বেশি পরিপক্ক হয়ে গেছে।

যেমন ও ‘পলকে পলকে তোমাকে চাই’ নিয়ে আমার প্রচারণা বা কথা বলতে না চাওয়া নিয়ে বলেছে, ‘নিজের সন্তানদের নিয়ে এভাবে বলতে হয় না।’ আমি এ সিনেমা দেখি নাই, আমার ভক্তরা সিনেমা দেখে নাই। ও খুব খুশি ওর নামের উপর দিয়ে সিনেমা চলে গেছে। ভালো লাগছে— ‘আল্লাহ্‌ আমার (বাপ্পী) জন্য সিনেমা হিট!’ ও যে খুশি, এটা ভালো লাগছে।

আর সিনেমাটি নিয়ে আমি বলব, শেষের দিকে আমি কাউকে কোন সহযোগিতা করিনি। আমার ডাবিং নেওয়া হয়নি। সিনেমাতে যে আরেকজন নায়িকা নেওয়া হয়েছে সেটা আমাকে জানানো হয়নি। সাথে হচ্ছে চারদিন আগে কোন প্রকার প্রচারণা ছাড়া সিনেমা মুক্তির ঘোষণা— বিষয়টি একদমই মানতে পারিনি। আমার সিনেমা এরকমভাবে মুক্তি পাবে কেন? সবকিছু মিলিয়ে মনে হয়েছে পরিচালক যেহেতু বাপ্পীর সাথে আলোচনা করে সব করেছে সেদিক থেকে তার অধিকারটা বেশি।

আরেকটা জিনিস হচ্ছে একটা সাক্ষাৎকারে দেখলাম ও বলেছে, ‘আরিফিন শুভ কমেডিয়ান, সাইমন ভিলেন, শাকিব খানকে শুধুই হিরো এবং ফেরদৌস ভাই মডেল।’ আমি ফেরদৌস ভাইকে দেখে এসেছি এত হিট হিট সিনেমার নায়ক আমার ড্রিমগার্ল শাবনূর ম্যাডামের বিপরীতে। একজন মেইনস্ট্রিম নায়ক যদি তার চোখে মডেল হয়ে যায়, অন্যরা কমেডিয়ান কিংবা ভিলেন!

পরবর্তীতে ওর সাথে যখন কাজ করব তখন কী থেকে কী অভিনয় করে ফেলব? হুট করে একটা জিনিস বলে দিবে আমার সম্পর্কে এটা নিয়ে ভয়ে আছি। মোটামুটি অভিনয় শিখে অভিনয় করতে যাবো। একটু কনফিউজড এটা নিয়ে। একই সাথে যে সিনেমাগুলোকে আমি নিজের মনে করতে পারব, সেগুলোতে একসাথে কাজ করা হবে। না হলে সে যদি বলে মাহির নিজের সিনেমা মনে করছে না কিংবা অভিনয় হচ্ছে না। তাহলে আমি শেষ।

সব মিলিয়ে আমার মনে হয়েছে সে অনেক অভিজ্ঞ। তাই নিজের মধ্যে কোন কমতি রেখে অলরাউন্ডার বাপ্পীর সামনে দাঁড়াবো না। আমি চাই না ও আমার সম্পর্কে কোন কমেন্ট করুক যেটা আমার ভালো লাগবে না।

এটা কি কোন প্রকার রাগ বা ক্ষোভ থেকে বলছেন?

না না, তা হবে কেন? ও আর আমি খুব ভালো বন্ধু। আমরা অনেকগুলো ভালো ভালো সিনেমাও উপহার দিয়েছি। ওর সাথে রাগারাগি হলে এতদূর আসতে পারতাম না। তাছাড়া আমি কারো উপরে সহজে রাগ করি না। সামনে আমরা একসাথে ভালো কিছু উপহার দেব বলে আশা করি।

এজেডএস/ডব্লিউএস

 
.



আলোচিত সংবাদ