চরিত্রগুলো সন্তানের মতো: দিলারা জামান

ঢাকা, শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮ | ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

চরিত্রগুলো সন্তানের মতো: দিলারা জামান

মাসউদ আহমাদ ১০:৪২ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ০৫, ২০১৮

চরিত্রগুলো সন্তানের মতো: দিলারা জামান

দিলারা জামান। নাটক ও বিজ্ঞাপনের কাজে এখনো নিয়মিত আর অক্লান্ত। সম্প্রতি নতুন সিনেমা ও নাটকের কাজ শেষ করলেন। কেমন ছিল অভিজ্ঞতা জানালেন পরিবর্তন ডটকমকে...

আপনি ‘বিজলি’ সিনেমায় অভিনয় করছেন, কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে বলুন?

কাজের অভিজ্ঞতা খুবই ভালো। আমি তো আর জুটি বেঁধে কাজ করছি না। বয়স এবং সিনেমার চরিত্র অনুযায়ী কোনো একটি চরিত্রে কাজ করি। সুন্দর গল্প নিয়ে সিনেমাটা তৈরি হয়েছে। কাজটা করে ভালো লেগেছে। সিনেমার কাজ শেষের দিকে। শিগগিরই মুক্তি পাবে। আশা করছি, দর্শকের ভালো লাগবে।

সম্প্রতি আপনাকে সালোয়ার কামিজে ফ্যাশনেবল মুডে দেখা গেল...

হ্যাঁ, কিছুদিন আগে কাজটি করলাম। ফাগুন আসছে। ফাগুন এলে মানুষের মনের ভেতরে দোলা লাগে। তরুণদের মধ্যেই সেটা বেশি কাজ করে। আমি চাই, ফাগুন সবার জীবনেই আসুক। ফাগুন তো বয়স মানে না। একটা ফ্যাশন হাউজের অনুরোধে কাজটি করেছি। খুবই ভালো লেগেছে। ওরা ছবির ক্যাপশনে লিখেছে- তুমি আমার মা, আমি তোমার মেয়ে বসন্ত আসুক সবার জীবনে। কাজটা করে ভালো সাড়া পাচ্ছি। আমি এখন বৃদ্ধ হয়ে গেছি। গাল ভেঙে গেছে। তবুও সবাই আমাকে নিয়ে এত উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে জেনে ভালো লাগছে। অনেকে ফোন করে শুভেচ্ছাও জানাচ্ছেন। চারপাশ থেকে আমিও শুনছি যে আমাকে নিয়ে অনেকেই আলোচনা করছেন। আমার বড় মেয়ে আমেরিকায় থাকে। সে বলেছে যে, তোমাকে ছবিতে বলিউডের তারকাদের মতো লাগছে। তাদের অভিযোগ এসব কাজ নিয়ে থাকি বলেই দেশ ছেড়ে যেতে চাই না। তারা চায়, আমি যেন তাদের কাছে গিয়ে থাকি। নিজের দেশের চেয়ে সুন্দর আর কিছু তো হতে পারে না।

এটিএন বাংলার ‘সুখের ভিতরে অসুখ’ নাটকে কাজ করছেন...

এই নাটকটি এখন টেলিভিশনে প্রচারিত হচ্ছে। আল হাজেন বলে একটা ছেলে নাটকটি তৈরি করেছে। নাটকের গল্পটা ভালো। বিদেশের পটভূমিতে নাটকটি বানিয়েছে। স্বপ্ন পূরণের আশায় একটি ছেলে দেশে যায় এবং নানা ধরনের সমনস্যায় পড়ে। সম্পর্কের টানাপোড়েন ও জীবনের নানা ঘটনা নিয়ে এর কাহিনী। কাজ করে ভালো লেগেছে।

আপনি ও হাসান ইমাম জুটি বেঁধে একটি নাটকে কাজ করেছিলেন...

মিজানুর রহমান আরিয়ান খুব অল্প বয়েসী একটা ছেলে নাটকটি বানিয়েছিল। ‘গল্পগুলো আমাদের’। এখানে আমি ও হাসান ইমাম স্বামী-স্ত্রীর চরিত্রে অভিনয় করেছি। নাটকে আমাদের বয়সে পৌঢ় হলেও মানসিকভাবে বেশ তরুণ। পোশাক পরিচ্ছদ আর পরিপাটি সাজে আমাদের আসল বয়স বোঝার উপায় থাকে না। আমরা বিয়ে করি প্রেম করে। শেষ বয়সে রেস্টুরেন্ট ব্যবসা শুরু করি। রেস্টুরেন্টে আগত যুগলদের প্রেম দেখে আমরা স্মৃতি হাতড়ে ফিরে যাই নিজেদের তারুণ্যে। নিজেদের সেই সময়গুলোর সঙ্গে চলমান সময়ের পার্থক্যগুলো পীড়া দেয় আমাদের। এখনকার প্রেমগুলো তো আর আগের মতো নেই। একসঙ্গে খেতে গিয়ে মোবাইল নিয়েই ব্যস্ত থাকি। পাশে থাকলেও সবার মধ্যে বিচ্ছিন্নতা চলে আসছে। মূলত এই বিষয়গুলোই নাটকে উঠে এসেছে।

আপনি বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেন, প্রস্তুতির ব্যাপার তো থাকে, আপনার ক্ষেত্রে এটা কীভাবে তৈরি হয়?

নাটকে যে চরিত্রগুলো করি, তারা তো বাস্তবেরই মানুষ। মানুষ দেখতে দেখতে এত দূরে এলাম। অনেকদিন ধরে কাজ করছি। নাটকের গল্পটা যখন আমাকে পরিচালক কলেন, স্ক্রিপ্ট দেন, আমি নিজের মতো ধারণ করার চেষ্টা করি। কিন্তু মাঝে মাঝে কিছু ভাবনা আমাকে খুব তাড়িত করে। এটা কেন এমন হলো, এটা তো না হলেও পারত। তাৎক্ষণিক যে কাজটা করার দরকার সেটা যদি না করতে পারি, আমাকে বেশি পীড়া দেয়। অভিনয় আমার পেশা। সবখানেই আমি সৎ থাকতে চেষ্টা করেছি। যতটুকু কাজ করেছি, কাজে একনিষ্ঠ ছিলাম। কাজ করতে ভালোলাগে, তাই করি। যখন অভিনয়টাকে পেশা হিসেবে নিলাম তখন শুধু পেশা নয়, এক ধরনের দায়িত্ববোধও চলে এসেছে। কারণ নাটকের চরিত্রগুলো আমার সন্তানের মতো।

নাটকের স্ক্রিপ্ট কতটা ফলো করেন?

শোনো বাবু, আমি এখনো স্ক্রিপ্ট পেলে আমার বিছানায় মাথার কাছে রাখি। সময় পেলেই খুলে দেখি। নাটক বা সিনেমার চরিত্রটাকে আমি কীভাবে ধারণ করব, কোন অ্যাঙ্গেল থেকে উপস্থাপন করব এবং দর্শকের কাছে সেটা কতটুকু বিশ্বাসযোগ্য হবে, এসব মাথায় রেখে চরিত্রটি ধারণ করার চেষ্টা করি। জানি না, কতটুকু করতে পারি।

এমএ/এমএসআই