ক্লাস–পরীক্ষায় ফেরার ঘোষণা বুয়েট শিক্ষার্থীদের

ঢাকা, বুধবার, ২২ জানুয়ারি ২০২০ | ৯ মাঘ ১৪২৬

ক্লাস–পরীক্ষায় ফেরার ঘোষণা বুয়েট শিক্ষার্থীদের

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৭:৪৭ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ০৪, ২০১৯

ক্লাস–পরীক্ষায় ফেরার ঘোষণা বুয়েট শিক্ষার্থীদের

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার ঘটনায় আন্দোলনে নেমেছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণ হওয়ায়  ৬ই অক্টোবর থেকে চলা এই আন্দোলনের সমাপ্তি টানলেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। অবশেষে ক্লাস–পরীক্ষাসহ সব ধরনের একাডেমিক কার্যক্রমে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।

বুধবার বিকেলে বুয়েটের শহীদ মিনারের পাদদেশে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা। সংবাদ সংম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান আন্দোলনকারীদের মুখপাত্র মাহমুদুর রহমান সায়েম।

তিনি বলেন, বুয়েটের কোনো শিক্ষার্থী র‌্যাগিং ও সাংগঠনিক রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকলে সেটার শাস্তির নীতিমালার বিষয়ে বুয়েট প্রশাসন গত ২ ডিসেম্বর একটি নোটিশ প্রকাশ করে এবং পরবর্তীকালে এ ব্যাপারে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেয়। বুয়েট প্রতিশ্রুত সময়ের মধ্যে আমাদের তিনটি দাবি মেনে নেওয়ায় আমরা প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। পাশপাশি আন্দোলনের সমাপ্তি টানছি।

তিনি আরও বলেন, আমরা চাই আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে এবং দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন হোক। আমাদের মতো সারা দেশবাসী এই বিচারের দিকে তাকিয়ে আছে। আমরা আশা করি আদালত বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দেশবাসীর আশা পূরণ করবেন।

গত ৬ অক্টোবর রাতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শেরে বাংলা হলের আবাসিক ছাত্র ও তড়িৎ কৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরারকে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা পিটিয়ে হত‌্যা করে।

পরদিন আবরারের বাবা বুয়েটের ১৯ শিক্ষার্থীকে আসামি করে চকবাজার থানায় এজাহারের দায়ের করে।

এর পর গত ১৩ নভেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. ওয়াহিদুজ্জামান চার্জশিট দাখিল করেন। পরবর্তীতে ১৮ নভেম্বর ২৫ জনকে অভিযুক্ত করে ডিবি পুলিশের দেয়া চার্জশিট গ্রহণ করেন আদালত।

চার্জশিটভুক্ত আসামিরা হলেন— বহিষ্কৃত বুয়েট ছাত্রলীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মো. অনিক সরকার, উপ-সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক ইফতি মোশাররেফ সকাল, ক্রীড়া সম্পাদক মো. মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান রবিন, মো. মনিরুজ্জামান মনির, খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম তানভীর, শিক্ষার্থী মো. মুজাহিদুর রহমান ও এএসএম নাজমুস সাদাত, বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল, আইন বিষয়ক উপ-সম্পাদক অমিত সাহা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুহতামিম ফুয়াদ, আইন বিষয়ক উপ-সম্পাদক অমিত সাহা, কর্মী মুনতাসির আল জেমি, গ্রন্থ ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক ইসাতিয়াক আহম্মেদ মুন্না, শিক্ষার্থী আবরারের রুমমেট মিজানুর রহমান, শিক্ষার্থী শাসছুল আরেফিন রাফাত, আকাশ হোসেন, মো. মাজেদুর রহমান মাজেদ, শামীম বিল্লাহ, মুয়াজ ওরফে আবু হুরায়রা ও এস এম মাহমুদ সেতু, মুহাম্মাদ মোর্শেদ-উজ-জামান মণ্ডল ওরফে জিসান,  এহতেশামুল রাব্বি ওরফে তানিম, মোর্শেদ অমত্য ইসলাম ও মুজতবা রাফিদ।

আসামিদের মধ্যে প্রথম ২১ জন কারাগারে আছেন। আর প্রথম ৮ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। শেষের চারজন পলাতক রয়েছেন।

ওএস/জেডএস

 

ক্যাম্পাস: আরও পড়ুন

আরও