ভিসির বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছেন আন্দোলনকারীরা (ভিডিও)

ঢাকা, বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯ | ২৯ কার্তিক ১৪২৬

ভিসির বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছেন আন্দোলনকারীরা (ভিডিও)

জাবি প্রতিনিধি ৭:০৬ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ০৬, ২০১৯

হল ত্যাগের নির্দেশ প্রত্যাখান করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছেন আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

সংহতি সমাবেশ শেষে বুধবার বিকাল ৫টার দিকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ভিসির বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন তারা।

উপাচার্যের বাসভবন ঘিরে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করা হয়েছে।

আন্দোলনকারীরা বলছেন, ভিসি পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তারা তাদের অবস্থান থেকে সরবেন না।

‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগরে’ মুখপাত্র দর্শন বিভাগের অধ্যাপক রায়হান রাইন বলেন, ‘আমরা আন্দোলন বন্ধ করব না। আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় মুরাদ চত্ত্বরে জমায়েত হয়ে বিক্ষোভ করব।

এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের সামনে সংহতি সমাবেশ হয়। এতে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। তিনি বলেন, এই উপাচার্যের বিষয়ে সরকার দ্রুত সিদ্ধান্ত জানাবেন বলে আশা করছি। আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষক ব্যবসায়ী ও পুলিশের ভূমিকা নিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরনের শিক্ষক থাকতে পারেন না।

তিনি বলেন, উপাচার্য ছাত্রলীগের হামলাকে গণঅভ্যুত্থান বলেছেন। কিন্তু প্রকৃত গণঅভ্যুত্থান ঠেকাতে তিনি হল বন্ধের সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। ঠিকাদারের সাথে টাকা ভাগ-বাটোয়ারা করার মতো ভিসি যেন আর নিয়োগ না পায়। সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন না হলে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়কে বাঁচানো যাবে না।

অধ্যাপক আনু মোহাম্মদ বলেন, যে সমস্যা সমাধানের জন্য হল বন্ধ করা হয়েছে সেটা কোন সমাধান নয়। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপর হামলা করার মাধ্যমে উপাচার্য পূর্ণ নৈতিক অবস্থান হারিয়েছেন।

তিনি বলেন, ভিসি নিজেই আন্দোলনকে ভিসিবিরোধী আন্দোলনে রূপ দিয়েছে। এই আন্দোলন জাহাঙ্গীরনগরে নয় সারাদেশে ছড়িয়ে পড়বে।

সংহতি জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক তানজিম উদ্দিন খান বলেন, উপাচার্য ছাত্রলীগের হামলাকে গণঅভ্যুত্থান বলেছেন। এটা গণঅভ্যুত্থান নয়, এটা ছিল পশুত্বের অভ্যুত্থান।

জাবির প্রাক্তন অধ্যাপক সৌদা আখতার সংহতি প্রকাশ করে বলেন, গতকাল (মঙ্গলবার) যখন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী দিয়ে শিক্ষক মারছেন এটা খুবই মর্মাহত করেছে। জাহাঙ্গীরনগরের মেয়েরা সবসময় অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়৷ ভিসিকে অবশ্যই যেতে হবে এবং বিচারের আওতায় নিয়ে আসতে হবে।

এদিকে বুধবার সকাল থেকেই আন্দোলনে উত্তাল ছিল ক্যাম্পাস।

আজ বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টার মধ্যে হল না ছাড়লে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে।

এদিন দুপুর ২টার দিকে হল প্রভোস্ট কমিটির বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি অধ্যাপক বশির আহমেদ এই তথ্য জানান।

মঙ্গলবারও একই নির্দেশ দেয়ার পরও হল ছাড়েননি অনেক শিক্ষার্থীরা। হল ছাড়ার নির্দেশ আসার পর উপাচার্যের পদত্যাগের বিষয়টি আরো জোরালো হয়।

তবে আন্দোলনকারী ঘোষণা দিয়েছেন তারা আন্দোলন থামাবেন না। রাতে হলে অবস্থান করার চেষ্টা করবেন।

প্রশাসনের বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে, রাতে হলে তল্লাশি চালাতে পারে পুলিশ।

জানতে চাইলে আন্দোলনের শিক্ষার্থী সংগঠক ও ছাত্র ইউনিয়নের জাবি সংসদের সভাপতি নজির আমিন চৌধুরী জয় বলেন, প্রশাসন গায়ের জোরে হল খালি করতে বলেছে। আমরা রাতে হলে থাকার চেষ্টা করব। যদি প্রশাসন বাধা দেয় তাহলে আমরা ক্যাম্পাসের আশেপাশে থাকব এবং আগামীকাল ফের আন্দোলন করব।

বিকেল তিনটার মধ্যে হল ছাড়ার ব্যাপারে প্রশাসনের হুঁশিয়ারিতে ক্যাম্পাসে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নতুন করে হল ছাড়তে দেখা যায় অনেক শিক্ষার্থীকে।

এর আগে সকাল ৯টা থেকেই আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুরাদ চত্ত্বরে জমায়েত হতে থাকেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যালয় খুললে আন্দোলনকারীরা গিয়ে সেগুলো বন্ধ করে দেন।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে একটি মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করেন তারা। মিছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরনো প্রশাসনিক ভবনের সামনে গিয়ে সংহতি সমাবেশে মিলিত হয়।

এসবি

আরও পড়ুন... 
হল ত্যাগের নির্দেশ প্রত্যাখ্যান
সাড়ে ৩টার মধ্যে হল না ছাড়লে ব্যবস্থা

 

ক্যাম্পাস: আরও পড়ুন

আরও