বুয়েটে সন্ত্রাস-সাম্প্রদায়িকতা রুখতে ছাত্র-শিক্ষকদের গণ-শপথ

ঢাকা, বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯ | ২৯ কার্তিক ১৪২৬

বুয়েটে সন্ত্রাস-সাম্প্রদায়িকতা রুখতে ছাত্র-শিক্ষকদের গণ-শপথ

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৩:২৪ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৬, ২০১৯

বুয়েটে সন্ত্রাস-সাম্প্রদায়িকতা রুখতে ছাত্র-শিক্ষকদের গণ-শপথ

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর অভিযুক্তদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম।

তিনি আজ বুধবার দুপুরে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের এক শপথ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

এর আগে নিপীড়ন, সন্ত্রাস ও রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাস গড়ার শপথ নেন বুয়েটের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। দুপুরে বুয়েট মিলনায়তনে এই গণ-শপথ কর্মসূচি পালিত হয়।

শপথ অনুষ্ঠানে বুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম, ছাত্রকল্যাণ দফতরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমানসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভিন্ন হলের প্রভোস্টরাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন৷ শপথবাক্য পাঠ করান বুয়েটের ১৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী রাফিয়া রিমকি।

এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা এক সারিতে দাঁড়িয়ে সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িক শক্তিকে রুখে দেয়ার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হন। শপথ অনুষ্ঠানের আগে প্রথমে আবরারের প্রতি সম্মান জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়৷

এই গণ-শপথের মধ্য দিয়ে আবরার হত্যার বিচার দাবিতে বুয়েট শিক্ষার্থীদের মাঠের আন্দোলনের সমাপ্তি ঘটলো। তবে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রম বর্জন অব্যাহত থাকবে।

শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, চার্জশিট হওয়ার পর অভিযুক্তদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার না করা পর্যন্ত কোনো অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমে অংশ নেবেন না তারা৷

শপথ গ্রহণ শেষে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী সায়েম বলেন, ‘ধন্যবাদ জানাতে চাই বুয়েট প্রশাসনকে। আমাদের দাবিগুলো মেনে নিয়ে বাস্তবায়নের দিকে যাওয়ার জন্য। আজকে শপথের মাধ্যমে মাঠের আন্দোলন শেষ হলেও ১০ দফা দাবির বিষয়ে আমাদের পর্যবেক্ষেণ চলবে৷

তবে এ বিষয়ে উপাচার্য শিক্ষার্থীদের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে সময় নষ্ট না করার আহ্বান জানান৷

যে শপথ নিলেন বুয়েট শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা

‘আমি প্রতিজ্ঞা করছি যে, আজ এই মুহূর্ত থেকে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের একজন সদস্য হিসেবে আমি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সবার কল্যাণ ও নিরাপত্তার নিমিত্তে আমার ওপর অর্পিত ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক, নৈতিক ও মানবিক সর্ব প্রকার দায়িত্ব সর্বোচ্চ সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করবো৷ এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙ্গিনায় আমার জ্ঞাতসারে হওয়া প্রত্যেক অন্যায়, অবিচার ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে আমি সর্বদা সোচ্চার থাকবো৷ আমি আরও প্রতিজ্ঞা করছি যে, এই বিশ্ববিদ্যালয়ে সব প্রকার সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িক অপশক্তির উত্থানকে আমরা সম্মিলিতভাবে রুখে দেবো। নৈতিকতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সব ধরনের বৈষম্যমূলক অপসংস্কৃতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহার আমরা সমূলে উৎপাটিত করবো৷ এই আঙ্গিনায় আর যেন কোনো নিষ্পাপ প্রাণ ঝড়ে না যায়৷ আর কোনো নিরাপরাধ শিক্ষার্থী যেন অত্যাচারের শিকার না হয়৷ তা আমরা সবাই মিলে নিশ্চিত করবো৷’

উল্লেখ্য, গত ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলের ১০১১ নম্বর কক্ষের আবাসিক শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে একই হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে ডেকে নেওয়া হয়। এর পর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্প্রতি সম্পাদিক চুক্তি নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়া ও শিবির সন্দেহে তাকে বেদম মারধর করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

এর পর মধ্য রাতে হলের সিঁড়ি থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনার পর থেকে ১০ দফা দাবিতে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। তবে গত শুক্রবার বুয়েট প্রশাসন দ্রুত বাস্তবায়নযোগ পাঁচ দফা মেনে নিলে আন্দোলন দুই দিনের জন্য স্থগিত করেন শিক্ষার্থীরা। ফলে গত ১৪ অক্টোবর বুয়েটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠান সম্ভব হয়।

এর পর গতকাল মঙ্গলবার শিক্ষার্থীরা মাঠের আন্দোলনের সমাপ্তি ঘোষণা করেন। তবে হত্যাকারীদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত একাডেমিক কার্যক্রমে অংশ না নেওয়ার কথা জানান।

আবরার হত্যার ঘটনায় ১৯ জনকে আসামি করে পর দিন চকবাজার থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন তার বাবা। এ মামলার এজাহারভুক্ত ১৯ আসামিসহ এ পর্যন্ত ২০ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

এমকে/আরপি

 

ক্যাম্পাস: আরও পড়ুন

আরও