বুয়েটে শিক্ষকদের আশ্বাসে ‘স্বস্তিতে’ আন্দোলনকারীরা

ঢাকা, রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯ | ৪ কার্তিক ১৪২৬

বুয়েটে শিক্ষকদের আশ্বাসে ‘স্বস্তিতে’ আন্দোলনকারীরা

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ৫:০৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ০৯, ২০১৯

বুয়েটে শিক্ষকদের আশ্বাসে ‘স্বস্তিতে’ আন্দোলনকারীরা

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ ও বিশ্ববিদ্যালয়টির তিন শতাধিক শিক্ষকের আশ্বাসে অনেকটাই স্বস্তি ফিরেছে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের মাঝে।

বুধবার তৃতীয় দিনের মতো সকাল থেকেই আন্দোলনে থাকা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে কথা বলেন শিক্ষকরা।

সেখানে আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের দেওয়া ১০ দফা দাবির সঙ্গে সম্পূর্ণরূপে একমত পোষণ করেন শিক্ষকরা।

প্রায় ঘণ্টাব্যাপি আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও আন্দোলনের সঙ্গে একমত পোষণ করা শিক্ষকদের মধ্যে চলে কথোপকথন। এ সময় শিক্ষার্থীরা আবরার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বেশ কিছু দুর্বলতা শিক্ষকদের সামনে তুলে ধরেন।

এ সময় শিক্ষক ছাত্রদের মধ্যে তৈরি হয় বিতর্ক। এমনকি আবরার হত্যাকাণ্ডের সেই রাতে শিক্ষক সমিতির ছাত্রদের দায়িত্বে থাকা পরিচালক অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমানের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে মিজানুর রহমান সেদিন রাতে তার করণীয় বিষয়ে অপারগতার কথা প্রকাশ করেন।

এতে মিজানুর রহমানের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দেয় শিক্ষার্থীরা।

এসময় মিজানুর রহমান বলেন, আমার পদত্যাগে সমস্যা নেই। তবে আমি চাই আবরার হত্যাকাণ্ডের উপযুক্ত বিচার হোক। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিচার এবং হত্যাকাণ্ডে প্রশাসনিক ব্যর্থতার দায়ে ভিসির পদত্যাগ দাবি করছি।

এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিক্ষুব্ধ ছাত্র এবং শিক্ষক সমিতির সদস্যদের সমন্বয়ে আবরার হত্যাকাণ্ডের বিচারের প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে একটি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর থেকেই বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বিচ্ছিন্ন হয়ে বিভিন্ন জায়গায় জটলা বেধে অবস্থান করতে দেখা গেছে।

আবরার হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে শিক্ষকদের একমত পোষণ করে গৃহীত উদ্যোগের প্রতি সন্তোষ জানিয়ে পরিবর্তন ডটকমকে বুয়েটের ১৫ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সৌম্য বলেন, যেহেতু শিক্ষক সমিতি বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে, এজন্য আমরা আপাতত অনেকটাই স্বস্তিবোধ করছি। তবে তাদের উদ্যোগ এবং আমাদের দাবিগুলো বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। চলবে আমাদের আন্দোলনও।

তিনি বলেন, এমনকি আগামী ১৭ অক্টোবর বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার সকল কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।  কারণ যে অবস্থায় একটি সুশৃংখল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হত্যার ঘটনা ঘটে সেখানে বুঝতে হবে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার কোন পরিবেশ নেই। ফলে যেখানে শিক্ষার পরিবেশ নেই, সেখানে নতুন ছাত্র ভর্তির পরীক্ষা হতে পারে না।

এসএস/এসবি

 

ক্যাম্পাস: আরও পড়ুন

আরও