‘টাকার ভাগ পেয়েছি, উপাচার্যের ছেলের ফোনালাপ বের করলে প্রমাণ হবে’

ঢাকা, সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯ | ২৯ আশ্বিন ১৪২৬

‘টাকার ভাগ পেয়েছি, উপাচার্যের ছেলের ফোনালাপ বের করলে প্রমাণ হবে’

জাবি প্রতিনিধি ৯:১১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৯

‘টাকার ভাগ পেয়েছি, উপাচার্যের ছেলের ফোনালাপ বের করলে প্রমাণ হবে’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) সাড়ে চৌদ্দশ কোটি টাকার অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্প থেকে টাকার ভাগ পাওয়া নিয়ে ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর সাথে শাখা ছাত্রলীগের এক নেতার ফোনালাপ ফাঁসে নতুন চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে ক্যাম্পাসে।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে আন্দোলনকারীরা প্রায় একমাস ধরে দুর্নীতির অভিযোগ করে আসলেও ভাইরাল ফোনালাপ ফাঁসে অভিযোগের বিষয়ে নতুন মাত্রা পেয়েছে।

ফাঁসকৃত ফোনালাপে শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইনকে রাব্বানীর সাথে বলতে শোনা যায়, উপাচার্য তার বাসভবনে বৈঠক করে তাদেরকে টাকা দিয়েছেন।

তবে এ ফোনালাপকে উপাচার্যের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র দাবি করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কার্যালয় থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়, উপাচার্যকে জড়িয়ে রোববার বিভিন্ন গণমাধ্যমে যে ফোনালাপ প্রচারিত-প্রকাশিত হয়েছে তা অসত্য এবং উদ্দেশ্যমূলক।

ফাঁসকৃত ফোনালাপে রাব্বানীর সাথে কথা বলা জাবি ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইন ও আরেক নেতা সহ-সভাপতি নিয়ামুল হক তাজ সোমবার দাবি করেছেন তারা কোনো ষড়যন্ত্র করছেন না। গত ৯ আগস্টের আগে পরে ভিসির ছেলের সাথে মোবাইলে তাদের যেসব কথা হয়েছে সেসব বের করলেই সবকিছু পরিষ্কার হয়ে যাবে।

দাবি করেছেন কে কত টাকা পাবে তা উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম তার বাসভবনে বৈঠক করে ঠিক করে দিয়েছেন।

তারা দুজনেই দাবি করেন, শাখা সভাপতি-সেক্রেটারির সাথে তারা নিজেরাও সে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এবং টাকার ভাগও পেয়েছেন।

সাদ্দাম বলেন, ‘পাল্টাপাল্টি অভিযোগের চেয়ে বরং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যদি চায় প্রশাসনের সাথে সে সময় যে (মুঠোফোনে) কনভার্সেশন হয়েছে সেটা বের করবে, আমরা সর্বোচ্চ সহযোগিতা করব, সেটা বের হলেই পরিষ্কার হয়ে যাবে দুর্নীতি ছিল নাকি ষড়যন্ত্র ছিল। ৯ তারিখের (আগস্ট) আগে পরে আমার এবং আমার বন্ধু তাজের সাথে ভিসির ছেলের সাথে ফোনের কনভার্সেশনটা বের করলে আর কোনো প্রশ্ন বা কোনো কিছু বলার অবকাশ থাকবে না।’

সাদ্দাম আরও বলেন, ‘ভিসি ম্যাম ও তার পরিবারের সঙ্গে আমাদের আলোচনার প্রেক্ষিতে তিনি আমাদেরকে এই আর্থিক সহযোগিতা করেছিলেন। আমরা তো কোনো চাঁদাবাজি করিনি। বরং যখন শিডিউল ছিনতাইয়ের অভিযোগ ওঠে আমি তাজ শামিম গিয়ে সকলকে শিডিউল কিনতে ও জমা দেয়ার পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে জানিয়েছিলাম।’

নিয়ামুল হক তাজ বলেন, ‘আমরা (তাজ-সাদ্দাম গ্রুপ) পেয়েছি ২৫ লাখ। সভাপতি কত পেয়েছে, সেক্রেটারি কত পেয়েছে সেটা আমরা জানি না। বেশিও পেতে পারে। আমাদেরকে বলা হয়েছে (৯ আগস্টের মিটিংয়ে) তোমরা ২৫ নিবা, ওর ৫০ (সভাপতি জুয়েল রানার), ও ২৫ (সেক্রেটারি চঞ্চল) নিবে।’

তবে শাখা সভাপতি জুয়েল রানা টাকা পাওয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, ‘এসবই ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের ষড়যন্ত্র। যারা এসব ফাঁস করেছে তাদের উদ্দেশ্য বিশ্ববিদ্যালয়ক অস্থিতিশীল করা।’

গণমাধ্যমে প্রশাসনের দেয়া বিবৃতিতে বলা হয়, ‘উপাচার্যের সঙ্গে টাকা ভাগের কোনো আলাপ হয়নি। তিনি কাউকেই অর্থ প্রদান করেন নি। গোলাম রাব্বানী উপাচার্যকে বিতর্কিত করার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে এই ফোনালাপের গল্প তৈরি করেছেন। এ ধরনের পরিকল্পিত মিথ্যা গল্পের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।’

এইচআর

 

ক্যাম্পাস: আরও পড়ুন

আরও