রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মচারীদের আন্দোলন, প্রশাসনিক ভবনে তালা

ঢাকা, বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯ | ২৯ কার্তিক ১৪২৬

রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মচারীদের আন্দোলন, প্রশাসনিক ভবনে তালা

বেরোবি প্রতিনিধি ৭:৩৮ অপরাহ্ণ, জুলাই ০৮, ২০১৯

রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মচারীদের আন্দোলন, প্রশাসনিক ভবনে তালা

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে আবারো প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে সর্বাত্মক কর্মবিরতি আন্দোলন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করছেন ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারীরা।

আন্দোলনের ১২ তম দিনে সোমবার সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত প্রশাসনিক ভবনের দুইটি গেটে তালা ঝুলিয়ে আন্দোলন করেন কর্মচারী সমন্বয় পরিষদ।

এর আগে রোববার কর্মচারীরা রেজিস্ট্রার দপ্তরে তালা দিলে পুলিশের সহযোগিতায় বিকাল ৫টায় সেই তালা ভেঙ্গে দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কর্মচারীদের এই আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক এবং একাডেমিক সকল কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।

জানা যায়, আপগ্রেডেশন-প্রমোশন ও নীতিমালা প্রণয়নসহ তিন দফা দাবিতে টানা ১২ দিন ধরে সর্বাত্মক কর্মবিরতি পালন করছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বিত কর্মচারী পরিষদ। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগগুলোর ভর্তি ও ফরম ফিলাপের চলতি কাজ সম্পন্ন করতে পারছেন না শিক্ষার্থীরা। কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিয়ারিং বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষা বর্ষের শিক্ষার্থীদের ভর্তি গত জুন মাসের ২৭ তারিখে হলেও এখনো তারা ফরম ফিলাপ করতে পারছেন না। একই বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা ৩০ জুন ভর্তি হলেও এ পর্যন্ত ফরম ফিলাপ করতে পারেনি।

সোমবার গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা ভর্তি হতে গেলে তাদেরকে প্রশাসনিক ভবনে প্রবেশ করতে দেয়নি আন্দোলনরত কর্মচারীরা। পরে তারা ডিপার্টমেন্ট এ ফিরে গেলে তাদের আজকের ভর্তি স্থগিত করেছে বিভাগটি। এতে করে শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। এ সময় তারা বিভিন্নভাবে নিজেদের সেশনজটের কথা বর্ণনা করেন। চলমান সেমিস্টার ৯ মাসেরও বেশি চলছে এমন কথাও বলছেন তারা। এদিকে রসায়ন বিভাগের ২০১৫-১৬ সেশনের ভর্তি হলেও তাদের ফরম ফিলাপও থেমে আছে কর্মচারীদের এই আন্দোলনের কারণে।

কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক আবু কালাম মো. ফরিদ উল ইসলাম বলেন, আমাদের দুইটি বিভাগের ফরম ফিলাপ আটকে আছে। বিভাগ থেকে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তারা ব্যবস্থা নিলেই আমরা ফরম ফিলাপ করাতে পারবো।

এ বিষয়ে কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি নুর আলম বলেন, আমরা আমাদের যৌক্তিক দাবি নিয়ে আন্দোলনে নেমেছি। শিক্ষার্থীরা ডিপার্টমেন্টে চাপ দিলে তারা প্রশাসনকে জানাবে। প্রশাসন আমাদের দাবি মেনে নিলেই আমরা এই আন্দোলন তুলে নেব। আন্দোলন শুরু হওয়ার পর থেকে রেজিস্ট্রার বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজ দপ্তরে আসছেন না। আমরা তাকে পাচ্ছি না। তাদের অবহেলা আর আমাদেরকে বঞ্চিত করার কারণে আজ শিক্ষার্থীদেরকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। আমরা শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে নই। তবে আমাদের দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কারো সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

এমএ/পিএসএস

 

ক্যাম্পাস: আরও পড়ুন

আরও