প্রধানমন্ত্রীর সামনে যা বললেন ভিপি নূর

ঢাকা, সোমবার, ১৭ জুন ২০১৯ | ৩ আষাঢ় ১৪২৬

প্রধানমন্ত্রীর সামনে যা বললেন ভিপি নূর

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ১১:৩৯ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৬, ২০১৯

প্রধানমন্ত্রীর সামনে যা বললেন ভিপি নূর

কোটা সংস্কারসহ নানা কারণে সমালোচিত হলেও আজ গণভবনে ভিন্ন পরিবেশের তৈরি করেছেন ভিপি নূর। প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে ডিনারে অংশ নেন তিনি। এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নবনির্বাচিত সহ-সভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুর প্রধানমন্ত্রীর সামনে দীর্ঘ বক্তৃতা করেন।

শনিবার বিকেলে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ডাকসু নেতাদের শুভেচ্ছা বিনিময়কালে নুরের বক্তব্য নিয়ে সবার জানার আগ্রহ তৈরি হয়। মুহুর্মুহু করতালি তারই প্রমাণ।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অনুষ্ঠানমঞ্চে ছিলেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও ডাকসুর নবনির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নূর, ডাকসুর জিএস ও ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। 

ছাত্রলীগ সভাপতি শোভনকে পরাজিত করে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ প্যানেল থেকে ভিপি নির্বাচিত হন নূর। এ নূরের বক্তব্য নিয়ে সবারই আগ্রহ।

এজন্য তার পুরো বক্তব্য তুলে ধরা হলো:

নুরুল হক নূর বলেন, আড়াই বছর বয়সে আমার মা মারা যায়। আমার মায়ের যতটুকু মনে করতে পারি সেটা খুঁজে পেয়েছিলাম আমরা প্রাইমারির একজন শিক্ষিকার মধ্যে। আর আজকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে সামনাসামনি দেখে আমার মনে হয়েছে যে, সেই মাতৃত্বের ছায়াটা আমি নেত্রীর মধ্যে খুঁজে পেয়েছি।

এ সময় উপস্থিত ছাত্র নেতাদের করতালীতে মুখরিত গণভবনের ব্যাক্টোয়েট হল।

নূর বলেন, আমি শুধু ছাত্রলীগের কর্মীই ছিলাম না, ছোটখাট একটা নেতাও ছিলাম, পোস্টেড ছিলাম। আমি বিভিন্ন গ্রোগ্রামে গিয়েছি। আমি দেখেছি নেত্রীকে। দূর থেকে দেখেছি, টিভিতে দেখেছি। আজকে কাছে থেকে সরাসরি দেখেছি।

পুরো পরিবার ছিল আওয়ামী লীগ ব্যাকগ্রাউন্ডের জানিয়ে ডাকসু ভিপি বলেন, আমি স্কুল কমিটির ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক ছিলাম। ২০১৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয় বর্ষে থাকা অবস্থায় উপ-মানবসম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক পদে ছিলাম। অথচ কোটা সংস্কার আন্দোলনের কারনে-বিনয়ের সঙ্গে বলবো যে, আমার ছাত্রলীগের ভাই-বন্ধুরাও কেন যেন আমাকে জামাত-শিবির বানানোর জন্য অপপ্রচার তুলেছিল।

বক্তব্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধ ‍ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসা করেন নূর। বক্তব্য শেষে প্রধানমন্ত্রীকে কদমবুছিও করেন তিনি।

শেখ হাসিনার দৃঢ় নেতৃত্ব ও উন্নয়নকাজ বিশ্বে তাকে প্রশংসনীয় অবস্থানে নিয়েছে উল্লেখ করে ভিপি নূর ডাকসু কার্যকরে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে স্বৈরতান্ত্রিক মনোভাবসহ বিভিন্ন অভিযোগ করেন নূর।

এ সময় তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে ন্যায্য দাবিতে আন্দোলন করতে গিয়ে বহিস্কার হওয়ার কথাও উল্লেখ করেন।

নুরুল হক বলেন, আমরা একটি কথাই বলতে চাই যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কখনো অন্যায়ের পক্ষ নেয়নি। সবসময় ন্যায়ের পক্ষেই ছিল। দেশের সকল মঙ্গলের পক্ষে ছিল। সব মঙ্গল কাজের সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা থাকবে। ডাকসুর নবনির্বাচিত আমরা যারা রয়েছি সেই কাজকে এগিয়ে নিয়ে যেতে আমরা সহযোগিতা করবো।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সংগ্রামী জীবনের প্রশংসা করে ডাকসু ভিপি বলেন, বঙ্গবন্ধু শুধু আওয়ামী লীগের নেতা নন, তিনি সারা বাংলাদেশের ও সারা বিশ্বের নেতা। জাতির পিতা বলেছিলেন- যদি কেউ ন্যায্য কথা বলে এবং সংখ্যায় যদি একজনও হয় আমরা সেটা মেনে নেব। সুতরাং যারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কথা বলবেন তারা এ জিনিসিটা ধারল করবেন।

নূর বলেন, যারা দেশরত্ন শেখ হাসিনার কর্মী হিসেবে পরিচয় দেবেন, তার যে আদর্শ সাদামাটা জীবন এটাই ছাত্র রাজনীতির বৈশিষ্ট্য এটাকে ধারণ করবেন। আমি মনে করি আমাদের প্রধানমন্ত্রীর এই নীতি শুধু ছাত্রলীগের নয়, ছাত্র রাজনীতির সবারই মনে রাখা উচিৎ।

বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বের গুণাবলি শেখ হাসিনা পেয়েছেন মন্তব্য করে নুরুল হক বলেন, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা, যার নেতৃত্বে বর্তমানে বাংলাদেশ বিশ্বে উন্নয়নের একটি রোল মডেল হিসেবে পরিচিত এবং তার লিডারশিপের কারনে আমরা দেখেছি যে, বিশ্বের বড় বড় নেতাদের মাঝে তার স্থান করে নিতে পেরেছেন।

শিক্ষার্থীদের আবাসন সমস্যা, কারিকুলাম আধুনিকায়নসহ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন নুরুল হক।

এসইউজে/এআরই