উপাচার্য-কাউন্সিলের সুপারিশ সত্ত্বেও ছাত্রত্ব হারাচ্ছেন মাসুদ

ঢাকা, সোমবার, ২১ জানুয়ারি ২০১৯ | ৮ মাঘ ১৪২৫

উপাচার্য-কাউন্সিলের সুপারিশ সত্ত্বেও ছাত্রত্ব হারাচ্ছেন মাসুদ

বেরোবি প্রতিনিধি ১২:২০ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৩, ২০১৯

উপাচার্য-কাউন্সিলের সুপারিশ সত্ত্বেও ছাত্রত্ব হারাচ্ছেন মাসুদ

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের বিশেষ অনুমতি এবং একাডেমিক কাউন্সিলের সুপারিশের পরও ছাত্রত্ব থাকছে না ম্যানেজম্যন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মাসুদ রানার।

ম্যানেজম্যান্ট স্ট্যাডিজ বিভাগ ও একাডেমিক কাউন্সিলের উদাসীনতার কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মাসুদ রানা।

সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা যায়, মাসুদ রানা বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজম্যান্ট স্টাডিজ বিভাগের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী (রেজিস্ট্রেশন নং-০০০০০৬৪৯, আইডি নং-১৪৬০১২)। ব্যক্তিগত কারণে উক্ত সেশনে ক্লাসে অংশগ্রহন না করে পরবর্তী সেশনে (২০১৫-১৬) পুন:ভর্তি হয়ে ১ম বর্ষ ১ম ও ২য় সেমিস্টার সম্পন্ন করেন।

পরবর্তীতে তিনি পারিবারিক ও ব্যক্তিগত কারণে ২০১৫-১৬ সেশনের ২য় বর্ষ ১ম সেমিস্টার ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেনি।

তার আবেদনের প্রেক্ষিতে এবং বিভাগীয় প্রধানের সুপারিশের ভিত্তিতে তাকে ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে পুন:ভর্তির জন্য সুপারিশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিল।

কিন্তু একাডেমিক কাউন্সিলের সুপারিশের পরও তাকে কোনো ধরনের চলমান পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ না দিয়ে শুধুমাত্র ফাইনাল পরীক্ষায় অংশগ্রহনের সুপারিশ করা হয়। ফলে, মাসুদ ওই সেমিস্টারে উত্তীর্ণ হতে পারেননি।

বিষয়টি সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. মো: মোর্শেদ হোসেন বলেন, ‘একাডেমিক কাউন্সিল যদি কাউকে কোনো সেমিস্টারে ভর্তির জন্য সুপারিশ করে তাহলে তাকে পুরো সেমিস্টারে যতগুলো পরীক্ষা আছে সবগুলোর জন্যই সুপারিশ করবে। শুধুমাত্র ফাইনাল পরীক্ষার জন্য নয়।’

কিন্তু মাসুদকে প্রতিটি কোর্সের শুধুমাত্র ৫০ মার্কের ফাইনাল পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়ায় মাসুদ ওই পরীক্ষায় পাশ মার্ক তুলতে ব্যর্থ হন।

এদিকে, মাসুদের আবেদনের প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য তাকে পুন:ভর্তি হওয়ার জন্য শেষবারের মতো সুযোগ প্রদান করেন।

কিন্তু অজ্ঞাত কারণে উপাচার্যের সুপারিশ আজও সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠানো হয়নি।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মাসুদ রানা বলেন, ‘একাডেমিক কাউন্সি আমাকে ২য় বর্ষ ১ম সেমিস্টারে ভর্তির জন্য সুপারিশ করলেও বিভাগ থেকে আমাকে শুধুমাত্র ফাইনাল পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়া হয়। ইনকোর্স মিডটার্মসহ চলমান কোনো পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়া হয়নি। সুযোগ দিলে আমি পরীক্ষায় পাশ করে আমার পড়ালেখা চালিয়ে যেতে পারতাম। পরবর্তীতে পড়ালেখা চালানোর জন্য রেজিস্ট্রার বরাবর আবেদন করি যাতে আমাকে ২০১৭-১৮ সেশনের সাথে ২য় বর্ষ ১ম সেমিস্টার থেকে পড়াশুনা চালানোর অনুমতির জন্য। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে উপাচার্য মহোদয় আমাকে বিশেষ পারমিশন দিলেও সেই অনুযায়ী আমাকে কোনো সুযোগ দেয়া হচ্ছে না। আমাকে সুযোগ দেয়া হলে আমি আমার পড়াশুনা চালিয়ে যেতে পারতাম।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা জানান, ‘মাসুদকে সুপারিশ করাটা নিয়মের মধ্যে পড়ে না। ভুলক্রমে এটি হয়ে গেছে। এটি সংশোধন করা হবে। তাছাড়া, উপাচার্যের স্পেশাল পারমিশনের জন্য স্পেশাল কারণ থাকতে হয়। মাসুদের কোন স্পেশাল কারণ নেই। তাই, নিয়মানুযায়ী মাসুদের জন্য আর কোনো সুযোগ নেই।’

ম্যানেজম্যান্ট স্টাডিজ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মাসুদ রানা বলেন, ‘একাডেমিক কাউন্সিলের সুপারিশ যতদিনে আমাদের কাছে এসেছে ততদিনে ওর ব্যাচের সেমিস্টারের কন্টিনিউয়াস পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ হয়ে গেছে। কাজেই একাডেমিক কাউন্সিলের সুপারিশ অনুযায়ী, আমরা শুধু তার ফাইনাল পরীক্ষা নিয়েছি। তার কন্টিন্টিনিউয়াসের ইনকোর্স এবং এসাইনমেন্ট ছাড়া আর কোনো সুযোগ সে নিয়মানুয়ায়ী পায় না। কিন্তু ইনকোর্স এবং এসাইনমেন্ট পরীক্ষা নিলেও সে পাশ করতে পারতো না। এজন্য সেটাও নেয়া হয়নি।’

সার্বিক বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ডক্টর নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ’র সাথে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এআরই