জাবিতে পাখি মেলা

ঢাকা, বুধবার, ১৬ জানুয়ারি ২০১৯ | ৩ মাঘ ১৪২৫

জাবিতে পাখি মেলা

জাবি প্রতিনিধি ৫:১৭ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১১, ২০১৯

জাবিতে পাখি মেলা

পাখির প্রতি মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শুক্রবার দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হলো পাখি মেলা-২০১৯। পাখিপ্রেমী শিক্ষার্থী, দর্শনার্থীদের সরব পদচারণায় এদিন মুখর ছিল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস।

বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলানায়তনের সামনে মেলার উদ্বোধন ঘোষণা করেন উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম।

তবে মেলায় দর্শনার্থীদের সরব উপস্থিতি থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান লেকগুলোতে পাখির উপস্থিতি ছিল একেবারেই নগণ্য। এতে হতাশ হতে হয়েছে দর্শনার্থীদের।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিবছরের মতো এ বছরের শীতের শুরুতেও ঝাঁকে ঝাঁকে শীতের পাখি আসে বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকগুলোতে। তবে দু-তিন সপ্তাহ আগ থেকে পাখিরা চলে যেতে থাকে। এর জন্য দর্শনার্থীদের অসচেতন কর্মকাণ্ডকেই দায়ী করলেন পাখিবিশেষজ্ঞ অধ্যাপক কামরুল হাসান।

তিনি বলেন, দর্শনার্থীদের মাত্রাতিরিক্ত কোলাহলের কারণেই পাখিরা বিরক্ত হয়ে অন্যত্র সরে গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান তিনটি লেক ঘুরে পাখির দেখা পাওয়া যায়নি বললেই চলে। প্রশাসনিক ভবনের সামনের লেকে একটিও পাখি দেখা যায়নি। ট্রান্সপোর্ট চত্বরের পেছনের লেকেও পাখি চোখে পড়েনি তেমন। সুইমিংপুল সংলগ্ন লেকে দেখা মিলেছে হাতেগোনা অল্প কিছু পাখি।

মূলত এই তিনটি লেকেই ঝাঁকে ঝাঁকে বসে পরিযায়ী পাখিরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ছুটির দিনগুলোতে বিপুল পরিমাণ দর্শনার্থীর আগমন ঘটে। এদিনগুলোতে লেকের পাড়ে দেখা যায় দর্শনার্থীদের ব্যক্তিগত গাড়ির দীর্ঘ সারি। নিষেধাজ্ঞা থাকলেও বাজানো হয় হর্ন।

তারকাঁটার বেড়া ডিঙিয়ে দর্শনার্থীরা চলে যান পানির কাছাকাছি। লেক থেকে পদ্ম তুলতেও দেখা যায় অনেককে। নিরাপত্তাকর্মীরা ব্যক্তিগত গাড়ি নির্দিষ্ট স্থানে পার্ক করার নির্দেশনা দিলেও তা না মেনে ক্যাম্পাসের ভেতর নিয়ে যান দর্শনার্থীরা। এসব কারণেই পাখিরা অন্যত্র চলে গেছে মনে করছেন পাখিবিশেষজ্ঞরা।

তবে অধ্যাপক কামরুল হাসান জানান, প্রধান তিনটি লেকে পাখি না থাকলেও সংরক্ষিত অঞ্চল ‘ওয়াইল্ড লাইফ রেসকিউ সেন্টারে’র ভেতরের একটি লেকে এখনো পর্যাপ্ত পাখি রয়েছে। সংরক্ষিত অঞ্চল হওয়ায় এ লেকটিতে দর্শনার্থীরা সচরাচর যেতে পারেন না।

মেলার উদ্বোধনকালে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের মুখেও শোনা যায় অভিযোগের সুর। অভিযোগ করে তিনি বলেন, আমরা পাখি সংরক্ষণের জন্য লেকের পাড়ে কাঁটাতারের বেড়া দিয়েছি তা সত্ত্বেও বেড়া কেটে মানুষ ভেতরে প্রবেশ করে, পানিতে নেমে শাপলা তুলছে। আমরা যারা এখানে থাকি তারা অভ্যস্ত। আমরা এ কাজটি করি না।

তিনি আরও বলেন, বিগত শতকের ষাট-সত্তর দশকে ঢাকা সবুজ ছিল। অনেক জলাশয় ছিল। সেখানেও পাখি আসত। পাখির ডাকে ঘুম ভাঙত। এখন সেই ঢাকা নেই। জলাশয় ভরাট, ইট, পাথর, কংক্রিটের নানাবিধ কাজের মধ্য দিয়ে মানুষ সবুজ প্রকৃতি ও পাখ-পাখালির পরিবেশ নষ্ট করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রাণিবিদ্যা বিভাগ আয়োজিত দিনব্যাপী পাখি মেলার আয়োজনের মধ্যে ছিল, আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় পাখি দেখা প্রতিযোগিতা, পাখিবিষয়ক আলোকচিত্র প্রদর্শনী, শিশু-কিশোরদের পাখির ছবি আঁকা প্রতিযোগিতা, টেলিস্কোপ ও বাইনোকুলারস দিয়ে শিশু-কিশোরদের পাখি পর্যবেক্ষণ, স্টল সাজানো প্রতিযোগিতা, অডিও-ভিডিওর মাধ্যমে পাখিচেনা প্রতিযোগিতা, পাখিবিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতা এবং পুরস্কার বিতরণী ও সমাপনী অনুষ্ঠান।

এদিকে পাখি মেলার উদ্বোধনের আগে বিগ বার্ড বাংলাদেশ অ্যাওয়ার্ড, কনজার্ভেশন মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড ও সায়েন্টিফিক পাবলিকেশন অ্যাওয়ার্ড-২০১৯ দেওয়া হয়।

নতুন ও দুর্লভ প্রজাতির পাখির সন্ধান পাওয়ায় এবার বিগ বার্ড বাংলাদেশ অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন যথাক্রমে শফিকুর রহমান শুভ্র, মো. কায়েস ও তৌকির হাসান হৃদয়।

কনজারভেশন মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন রাহুল এম ইউসুফ, আদিব মুমিন আরিফ ও আবদুল্লাহ আল ওয়াহিদ। এ ছাড়া সায়েন্টিফিক পাবলিকেশন অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন মুনতাছির আকাশ।

উল্লেখ্য, ২০০১ সাল থেকে প্রতিবছর শীতকালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে এ মেলা।

এমএ