ছিনতাই রোধে পুলিশি সহায়তা পাচ্ছে না জাবি প্রশাসন!

ঢাকা, রবিবার, ২০ জানুয়ারি ২০১৯ | ৬ মাঘ ১৪২৫

ছিনতাই রোধে পুলিশি সহায়তা পাচ্ছে না জাবি প্রশাসন!

জাবি প্রতিনিধি ৮:১৫ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৫, ২০১৮

ছিনতাই রোধে পুলিশি সহায়তা পাচ্ছে না জাবি প্রশাসন!

সন্ধ্যা নামলেই ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান গেট থেকে সিএন্ডবি এলাকা যেন ছিনতাইকারীদের দখলে চলে যায়। সন্ধ্যা থেকে ভোর রাত পর্যন্ত এ এলাকায় নিয়মিতই ঘটে ছিনতাইয়ের ঘটনা।

টাকা-পয়সা খোয়ানোর পাশাপাশি এখানে প্রায়ই ছিনতাইকারীদের হাতে গুরুতর জখম হন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও এলাকায় যাতায়াতকারী স্থানীয়রা।

কিন্তু ছিনতাইকারীদের রুখতে যেন কেউ নেই।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভাষ্য, মহাসড়ক বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার বাইরে হওয়ায় সেখানে কিছুই করার থাকে না তাদের। যা করার করতে পারে পুলিশ প্রশাসন।

কিন্তু বারবার টহল জোরদারের অনুরোধ করেও কাজের কাজ হচ্ছে না কিছুই।

গত সেপ্টেম্বর মাসের শেষের দিকে পুলিশের সাথে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভর্তি পরীক্ষা পূর্ববর্তী সভায় এ বিষয়টি নজরে আনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সভায় এ এলাকায় রাতের বেলায় টহল জোরদারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল পুলিশ। তবে সেটি আর কাজে পরিণত হয়নি। ছিনতাইও কোন অংশে কমেনি।

নভেম্বর মাসে এ এলাকায় ১০টিরও বেশি ছিনতাইয়ের ঘটনার কথা জানা গেছে।

সর্বশেষ গত ২৬ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন টহল জোরদারের জন্য ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার বরাবরে ফের লিখিত অনুরোধ জানায়।

বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজ স্বাক্ষরিত ওই অনুরোধপত্রে বলা হয়, ‘ভর্তি পরীক্ষার পূর্বে পুলিশ প্রশাসনের সাথে অনুষ্ঠিত সভায় উক্ত এলাকায় রাতে পুলিশ টহল জোরদারের ব্যবস্থা করবেন বলে জানিয়েছিলেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় দিন দিন উক্ত এলাকায় ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়েই চলছে।’

তবে এরপর ডিসেম্বর মাসেও কমেনি ছিনতাইয়ের ঘটনা।

সর্বশেষ গত বুধবার এ এলাকায় অন্তত ৩ জন সাবেক-বর্তমান শিক্ষার্থী ছিনতাইয়ের শিকার হন। শুক্রবারও ঘটে একটি ছিনতাইয়ের ঘটনা।

শিক্ষার্থীরা বলছেন বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাতেও যদি তারা নিরাপত্তা না পান তাহলে এটি খুবই অনাকাঙ্খিত।

ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম অনিক বলেন, ‘এ এলাকায় ছিনতাইয়ের ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। দিনের পর দিন এখানে ছিনতাইয়ের শিকার হয়ে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। নিশ্চয়ই এখানে একটা শক্তিশালী ছিনতাই চক্র গড়ে উঠেছে। এই চক্রকে থামাতে না পারা আমি মনে করি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের চরম ব্যর্থতা।’

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সিকদার মো. জুলকারনাইন বলেন, ‘আমরা বারবার পুলিশকে বলছি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য। যেদিন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গেলেন এ রাস্তা দিয়ে সেদিনও তিনটা ঘটনা ঘটেছে।’

নিয়মিত ছিনতাই হচ্ছে না দাবি করে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মো. রেজাউল হক বলেন, ‘নিয়মিত ছিনতাই হচ্ছে কথাটা ঠিক না। গত ৭ দিনের ভিতর গতকাল একটা ছিনতাইয়ের ঘটনার সংবাদ আমরা পেয়েছি। আর আমাদের ওখানে টহল দেয়া আছে। এই যে, ১৬ ডিসেম্বর উপলক্ষে একটু শিথিল হয়ে গেছে ভিআইপি ডিউটি করার কারণে। কালকে ভিআইপি ডিউটি শেষ হয়ে গেলে আমরা বিশেষ নজর দেব। ওখানে আর কিছু হবে না।’

এইচএএম/এএসটি