চবি ছাত্রলীগে ফের সংঘর্ষ, এক নেতা আটক

ঢাকা, বুধবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮ | ৫ পৌষ ১৪২৫

চবি ছাত্রলীগে ফের সংঘর্ষ, এক নেতা আটক

চবি প্রতিনিধি ৯:০৮ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১১, ২০১৮

চবি ছাত্রলীগে ফের সংঘর্ষ, এক নেতা আটক

একদিনের ব্যবধানে ফের সংঘর্ষে জড়িয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ছাত্রলীগের দুই গ্রুপ। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দফায় দফায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

দিনব্যাপি দফায় দফায় মারামারিতে দুই গ্রুপের তিন জন আহত হয়েছে। সেইসাথে জিঞ্জাসাবাদের জন্য শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর জীবনকে আটক করেছে পুলিশ।

সন্ধ্যা ৭টায় এ সংবাদ লেখা পর্যন্ত বিজয় গ্রুপের নেতা কর্মীরা সোহরাওয়ার্দী হলে এবং সিএফসি গ্রুপের নেতাকর্মীরা শাহ্ আমানত হলে অবস্থান নিয়েছিল এবং দুই হলের সামনে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন ছিল। বর্তমানে ক্যাম্পাস জুড়ে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে।

আহতরা হলের, ছাত্রলীগকর্মী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ স্টাডিজ বিভাগের ২০১৭-১৮ সেশনের শিক্ষার্থী মো. আক্তার ও আবিদ। এরা চবি ছাত্রলীগের বগিভিত্তিক গ্রুপ বিজয় গ্রুপের ও শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক  এইচ এম ফজলে রাব্বি সুজনের অনুসারী হিসেবে ক্যাম্পাসে পরিচিত।

আহত আরেক ছাত্রলীগকর্মী হলেন রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র ইয়াসিন রুবেল। রুবেল চবি ছাত্রলীগের বগিভিত্তিক গ্রুপ সিএফসি গ্রুপের ও শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি জামান নূরের অনুসারী হিসেবে ক্যাম্পাসে পরিচিত।

এ ছাড়া ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিবাধমান এই দুটি গ্রুপই আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের অনুসারী হিসেবে ক্যাম্পাসে পরিচিত।

এর আগে গতকাল বুধবার ২১ আগস্ট গ্রেনেট হামলার রায়ের প্রতিক্রিয়ায় আনন্দ মিছিলকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি)  ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এতে শাখা ছাত্রলীগের বগিভিত্তিক গ্রুপ বিজয় ও সিএফসি গ্রুপের ছয় নেতাকর্মীসহ ৭ জন আহত হয়। বিকাল সাড়ে পাঁচটায় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও পরে সন্ধ্যা থেকে বারোটা পযন্ত চলে দুই গ্রুপের মধ্যে ইট পাটকেল ছোড়াছুড়ি।

তবে আজ (বৃহস্পতিবার) সকাল থেকে দুপুর বারোটা পর্যন্ত পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত থাকলেও দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে সিএফসি গ্রুপের কয়েকজন কর্মী সোহরাওয়ার্দী হলের দিকে আসতে চাইলে সোহরাওয়ার্দী হলের সামনে অবস্থান নিয়ে থাকা বিজয় গ্রুপের কর্মীরা তাদের ধাওয়া দেয়।

সিএফসি গ্রুপের নেতাকর্মীরা তখন আমানত হলের উপর থেকে বিজয় গ্রুপের কর্মীদের উপর ইট পাথর ছুড়তে থাকে। ঘটনাস্থলে পুলিশ আসলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সোহওয়ার্দী হলের সামনে থেকে বিজয় গ্রুপের নেতা ও শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর জীবনকে জিঞ্জাসাবাদের আটক করেছে পুলিশ। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রামের হাটহাজারি মডেল থানায় রয়েছেন।

পরে বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আব্দুর রব হলে দুই বিজয়কর্মীকে মারধর করে সিএফসি গ্রুপের কর্মীরা। এর আগে বিকাল তিনটার দিকে বিশ্বদ্যিালয়ের এ এফ রহমান হলে সিএফসি কর্মী ইয়াসিন রুবেলকে মারধর করে বিজয়ের কর্মীরা। এসময় হলের ২১৮ নাম্বার রুমের জালানাও ভেঙ্গে ফেলে তারা।

এ বিষয়ে হাটহাজারী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বেলাল উদ্দিন বলেন, জিঞ্জাসাবাদের জন্য একজনকে আটক করা হয়েছে। দিনব্যাপিই পুলিশ ব্যাপক সতর্ক অবস্থানে ছিল। কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে তাই বর্তমানেও ক্যাম্পাস জুড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মোহাম্মদ আলী আজগর চৌধুরী বলেন, ক্যাম্পাসে যারা বিশৃঙ্খলা করবে তাদের সাথে সাথে আটক করা জন্য আমরা পুলিশকে বলে দিয়েছি ।

তিনি আরো বলেন, আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে অনুরোধ করবো সন্ত্রাসীদের দেখার সাথে সাথে যেন আমাদের তারা জানায়। কেউ কোন অপরাধমূলক তথ্য জানালে সাথে সাথে আমরা ব্যাবস্থা নেব।

পাশাপশি আমরা একটা অভিযোগ বক্স খোলার পরিকল্পনা করেছি। যাতে করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাদের পরিচয় গোপন করে তাদের অভিযোগগুলো আমাদের জানাতে পারে বলে তিনি জানান।

এফআর/আরজি