ইবির হলের টাকা খায় কে!

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৮ | ২ কার্তিক ১৪২৫

ইবির হলের টাকা খায় কে!

ইরফান রানা, ইবি ১:১১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০১৮

ইবির হলের টাকা খায় কে!

গত বছর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আবাসিক হলে শিক্ষার্থীদের খাবারে ভর্তুকি বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু ভর্তুকির টাকা সঠিক পরিমাণে দেয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সূত্র মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলো শিক্ষার্থীদের আসন সংখ্যা হিসেবে ভর্তুকি পেয়ে থাকে। ২০১৬ সালের ১৩ নভেম্বর প্রভোস্ট কাউন্সিলের এক সভায় হলের ভর্তুকি বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

পরে ২০১৭ সালের ৬ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩৩তম সিন্ডিকেট সভায় ওই সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।

এতে হলের শিক্ষার্থী হিসেবে ভর্তুকি মাথাপিছু মাসিক ৬০ টাকা থেকে ২০ টাকা বৃদ্ধি করে ৮০ টাকায় উন্নীত করেন কর্তৃপক্ষ।

কিন্তু সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদ্দাম হোসেন হল, খালেদা জিয়া হল, ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হল এবং শেখ হাসিনা হলে ভর্তুকি প্রদান করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ ডায়নিং ম্যানেজারদের।

বাকি তিনটি হল হিসেব অনুযায়ী ডায়নিং ম্যানেজারদের ভর্তুকি প্রদান করছে বলে জানা গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাদ্দাম হোসেন হলের আসন সংখ্যা ৪৭৫টি। এ হিসেবে প্রতিমাসে ভর্তুকি ৩৮ হাজার টাকা হওয়ার কথা। কিন্তু ডায়নিং ম্যানেজার প্রতি মাসে ৩০ হাজার টাকা পান বলে জানিয়েছেন। এ হিসেবে বিগত ১৭ মাসে ডায়নিং পরিচালককে ১ লাখ ৩৬ হাজার টাকা কম দিয়েছে হল প্রশাসন।

সাদ্দাম হোসেন হলের ডাইনিং পরিচালক আবেদ অভিযোগ করে বলেন, হলের সাবসিডি বৃদ্ধি পেয়েছে অনেক আগে। প্রতি মাসে মাত্র ৩০ হাজার টাকা দেয়া হয়।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদেরকে ভাল খেতে দিতে পারলে ভাল লাগে কিন্তু আমি কোথায় থেকে টাকা পাবো।

সাদ্দাম হোসেন হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান বলেন, হলে কত টাকা ডায়নিং ভর্তুকি দেয়া হয় তা জানা নেই।

এ বিষয়ে হলের উপ-রেজিস্ট্রার আব্দুল খালেক জানান, ডায়নিং সাবসিডি মাসিক ৩৮ হাজার টাকা হিসেবে আসে। কিন্তু ওই পরিমাণ শিক্ষার্থী ডায়নিংয়ে খায় না। তাই ডায়নিং পরিচালককে ৩০ হাজার টাকা দেয়া হয়। বাকি টাকা হলের ফান্ডে জমা রাখা হয়।

ভর্তুকির অবশিষ্ট টাকা কি কাজে ব্যয় হয় জানতে চাইলে প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান বলেন, অবশিষ্ট টাকা হলের ফান্ডে জমা হয়ে থাকলে তা শিক্ষার্থীদের জন্য প্রডাক্টিভ কাজে লাগানো হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাদ্দাম হোসেন হলের এক কর্মকর্তা জানান, হল ভর্তুকির টাকা ম্যানেজারকে কম দিয়ে হলের ফান্ডে রাখার কথা বলে থাকেন উপ-রেজিস্ট্রার খালেক। তবে ওই টাকা হলের ফান্ডে জমা করা হয় না। জমা হলে আলাদা ডুকমেন্ট থাকত।

এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের খালেদা জিয়া হলে ভর্তুকি ৩৮ হাজার ৪শত টাকার স্থলে প্রতিমাসে ১৬ হাজার টাকা, ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হলে ৩১ হাজার ৮শত ৪০ টাকার স্থলে প্রতিমাসে ১২ হাজার টাকা এবং শেখ হাসিনা হলে মাত্র ১০ হাজার টাকা প্রদান করা হচ্ছে বলে অভিযোগ ডায়নিং ম্যানেজারদের।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ও হিসেব শাখার তথ্য অনুযায়ী, সাদ্দাম হোসেন হল কর্তৃপক্ষ ২০১৭ সালের জুলাই থেকে ২০১৮ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ভর্তুকি বাবদ ৩ লাখ ৯৫ হাজার টাকা উত্তোলন করেছে।

খালেদা জিয়া হল কর্তৃপক্ষ ২০১৭ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত ভর্তুকি বাবদ ৩ লাখ ৪৬ হাজার টাকা উত্তোলন করেছে।

বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হল ২০১৭ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত ভর্তুকি বাবদ থেকে ২ লাখ ৮৮ হাজার টাকা উত্তোলন করেছে।

শেখ হাসিনা হল কর্তৃপক্ষ ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত ভর্তুকি বাবদ ২ লাখ ১৭হাজার টাকা উত্তোলন করেছে।

বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আহসান-উল-হক আম্বিয়া বলেন, সব হলে একই ভাবে ভর্তুকি প্রদান করা হয়। প্রতিমাসে ডায়নিং ম্যানেজারকে ভর্তুকি দেয়ার পরে অবশিষ্ট টাকা বছরের চার বার (বিশেষ পিকনিক) ফিস্ট আয়োজনের কাজে লাগাই।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ও হিসেব শাখায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ফিস্ট আয়োজনের জন্য আলাদা ভাবে প্রতিটি হল কর্তৃপক্ষ টাকা উত্তোলন করেন।

খালেদা জিয়া হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. অশোক কুমার চক্রবর্তী বলেন, ভর্তুকির টাকা শিক্ষার্থীদের আসন সংখ্যা হিসেবেই আসে। প্রতিদিন হলের ডায়নিংয়ে খাওয়া শিক্ষার্থীদের হিসেব করে ডায়নিং ম্যানেজারকে ভর্তুকি প্রদান করি। অতিরিক্ত টাকা হলের অন্য কাজে ব্যয় করা হয়।

শেখ হাসিনা হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান বলেন, হলের সব ছাত্রীরাই ডায়নিং এ খায় না। ফলে ছাত্রী হিসেব করে ডায়নিং ম্যানেজারকে টাকা দেয়া হয়। অবশিষ্ট টাকা হলের অন্য কাজে ব্যয় করা হয়।

ভর্তুকি কম দেওয়ার কারণে হলগুলোতে খাবারের মান উন্নত করার জন্য ডায়নিং ম্যানেজারকে চাপ দিতে পারেন না হল প্রশাসন। ফলে ডায়নিং থেকে ভাল মানের খাবার পায় না শিক্ষার্থীরা।

সাদ্দাম হোসেন হলের একাধিক শিক্ষার্থীদের দাবি, শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে ভর্তুকি বৃদ্ধি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আমাদের নামে টাকা তুলে খাবারের মান উন্নয়ন না করে ওই টাকা কি করা হয়?

বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সেলিম তোহা বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য যে ভর্তুকি দেয়া হয় তা শুধু মাত্র খাবারের জন্য ব্যয় করতে হবে। কোনো ভাবেই, অন্য কোনো কাজে ব্যয় করা যাবে না।

এসবি