৩ বিশ্ববিদ্যালয়ে একই তারিখে ভর্তি পরীক্ষা, বিপাকে শিক্ষার্থীরা

ঢাকা, শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮ | ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

৩ বিশ্ববিদ্যালয়ে একই তারিখে ভর্তি পরীক্ষা, বিপাকে শিক্ষার্থীরা

নোবিপ্রবি প্রতিনিধি ৮:২৬ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৮

৩ বিশ্ববিদ্যালয়ে একই তারিখে ভর্তি পরীক্ষা, বিপাকে শিক্ষার্থীরা

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি), নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বশেমুরপ্রবি) ভর্তি পরীক্ষার তারিখ প্রায় একই সময়ে নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে করে বিপাকে পড়েছেন এই তিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে যাওয়া নোয়াখালী অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা।

ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ এবং এই তিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার বিজ্ঞতিতে উল্লিখিত সময়সূচি থেকে একই তারিখে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

উল্লিখিত সূত্রে জানা যায়, আগামী ২৬, ২৭ এবং ২৮ অক্টোবর নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়াও আগামী ২৭, ২৮, ২৯ এবং ৩০ অক্টোবর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং ২৮, ২৯ অক্টোবর ও ২, ৩ নভেম্বর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। এই তিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় ২৭ এবং ২৮ অক্টোবর তারিখে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন।

নোয়াখালী শহরের বিভিন্ন ভর্তি কোচিং ঘুরে শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে ভর্তির তারিখ নিয়ে তাদের নানান অভিযোগ এবং সমস্যার কথা জানা গেছে।

শিক্ষার্থীরা জানান, ইচ্ছে থাকা সত্বেও তারা আবেদন করছে পারছে না। একই দিনে পরীক্ষা হওয়ায় এক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা তাদের পক্ষে একেবারেই অসম্ভব। এতে করে পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা দিতে পারছেন না বলে তারা জানান।

তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়েই মোট চারদিন এর মধ্যে দুই দিনের পরীক্ষার সময় একই হওয়ায় শিক্ষার্থীরা এই তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শুধুমাত্র একটিতেই পরীক্ষা দিতে পারবে। কারণ অন্য দুইদিনের পরীক্ষা হয়ত মিলে যাওয়া দিনগুলোর আগের দুইদিন নয়তো পরের দুইদিন অনুষ্ঠিত হবে। পথের দূরুত্বের কারণে শিক্ষার্থীরা একটি বিশ্ববিদ্যালয়েই পরীক্ষা দিতে পারবে।

আর অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে পরীক্ষার দিন মিলে যাওয়ার কারণে শিক্ষার্থীরা যেদিকে সুযোগ সুবিধা বেশি পাবে সেদিকেই ঝুঁকবে। শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে ভর্তির তারিখ নিয়ে তাদের এই সমস্যার কথা জানা গেছে।

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির বিশেষায়িত একটি কোচিং সেন্টারে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে কোচিং করা শিক্ষার্থী নন্দিতা দত্ত বলেন, নোবিপ্রবি যেহেতু আমার নিজ জেলার বিশ্ববিদ্যালয় তাই এখানে ভর্তি পরীক্ষা দেওয়ার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত ছিলাম। কিন্তু একইদিনে চবিতেও পরীক্ষা। নোবিপ্রবিতে জিপিএ মার্কস কাউন্ট করে ১০০ আর চবিতে ২০ তাই চবিতে আবেদন করেছি। যেহেতু আমার জিপিএ কম তাই নোবিপ্রবিতে আবেদন করিনি। করেও লাভ নেই পরীক্ষা তো দিতে পারব না।

এবার কুমিল্লা বোর্ডে ফলাফল বিপর্যয় হয়েছে তাই চবিতে যেহেতু জিপিএ কম কাউন্ট করা হয় তাই বেশিরভাগ শিক্ষার্থী নোবিপ্রবিতে আবেদন না করে চবিতেই করবে বলেও অভিমত দেন এই শিক্ষার্থী এবং শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে নোবিপ্রবির ভর্তি পরীক্ষার তারিখ পেছানোর দাবিও করেন তিনি।

নোয়াখালী শহরের আরো কয়েকটি কোচিং ঘুরে শিক্ষার্থীর নানান হতাশার কথা জানা যায়। একই দিনে ভর্তি পরীক্ষা হওয়ায় তারা নানান সমীকরণ চিন্তা করে এই তিন বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোন একটিকে বেছে নিতে দেখা যাচ্ছে। এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে রেখেছেন সবচেয়ে বেশি।

ভর্তিচ্ছু আরেক শিক্ষার্থীর রুকাইয়া সুলতানা বলেন, চবি সেকেন্ড টাইম নাই কিন্তু নোবিপ্রবিতে সেকেন্ড টাইম আছে। একদিকে একইদিনে পরীক্ষা অন্যদিকে সুযোগ যেহেতু একবারই আছে তাই আমি নোবিপ্রবিতে আবেদন না করে চবিতেই করেছি।

নোবিপ্রবির ভর্তি পরীক্ষার আবেদন ফি ৮০০ যা বাকি দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় বেশি। আর নতুন করে দেওয়া নোবিপ্রবির সার্কুলারে ইউনিট বৃদ্ধিসহ পরীক্ষা পদ্ধিতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। নোবিপ্রবিতে আবেদন না করার পেছনে এই কারণগুলোও তুলে ধরেন ভর্তিচ্ছু এই শিক্ষার্থী এবং সার্বিকদিক বিবেচনা করে নোবিপ্রবির ভর্তি পরীক্ষার তারিখ পেছানোর দাবিও করেন এই শিক্ষার্থী।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, যে সমস্যার কথা বলা হচ্ছে এটা যৌক্তিক। আগামী সপ্তাহে ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে মাননীয় উপাচার্যের সাথে আমাদের মিটিং আছে, আমি মিটিং এ বিষয়টি উত্থাপন করব। সেখানে উপাচার্যসহ আমরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব।

এ বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু বলে উল্লেখ করেন অ্যাপ্লাইড কেমেস্ট্রি এন্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান এবং বিশ্ববিদ্যালয় রিজেন্ট বোর্ড সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইউসুফ মিঞা। তিনিও মিটিং এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবেন বলে জানান। তবে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্টার প্রফেসর মোমিনুল হক নিশ্চিত করে কিছু জানাতে পারেননি।

এনএসএস/আরজি