নিরাপত্তার দাবিতে অনশনরত শিক্ষার্থীকে উঠিয়ে দিল রাবি প্রশাসন (ভিডিও)

ঢাকা, রবিবার, ১৯ আগস্ট ২০১৮ | ৩ ভাদ্র ১৪২৫

নিরাপত্তার দাবিতে অনশনরত শিক্ষার্থীকে উঠিয়ে দিল রাবি প্রশাসন (ভিডিও)

রাবি প্রতিনিধি ৫:১৬ অপরাহ্ণ, মে ১৭, ২০১৮

print

অনশনে বসা প্রসেনজিত মার্কেটিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি বুধবার রাতে একই বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার দাবিতে অনশনে নামেন।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম হৃদয়কে ছুরিকাঘাতের দায়ে জড়িতদের শাস্তির দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে আমরণ অনশনে বসেন প্রসেনজিত। এসময় ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক জান্নাতুল ফেরদৌস এসে তাকে অনশনে বসার কারণ এবং প্রশাসন বরাবর কোনো লিখিত অভিযোগ দিয়েছে কিনা জানতে চায়। অভিযোগ না দিলে দাবির পক্ষে লিখিত অভিযোগ দিতে বলেন।

এক পর্যায়ে তার হাতের প্ল্যাকার্ডগুলো ছিড়ে ফেলে অনশন থেকে হাত ধরে জোর করে উঠে যেতে বাধ্য করা হয়।

এসময় প্রসেনজিত গায়ে কেরোসিন ঢেলে আত্মহত্যার হুমকি দিয়ে প্রশাসন ভবন থেকে দৌঁড়ে চলে যেতে চাইলে পুলিশ তাকে ধরে প্রক্টর অফিসে নিয়ে আসে। এরপর সেখান থেকে মার্কেটিং বিভাগে সভাপতির কক্ষে আত্মহত্যা না করার পক্ষে একটি মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে অনশনে বসা শিক্ষার্থী প্রসেনজিত বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় অনশনে বসলে ছাত্র-উপদেষ্টা আমার সাথে অশালীন আচরণ করেন। আমার হাতের প্ল্যাকার্ডগুলো ছিড়ে ফেলে জোর করে উঠিয়ে দেয়।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-উপদেষ্টা অধ্যাপক জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ‘সে অনশনে বসার একপর্যায়ে আত্মহত্যার হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে তাকে পুলিশ আটক করে প্রক্টর অফিসে নিয়ে আসে। সেখান থেকে তার বিভাগে পৌঁছে দেওয়া হয়।’

এদিকে ছুরিকাঘাতের শিকার সাইফুল ইসলাম হৃদয়ের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তিনি এখনো রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসকের সাথে কথা বলে জানা যায়, এখনো সঠিক ভাবে বলা যাচ্ছে না। ২/৩ দিন পরে বুঝা যাবে যে আবার অপারেশন করতে হবে কি না।’

ঘটনার সাথে জড়িত এক শিক্ষার্থীকে বুধবার রাতেই গ্রেফতার করেছে মতিহার থানা পুলিশ। তার বিরুদ্ধে ছুরিকাঘাতের মামলাও হয়েছে।

এ বিষয়ে মতিহার থানার তদন্ত কর্মকর্তা মাহাবুবুর রহমান বলেন, ‘ গতকাল রাতেই সাইফুল বাদী হয়ে আবু হামজার নামে মামলা দায়ের করেছে।’

এদিকে ঘটনা তদন্ত করতে ড. হাসানুর রহমানকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্যান্যরা হলেন- ড. রওশন জাহিদ, নুরে আলম সিদ্দিকী, রবিউল ইসলাম, আবু সাঈদ মো. নাজমুল হায়দার।

এ বিষয়ে অধ্যাপক ড. হাসানুর রহমান বলেন, ‘আজ সাড়ে ১২টায় একটি মিটিং ডাকা হয়েছিল। ইতোমধ্যেই বেশ কিছু আলামত সামনে রেখে তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করে দিয়েছে। তদন্ত কমিটি রিপোর্ট দেওয়ার পরই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে’।

উল্লেখ্য, বুধবার রাতে বান্ধবীকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় মার্কেটিং বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম হৃদয়কে গণিত বিভাগের ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ কর্মী আবু হামজা ছুরিকাঘাত করে।

এসময় তাকে উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে গুরুতর আহতাবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।

এমএস/এফএম/

 
.


আলোচিত সংবাদ