ছাত্রলীগ কর্মীর ছুরিকাঘাতে রাবি শিক্ষার্থী গুরুতর আহত

ঢাকা, শনিবার, ১৮ আগস্ট ২০১৮ | ৩ ভাদ্র ১৪২৫

ছাত্রলীগ কর্মীর ছুরিকাঘাতে রাবি শিক্ষার্থী গুরুতর আহত

রাবি প্রতিনিধি ৩:৩২ পূর্বাহ্ণ, মে ১৭, ২০১৮

print
ছাত্রলীগ কর্মীর ছুরিকাঘাতে রাবি শিক্ষার্থী গুরুতর আহত

 

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কর্মী। বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৮টার দিকে চতুর্থ বিজ্ঞান ভবনের পাশে এই ঘটনা ঘটে। পরে সেখান থেকে উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেলে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে তাকে কর্তব্যরত ডাক্তার রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে প্রেরণ করেন। ঘটনার সাথে জড়িত একজনকে আটক করেছে মতিহার থানা।

 

আহত শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম হৃদয় বিশ্ববিদ্যালয় মার্কেটিং বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী। অভিযুক্ত ছাত্রলীগ কর্মী আবু হামজা গণিত বিভাগরে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। সে শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের অনুসারী বলে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইফুল তার বান্ধুবিকে নিয়ে তৃতীয় বিজ্ঞান ভবনের পাশে বসে ছিল। এ সময় পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় হামজা ও তার বন্ধুরা সাইফুলের বান্ধুবিকে টিজ করে। এতে সাইফুল ও হামজার মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। তবে ঘটনাস্থল থেকে সাইফুল তার বান্ধুবিকে নিয়ে চলে আসতে চাইলে হামজা তাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়। পরে বান্ধুবিকে হলে পৌঁছে দিয়ে ফেরার পথে চতুর্থ বিজ্ঞান ভবনের পাশে তুথ বাগানের কাছাকাছি আসলেই ধস্তা-ধস্তি শুরু করে। একপর্যায়ে হৃদয়কে ছুরি দিয়ে তল পেটে আঘাত করে হামজা। এতে ঘটনাস্থলে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন খবর পেয়ে দ্রুত হৃদয়কে উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেলে নিয়ে আসে। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে রামেকে পাঠায় দায়িত্বরত চিকিৎসক।

এর আগে গত সোমবার শেরইবাংলা হলে এফলিলের এক শিক্ষার্থীকে মারধর করে অভি সরকার ও কাউসার। তারাও সাদ্দামের অনুসারী ছিল বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘ঘটনাটি শুনার পরে বিজ্ঞান ভবনের সামনে গিয়েছিলাম। পরে অভিযুক্ত হামজাকে পুলিশে দিয়েছে প্রক্টর। তবে হামজা তার অনুসারী কিনা তা জানতে চাইলে তিনি জানান, ‘ছেলেটি আমার পরিচিত। হলে উঠার ব্যাপারে বেশ কয়েকবার আমার সাথে যোগযোগ করেছিল’।

মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহাবুবুর রহমান বলেন, ‘ছুরিকাঘাতের ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে আবু হামজাকে আটক করা হয়েছে’।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, ‘হৃদয়ের কাছ থেকে ছিনতাইয়ের চেষ্টা করছিল। এ সময় ধস্তা-ধস্তির এক পর্যায়ে হামজাসহ কয়েকজন মিলে হৃদয়কে ছুরি দিয়ে আঘাত করে। সে এখন রামেকে চিকিৎসাধীন আছে’।

এমএইচ/এএস

 
.


আলোচিত সংবাদ