ঢাবিতে ভর্তি জালিয়াতিতে অভিযুক্তদের পরীক্ষা ঠেকিয়ে দিল ছাত্ররা

ঢাকা, রবিবার, ১৯ আগস্ট ২০১৮ | ৩ ভাদ্র ১৪২৫

ঢাবিতে ভর্তি জালিয়াতিতে অভিযুক্তদের পরীক্ষা ঠেকিয়ে দিল ছাত্ররা

ঢাবি প্রতিনিধি ৬:৪২ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৫, ২০১৮

print
ঢাবিতে ভর্তি জালিয়াতিতে অভিযুক্তদের পরীক্ষা ঠেকিয়ে দিল ছাত্ররা

সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগ উঠে। অনেকের নাম গণমাধ্যমে আসে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অনেকের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এ পরিস্থিতিতে সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের ভর্তি জালিয়াতিতে অভিযুক্ত ৫ শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে এলে ওই বিভাগের সাধারণ শিক্ষার্থীরা বাধা দেয়।

আজ বুধবার সকাল ১০টায় সমাজকল্যাণ ইনস্টিটিউটের একটি মিড টার্ম পরীক্ষায় এ ঘটনা ঘটে। বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সমাজকল্যাণ ইনস্টিটিউটের তৃতীয় বর্ষের ৫০২ নং কোর্সের রুরাল অ্যান্ড আরবান ডেভেলপমেন্ট ইন বাংলাদেশ এই কোর্সের মিড টার্ম পরীক্ষা ছিল।

শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা যায়, সকাল ১০টায় সবাই মিড টার্ম পরীক্ষা দেওয়ার জন্য আসনে বসে। এ সময় কয়েকজন ভর্তি জালিয়াতিতে অভিযুক্তদের সাথে পরীক্ষা দেবে কি না সবার কাছে জানতে চায়। তখন  শিক্ষার্থীরা তাদের সাথে পরীক্ষা দেবে না বলে জানিয়ে দেয়। একপর্যায়ে সবাই এক হয়ে পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা শিক্ষকের কাছে তাদের সাথে পরীক্ষা দেবে না বলে জানিয়ে দেয়। তখন ওই কোর্সের পরীক্ষা অভিযুক্তদের ছাড়াই ১০.১৫ মিনিটে অনুষ্ঠিত হয়।

জানতে চাইলে এই বিভাগের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা এক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়, অনেকেই ভর্তি জালিয়াতিতে অভিযুক্ত হলেও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। আমরা সবাই পরিশ্রম করে চান্স পেয়ে এখানে ভর্তি হয়েছি। কোনো অভিযুক্তের সাথে আমরা একই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারি না। আশা করি প্রশাসন তাদের ব্যাপারে নির্দিষ্ট ব্যবস্থা নিবে।

জানতে চাইলে সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. তানিয়া রহমান পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, আজকে সকালে এমন একটি ঘটনা ঘটেছে। ভর্তি জালিয়াতিতে অভিযুক্ত বিষয়গুলো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দেখবে। তবুও আজকে সকালে যখন সকল শিক্ষার্থী তাদের সাথে পরীক্ষা দিতে চাচ্ছে না। তখন আমরা সিদ্ধান্ত নেই এদের পরীক্ষার ব্যাপারে পরে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, রেজিস্ট্রারকে চিঠি দিয়েছি। তারা যে সিদ্ধান্ত দেন সেভাবেই আমরা ব্যবস্থা নিব।

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রাব্বানি বলেন, আমরা ওই বিভাগ থেকে একটি চিঠি পেয়েছি। একজন সহকারী প্রক্টরকে দায়িত্ব দিয়েছি বিষয়টি দেখার জন্য।

উল্লেখ্য, ভর্তি জালিয়াতিতে অভিযুক্ত ১৫ জন শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বহিষ্কার করে। বাকি যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

ওএইচ/এএল

 
.


আলোচিত সংবাদ