পাকিস্তানে কেন সামরিক ঘাঁটি বানাচ্ছে চীন?

ঢাকা, শনিবার, ১৮ আগস্ট ২০১৮ | ৩ ভাদ্র ১৪২৫

পাকিস্তানে কেন সামরিক ঘাঁটি বানাচ্ছে চীন?

পরিবর্তন ডেস্ক ৪:৪৪ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ০৭, ২০১৮

print
পাকিস্তানে কেন সামরিক ঘাঁটি বানাচ্ছে চীন?

যুক্তরাষ্ট্র যখন পাকিস্তানকে দেওয়া নিরাপত্তা সহায়তা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে তখন দেশটিতে (পাকিস্তান) একটি সামরিক নৌ-ঘাঁটি নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছে চীন। পাকিস্তানের কৌশলগত গোয়াদর বন্দরে এই ঘাঁটি নির্মাণ করবে বেইজিং। তাছাড়া পাকিস্তানের বেলচিস্তান প্রদেশের গুরুত্বপূর্ণ এই গোয়াদর বন্দরের উন্নয়নেও কাজ করছে চীন সরকার। বন্দরটি মূলত বাণিজ্যিক জাহাজের জন্যই ব্যবহৃত হয়।

চীনের সামরিক কর্মকর্তারা সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট নামের একটি গণমাধ্যমকে বলেছেন, তাদের যুদ্ধ জাহাজের জন্য যেসব সরঞ্জামাদি সরবরাহ করা দরকার তার জন্য বর্তমান বন্দর উপযোগী নয়। এ জন্যই নতুন ঘাঁটি নির্মাণ করতে হবে।

প্রসঙ্গত, এ নিয়ে বিশ্বের দ্বিতীয় কোনো দেশে সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করতে যাচ্ছে চীন। এর আগে আফ্রিকার জিবুতিতে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করেছে বেইজিং।

মার্কিন প্রশাসনের ওই ঘোষণার পর আঞ্চলিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাকিস্তানের নিরাপত্তা খাতের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হয়ে চীন যুক্তরাষ্ট্রের জায়গা দখল করতে যাচ্ছে। সেইসঙ্গে ইসলামাবাদকে ব্যবহার করে বেইজিং ভারত মহাসাগরে বিস্তৃত পরিসরে প্রবেশের চেষ্টা করছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেন, পাকিস্তানে চীনের বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং দেশটিতে সকল সাহার্য বন্ধ সংক্রান্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণা ইসলামাবাদকে বেইজিংয়ের বাহুর মধ্যে নিয়ে যাচ্ছে।

হাওয়ার্ড বাকের সেন্টারের গবেষক হ্যারিসন আকিন্স, যিনি পাকিস্তান ও চীন নিয়ে গবেষণা করছেন, মার্কিন গণমাধ্যম নিউজউইককে বলেছেন, ‘আরব সাগরে বেলুচিস্তানের গোয়াদর বন্দরের সঙ্গে পশ্চিম চীনের কাশগড় বন্দরের সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে যে অর্থনৈতিক করিডর গড়ে উঠেছে তাতে আগামী ২০৩০ সাল নাগাদ পাকিস্তানে চীনের বিনিয়োগ দাঁড়াবে সাড়ে ৪ হাজার কোটি ডলারের বেশি।’

তিনি বলেন, ‘পাকিস্তান যেভাবে অর্থনীতি ও নিরাপত্তা সহযোগিতার ক্ষেত্রে চীনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে তাতে ট্রাম্প খুব শিগগিরই বুঝতে পারবেন যে, একতরফা চাপ দিয়েই শুধু মার্কিন নীতি বাস্তবায়নের সক্ষমতা তার কতটুকু।’

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার ট্রাম্প প্রশাসন পাকিস্তানকে দেওয়া সকল নিরাপত্তা সহায়তা বন্ধ করার ঘোষণা দেয়। পাকিস্তান সীমান্তে সন্ত্রাসী কার্যক্রম বন্ধে ব্যর্থ হয়েছে অভিযোগ করে এই সহায়তা বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়।

আকিন্স বলছেন, ‘এর ফলে মার্কিন স্বার্থ ও নিরাপত্তা ব্যাহত হবে, কারণ ওই অঞ্চলে আমরা একটি প্রধান মিত্রকে হারাচ্ছি।’

তবে ট্রাম্প প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন পাকিস্তানে একই স্বার্থ, নিরাপত্তা ও সন্ত্রাস দমন, বাস্তবায়ন করছে।

মার্কিন প্রশাসনের এক সিনিয়র কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিউজউইককে বলেন, ‘চীন এ সংক্রান্ত কিছু উদ্বেগের কথা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে শেয়ার করেছে এবং ওয়াশিংটন বিষয়টি নিয়ে আঞ্চলিক অন্যান্য অংশীদারের সঙ্গে কথা বলছে। পাকিস্তান সন্ত্রাসীদের আশ্রয়স্থল হবে এটা কোনো ক্রমেই চীনের স্বার্থ নয়।’

‘বরং আমরা যা দেখছি, তা হচ্ছে, পাকিস্তান চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষার চেষ্টা করছে,’ বলেন ওই কর্মকর্তা।

চীন-পাকিস্তান অথনৈতিক করিডরের ক্ষেত্রে গোয়াদর বন্দরের যেমন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে তেমনি চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ব্যয়বহুল ‘ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড’ শীর্ষক কর্মসূচি নিয়েছেন সেক্ষেত্রেও এটি প্রধান ভূমিকা পালন করবে। এই করিডরের অবকাঠামো নির্মাণে কোটি কোটি ডলার ব্যয় করতে হবে, আর এর উদ্দেশ্যে হচ্ছে, চীনের সঙ্গে ইউরোপ ও আফ্রিকার যোগাযোগ স্থাপন।

ভারত মহাসাগরে যেসব চীনা জাহাজ টহল দিচ্ছে, তার জন্য যে জ্বালানি ও অন্যান্য সরঞ্জাম দরকার তা বর্তমানে পাকিস্তানে সহজলভ্য নয়। কিন্তু বেলুচিস্তানে নৌ-ঘাঁটি ও রেললাইন স্থাপন হলে সে সমস্যা মিটে যাবে।

এ ছাড়াও চীন পাকিস্তানের জিওয়ানি উপত্যাকায় একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করছে বলে খবর রয়েছে। এটি গোয়াদর বন্দরের কাছাকাছি এবং ইরান সীমান্তের নিকটবর্তী। তবে এই ঘাঁটি নির্মাণ করতে হবে নিরাপত্তার কারণে স্থানীয়দের অন্যত্র সরিয়ে নিতে হবে।

উল্লেখ্য, চীন এর আগে প্রথমবারের মতো জিবুতিতে সামুদ্রিক নৌ-ঘাঁটি নির্মাণ করে। জিবুতি হর্ন অব আফ্রিকার ছোট্ট একটি দেশ, যেখানকার মানুষ ফ্রেঞ্চ ও আরবি ভাষাভাষী।

আরপি

আরো পড়ুন...
পাকিস্তানে সামরিক ঘাঁটি বানাতে যাচ্ছে চীন

 
.


আলোচিত সংবাদ