এরদোগান কি ন্যাটো জোটের শেষ লিখছেন?

ঢাকা, বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯ | ২৯ কার্তিক ১৪২৬

এরদোগান কি ন্যাটো জোটের শেষ লিখছেন?

পরিবর্তন ডেস্ক ৭:৩১ অপরাহ্ণ, জুলাই ০২, ২০১৯

এরদোগান কি ন্যাটো জোটের শেষ লিখছেন?

এরদোগান (বামে) নিশ্চিত করেছেন ট্রাম্প তুরস্কের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে না।

জাপানের ওসাকা জি-২0 শীর্ষ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আলোচনার কথা উল্লেখ করে মঙ্গলবারের সম্পাদকীয় লেখে লন্ডন ভিত্তিক ‘ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস’। সম্পাদকীয়তে বিশেষভাবে ট্রাম্পের সঙ্গে তুর্কি প্রতিপক্ষ রজব তাইয়েব এরদোগানের আলোচনা নিয়ে বিশ্লেষণ করা হয়।   

“তুরস্ক ও আমেরিকা একটি বড় সংকটের দিকে অগ্রসর হচ্ছে, রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে এরদোগান ন্যাটোকে ভাঙ্গবে না” শিরোনাম করে পত্রিকাটি বলে, প্রেসিডেন্ট এরদোগান প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, তার দেশ রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এস-৪০০ ক্রয়ের কারণে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার সম্মুখীন হবে না।

একইসঙ্গে তিনি জানান, রাশিয়া থেকে প্রথম চালান আগামী দশ দিনের মধ্যে এসে পৌঁছবে।  

পত্রিকাটি উল্লেখ করে যে, এই ক্রয় চুক্তি ধীরে ধীরে তুরস্ক ও যুক্তরাষ্ট্রকে সংঘাতের দিকে নিয়ে যাবে। খুব সম্ভব এটি শেষে একটি বিশাল ধ্বংসাবশেষের কারণ হবে। কারণ বিধিনিষেধের ক্ষেত্রে ট্রাম্পের অবস্থানের সঙ্গে কংগ্রেসের অবস্থান সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা কম।

ইতিপূর্বে ওয়াশিংটন বারবার এটা স্পষ্ট করেছে যে, রাশিয়ার বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে তুরস্ক কখনো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান একত্রিত করতে পারবে না।

যুক্তরাষ্ট্র সতর্ক করেছে যে, এরদোগান যদি রাশিয়ার সঙ্গে মিলিত হয় তাহলে আইন অনুযায়ী তুরস্ককে নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে আমেরিকার শত্রুতার মুখোমুখি হতে হবে।  

তুর্কি পাইলটদেরকে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান চালনার প্রশিক্ষণ বন্ধ করে দেওয়ার মাধ্যমে যে শত্রুতার লক্ষণ ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। এরসঙ্গে এই মডেলের প্রায় একশতটি যুদ্ধবিমানের প্রাথমিক ডেলিভারি কার্যক্রমও বন্ধ করা হয়েছে। 

পত্রিকাটির ভাষ্য মতে, তুরস্কের মিসাইল ক্রয় রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের জন্য একটি কূটনৈতিক বিজয়ে পরিণত হয়েছে। এটি পুতিনের পক্ষ থেকে পশ্চিমা জোট ভেঙে দেওয়ার একটি অভিযান।

তুরস্কের অভ্যন্তরে এই মিসাইলগুলোর ব্যাটারি প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হলে, এগুলোর মাধ্যমে রাশিয়া এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান সম্পর্কে তথ্য পেতে সক্ষম হবে, অথচ এফ-৩৫ শিগগিরই মার্কিন জোটের প্রধান বিমান হতে চলেছে। 

এক সবার জন্য, সবাই একের জন্য

যেকোনো স্বাধীন সার্বভৌম দেশের মত প্রতিরক্ষা খাতে তুরস্কের নিজের পছন্দগুলো বেছে নেওয়ার অধিকার আছে। কিন্তু ন্যাটোর সদস্যভুক্ত দেশ হিসেবে জোটের নিরাপত্তায় ফাঁক তৈরি করার অধিকার তার নেই। জোটের ভেতর যে মূলনীতিটি প্রতিনিধিত্ব করে তা হচ্ছে, “এক সবার জন্য এবং সবাই একের জন্য”। অতএব, ট্রাম্পকে মার্কিন অস্ত্র বিক্রিতে মনোযোগ দেওয়ার পরিবর্তে এই নীতিটি রক্ষা করার জন্য কিছুটা সম্মান করা উচিত।     

সম্প্রতি, যুক্তরাষ্ট্র এস-৪০০ এর বিকল্প হিসেবে তুরস্ককে প্যাট্রিয়ট মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহ করেছিল। কিন্তু মস্কো একধাপ এগিয়ে এই ব্যবস্থার পরবর্তী প্রজন্মের উন্নয়নের একটি অংশীদারিত্ব তুরস্ককে প্রদান করেছে।

প্রবন্ধটির উপসংহারে বলা হয়, এরদোগান (সিরিয়া সংকট এবং কুর্দিদের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে) তার প্রতিপক্ষ রাশিয়ার কাছে নিজেকে ঋণী ভেবেছে। যদিও তার দেশ রাশিয়ার সঙ্গে ইরানের একটি দুর্বল জোটকে বেছে নিয়েছে।

এখন যদি এরদোগান এই ক্রয় চুক্তিতে রাশিয়াকে ফিরিয়ে দিতে চায় তাহলে পুতিন সিরিয়ার বিরোধীদের শেষ আশ্রয়স্থল ইদলিবে যুদ্ধ বাড়িয়ে দিতে পারে। সেখানে রয়েছে তুরস্কের বেশ অনেকগুলো সামরিক অবস্থান। তাই সে অঞ্চলে তুরস্কের উপস্থিতি রাশিয়ার অনুমোদনের ওপর নির্ভর করছে।    

নিবন্ধটির শেষে বলা হয়, এরদোগান যদি ওয়াশিংটনের শত্রুতাকে বেছে নেয় তাহলে ন্যাটোয় তার দেশের সদস্যপদ নিয়েই আলোচনা হবে না শুধু, বরং তার ওপর আবশ্যক হল, ট্রাম্পের উজ্বল অঙ্গীকারের ওপর খুব বেশি ভরসা না করা।

(আল জাজিরা আরবী থেকে মুহাম্মাদ ফয়জুল্লাহ’র অনুবাদ)

এমএফ/এসবি

 

ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষণ: আরও পড়ুন

আরও