বর্তমান মিশরের জন্ম, ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব …

ঢাকা, ২৪ মার্চ, ২০১৯ | 2 0 1

বর্তমান মিশরের জন্ম, ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব …

আহমেদ শরীফ ১:১১ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৭, ২০১৯

বর্তমান মিশরের জন্ম, ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব …

ব্রিটিশ-ফরাসীদের মাঝে মিশরের নিয়ন্ত্রণ নেবার প্রতিযোগিতা...

বর্তমান মিশরের জন্ম উনিশ শতকে উসমানি খিলাফতের অধীন মিশরের আলাদা হয়ে যাওয়া থেকে। মিশরের শাসকেরা বহুবার মিশরের সম্পদের লোভ সামলাতে না পেরে খলিফার শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছে। আর সপ্তদশ শতকের পর থেকে ইউরোপীয় শক্তিরা সেই সুযোগে মিশরে হস্তক্ষেপের সুযোগ খুঁজেছে। মিশরের উপর ইউরোপীয়ান শক্তিদের দৃষ্টি ছিল বহুকাল ধরেই। তবে আঠারো শতকের শেষ থেকে পশ্চিমা হস্তক্ষেপের মাত্রা বহুগুণ বেড়ে যায়। ১৭৯৮-৯৯ সালে ফরাসী জেনারেল ন্যাপোলিয়ন বোনাপার্ট মিশর জয়ের লক্ষ্যে আলেকজান্দ্রিয়ায় অবতরণ করেন। ফরাসীদের সাথে তখন ব্রিটিশদের যুদ্ধ চলছে; তাই ব্রিটিশরাও ন্যাপোলিয়নকে অনুসরণ করে মিশরে আসে। ন্যাপোলিয়নকে মিশরে হারাবার উদ্দেশ্যে ব্রিটিশ নৌবাহিনী মিশরের উপকূল অবরোধ করে। ১৭৯৮ সালের ‘আবুকির উপসাগর’এর যুদ্ধে এডমিরাল নেলসনের অধীন ব্রিটিশ নৌবাহিনী ফরাসি নৌবাহিনীকে পরাজিত করে। তবে ন্যাপোলিয়ন এরপর সিরিয়াতে তার বাহিনীকে নিয়ে গেলে সিরিয়ার উপকূলের আক্রা বন্দরও ব্রিটিশ নৌবাহিনী অবরোধ করে।  

ফ্রান্স যখন সম্রাট ন্যাপোলিয়নের অধীনে ইউরোপ দখলে নিচ্ছে, তখন উসমানি খিলাফত যাতে ফ্রান্সের জন্যে কোনো সুবিধা বয়ে না আনতে পারে, সেদিকে খেয়াল রাখছিলো ব্রিটিশরা। ১৮০৭ সালে জেনারেল ম্যাকেঞ্জি-ফ্রেজারের নেতৃত্বে ব্রিটিশ সামরিক বাহিনী মিশরের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কলহের সুযোগ নিয়ে আলেকজান্দ্রিয়া শহর দখলে নিয়ে নেয়। তারা চাইছিলো যুদ্ধরত দুই পক্ষকে যদি তারা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে পারে, তবেই তারা মিশরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিতে পারবে। তবে মিশরের সেনাবাহিনীর সামনে টিকতে না পেরে তারা দ্রুতই সরে যেতে বাধ্য হয়।

এর মাঝেই ১৮০৫ সালে আলবেনিয়ান সামরিক অফিসার মুহাম্মদ আলী পাশা মিশরের শাসক বনে যান। তিনি প্রথম থেকেই চিন্তা করতে থাকেন যে কিভাবে উসমানি শাসনকে পাশ কাটিয়ে নিজে আরও সম্পদ এবং শক্তির মালিক হবেন। পশ্চিমারা এই সুযোগখানা কাজে লাগায়। তারা মুহাম্মদ আলীর সামরিক শক্তি গড়ার পেছনে কাজ করতে থাকে, যাতে মিশরের শক্তিকে উসমানি শাসনের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা যায়। মিশরের জন্যে শক্তিশালী নৌবাহিনী তৈরি করা ছাড়াও সেনাবাহিনীতে কামান এবং বন্দুক দেয়া হয়। উভয় বাহিনীর ট্রেনিং এবং প্রযুক্তি আসে ইউরোপ থেকে।

মুহাম্মদ আলী মিশরে পাশ্চাত্যের ধাঁচে স্কুল এবং হাসপাতাল গড়তে থাকেন। তার সরকারের আয় বাড়াতে ইউরোপীয় ব্যবসায়ীদেরকে মিশরে অবাধে ব্যবসা করার সুযোগ দেন। তারা অবকাঠামো উন্নয়নের জন্যে মুহাম্মদ আলীর সরকারকে ঋণও দেয়। সামরিক শিল্প স্থাপনের সাথে সাথে শিল্প-কারখানা চালাতে পশ্চিমা ম্যানেজারদের চাকুরি দেয়া হয়। সরকারি এবং সামরিক কাজে ইউরোপীয় ট্রেনিং-এর উপরে নির্ভরশীল হবার কারণে ফরাসী ভাষা শিখতে হয়েছিল মিশরীয়দের।

মিশরের সেনাবাহিনীর গুরুত্ব

১৮১১-১২ সালে আরব উপদ্বীপে সউদ বংশের ওয়াহাবি আন্দোলন শুরু হয়। এই বিদ্রোহ দমনে মুহাম্মদ আলীকে দায়িত্ব দেয়া হলে তিনি পবিত্র মক্কা ও মদিনা পুনরুদ্ধার করা সহ কাজটা সম্পন্ন করেন ঠিকই, তবে একইসাথে আরব এবং সিরিয়াতে নিজস্ব সম্পদ গড়ে তোলার স্বপ্নও দেখা শুরু করেন। এক দশকের মাঝে নিজের সামরিক শক্তিকে জাহির করার সুযোগ মুহাম্মদ আলীর আবারও এসে যায়। ১৮২১ সালে পশ্চিমা প্ররোচনায় গ্রীস উসমানি খিলাফত থেকে আলাদা হয়ে যেতে চাইলে ইউরোপীয় শক্তিরা গ্রীসের পক্ষে হস্তক্ষেপ করে। সামরিক শক্তিতে হঠাত ঘাটতি পড়ায় উসমানি খলিফা মিশরের শাসকের কাছে সেনাবাহিনী চেয়ে পাঠান। মুহাম্মদ আলী তার ১৬ হাজার সৈন্যকে গ্রীসে পাঠান ঠিকই, কিন্তু পশ্চিমারা ততক্ষণে গ্রীসের পক্ষে সামরিক বাহিনী মোতায়েন করেছে।

১৮২৭ সালে নাভারিনোর যুদ্ধে ইউরোপীয় নৌবাহিনীর হাতে উসমানি নৌবাহিনী পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়। এই ধ্বংসপ্রাপ্ত নৌবাহিনীর বেশিরভাগই ছিল মিশরের জাহাজ, যেগুলি পশ্চিমাদের সহায়তাতেই তৈরি হয়েছিল। মিশর প্রথমবারের মতো বুঝতে পারে যে তাদের সামরিক বাহিনীকে পশ্চিমারা তৈরি করে দিয়েছে পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার উদ্দেশ্যে নয়; বরং মুসলিমদের নিজেদের মাঝে যুদ্ধ করার জন্যে।

গ্রীসের যুদ্ধে উসমানি খলিফাকে সহায়তা দেয়ার ‘পুরস্কার’ হিসেবে মুহাম্মদ আলী পুরো আল-শাম বা সিরিয়া (বর্তমানের সিরিয়া, প্যালেস্টাইন, জর্দান, লেবানন) নিজের অধীনে চাইতে থাকলেন। ১৮৩১-৩২ সালে এই ছুতোয় তিনি খিলাফতের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হন। পুরো সিরিয়া অধিকার করার পর আনাতোলিয়ার দুটা যুদ্ধে মুহাম্মদ আলী খলিফার বাহিনীকে পরাজিত করলে ইউরোপীয় শক্তিরা হস্তক্ষেপের সুযোগ খুঁজতে থাকে। খলিফা ইস্তাম্বুলের নিরাপত্তা নিশ্চিতে রাশিয়ার সাথে চুক্তি করলে ব্রিটিশ-ফরাসীরা নিরাপত্তাহীনতায় পড়ে যুদ্ধে জড়িয়ে যায়। তারা মুহাম্মদ আলীকে সিরিয়া ছেড়ে দিতে বাধ্য করেন, যাতে পুরো ব্যাপারটা তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকে। তবে আপাততঃ ইউরোপীয়রা মিশরকে উসমানি খিলাফত থেকে আলাদা করার প্রকল্পটাকে পিছিয়ে দেয়।  

সুয়েজ খাল

১৮৪৬ সাল থেকে ফরাসিরা মিশরে সুয়েজ খাল তৈরির সুযোগ খুঁজতে থাকে। ১৮৪৮ পর্যন্ত মুহাম্মদ আলী ক্ষমতায় থাকেন। ব্রিটিশরা চায়নি সুয়েজ খাল তৈরি হোক। তারা মনে করছিলো যে, যদি এই খাল তৈরি করা হয়, তাহলে ভারতের সমুদ্রপথের নিয়ন্ত্রণ ব্রিটিশদের হাতে না-ও থাকতে পারে। মুহাম্মদ আলী ব্রিটিশদের নীতি অনুসরণ করেন। ১৮৫৪ সালে মোহামেদ সাঈদ পাশা ক্ষমতায় আসেন, যিনি ফরাসী ব্যবসায়ী ফার্ডিনান্ড ডে-লেসেপস-কে সুয়েজ খাল তৈরির অনুমতি দেন। প্যারিসে পড়াশোনা এবং ফরাসী ভাষাভাষী হওয়ায় সাঈদ পাশার ফ্রান্সের প্রতি টান ছিল যথেষ্ট। তবে ব্রিটিশরা সুয়েজ খাল না তৈরি করলেও আলেকজান্দ্রিয়া থেকে সুয়েজ পর্যন্ত রেললাইন তৈরি করে, যার দ্বারা তারা প্রস্তাবিত সুয়েজ খালের উপরে সামরিক নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারবে। ১৮৬৯ সালে সুয়েজ খাল উদ্বোধন করা হয়। এসময় আবারও এই খালের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ব্রিটিশ এবং ফরাসীদের মাঝে শুরু হয় প্রতিযোগিতা।

১৮৭৫ সালে সাঈদ পাশার পরবর্তী শাসক ইসমাঈল পাশা সুয়েজ খাল তৈরির জন্যে নেয়া ইউরোপীয় ঋণ ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়ায় সুয়েজ খালে মিশরের ৪৪ শতাংশ মালিকানা ব্রিটিশ সরকার জোর করে নিয়ে নেয়। এভাবে শুরুতে সুয়েজ খালে ব্রিটিশ মালিকানা না থাকলেও হঠাতই সেখানে প্রায় অর্ধেকের কাছাকাছি ব্রিটিশ মালিকানা চলে আসে।

ব্রিটিশ উপনিবেশ

১৮৭৯ থেকে ১৮৮২ সাল পর্যন্ত মিশরের সেনাবাহিনীতে ইউরোপীয় প্রভাবের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ সৃষ্টি হয়, যার নেতৃত্ব দেন সামরিক বাহিনীর অফিসার আহমেদ উরাবি। মিশরের তৎকালীন শাসক তেউফিক পাশা ক্ষমতায় আসেন ইউরোপীয় শক্তিদের ইচ্ছায়, যা কিনা তিনি তার কর্মকান্ডে প্রমাণ দেন। উসমানি খলিফা দ্বিতীয় আব্দুল হামিদ মুসলিম যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র তুলতে চাননি; তা-ও এমন যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে, যারা কিনা পশ্চিমা আগ্রাসনের বিরোধিতা করছে। উরাবি বিদ্রোহ দমনে তেউফিক পাশা ইউরোপীয়দের হাতে মিশরকে তুলে দেন। ১৮৮২ সালে আলেকজান্দ্রিয়ায় বিশৃংখলার সুযোগ নিয়ে ব্রিটিশ নৌবাহিনী গোলাবর্ষণ করে এবং শহরটা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়। আহমেদ উরাবিকে পরাজিত করে ব্রিটিশরা তাকে সিলনে (বর্তমান শ্রীলংকা) নির্বাসনে পাঠায়। প্রায় দুই বছর ধরে ব্রিটিশ মেজর ইভিলিন বেয়ারিং এবং অকল্যান্ড কোলভিং এবং ফরাসী ডে-ব্লিনিয়েরেস মিশর পরিচালনা করেন।

উসমানি সময়ে সুদান শাসিত হতো মিশর থেকে। ১৮৮১ সাল থেকে মিশরের সাথে সাথে সুদানও ব্রিটিশদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। তবে সুদানে মুহাম্মদ আহমদ বিন আবদাল্লাহ-এর নেতৃত্বে সুদানীরা ব্রিটিশ প্রভাবের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যায়। মাহাদী যুদ্ধ নামে পরিচিত এই যুদ্ধ ১৮৯৯ সাল পর্যন্ত চলে। এই যুদ্ধে মিশরের সেনারা ব্রিটিশদের পক্ষে সুদানীদের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হয়। মিশরের সেনাবাহিনীকে পশ্চিমারা ট্রেনিং দিয়েছিল তাদের মুসলিম ভাইদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করানোর জন্যেই। ১৯৫৬ সাল পর্যন্ত ব্রিটিশ উপনিবেশ হিসেবে থাকার পর ব্রিটিশরা সুদানকে আলাদা দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

১৮৮২ সাল থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হবার পরও মিশর সরাসরি ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণে থাকে। বিদ্রোহের পর ১৮৮৪ সালে ব্রিটিশ কূটনীতিক ইভিলিন বেয়ারিং তেউফিকের উপরে চাপ সৃষ্টি করে মিশর থেকে সুদানকে আলাদা করে নেন। ১৯৫২ সাল পর্যন্ত মিশর ব্রিটিশ উপনিবেশ হিসেবে থাকে। ১৯৫৬ সালে মিশরের সরকার সুয়েজ খাল সরকারীকরণ করে ফেললে ব্রিটিশ-ফরাসী বাহিনী মিশরে হামলা করে। এই যুদ্ধের ফলস্বরূপ মিশর এবং সুয়েজ খাল ইউরোপীয়দের হাত থেকে মার্কিনীদের হাতে চলে যায়। সেই সময় থেকে মিশর এখনও মার্কিন প্রভাব বলয়ে রয়েছে। তবে মিশরের সাথে ফ্রান্সের সেই সম্পর্কটাও এখনও বলবত রয়েছে। 

মিশরের ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব

মিশরের শাসকদের লোভ মিশরকে পশ্চিমাদের হাতে তুলে দেয়। সুয়েজ খাল তৈরির আগ থেকেই মিশরের কৌশলগত গুরুত্ব ছিল অত্যধিক। জনসংখ্যা বেশি হবার কারণে এই অঞ্চলে মিশর সর্বদাই সবচাইতে বড় সেনাবাহিনী তৈরিতে সক্ষম ছিল। এই সেনাবাহিনী সিরিয়া, লিবিয়া এবং সুদানের নিরাপত্তা দিয়েছে। একাদশ শতকে মিশরের শাসকের ব্যর্থতা ক্রুসেডারদের হাতে জেরুজালেমের পতনের (১০৯৯ সাল) একটা বড় কারণ ছিল। আবার দ্বাদশ শতকে মিশরের শাসক সালাহউদ্দিন আইয়ুবি জেরুজালেম পুনরুদ্ধার (১১৮৭ সাল) করেন। ত্রয়োদশ শতকে মোঙ্গল আক্রমণে পুরো মধ্যপ্রাচ্য বিধ্বস্ত হলেও মিশর থেকেই মোঙ্গলদের পতনের শুরু (১২৬০ সাল) হয়েছিল। উনিশ শতকেও মিশরের শাসকের ঔদ্ধত্বের কারণে উসমানি খলিফা পুরো সিরিয়া মিশরের শাসকের হাতে দিয়ে দিতে বাধ্য হন। ঠিক সেসময়েই মিশরের শাসক মুহাম্মদ আলী তার নিজ বংশের জন্যে মিশরের শাসন নিশ্চিত করেন। এটাই ছিল মিশরের উপর ইউরোপীয় প্রভাব পাকাপোক্তকরণের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। আজ অবধি পশ্চিম-ঘেঁষা শাসকের মাধ্যমে মিশরকে পশ্চিমারা নিয়ন্ত্রণে রাখছে।

১৯১৭ সালে মিশর থেকে ব্রিটিশ জেনারেল এলেনবি-র সেনাবাহিনী সিরিয়া আক্রমণ করে। মিশরের সহায়তাতেই ৭’শ ৩১ বছর পর সেই বছরের ডিসেম্বরে জেরুজালেম মুসলিমদের হাতছাড়া হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মিশরের এল-আলামেইন-এ জার্মান জেনারেল রমেলের আক্রমণ প্রতিরোধ করে ব্রিটিশ সেনাবাহিনী (১৯৪২ সাল)। আবার রমেলের হারের পর এখান থেকেই ব্রিটিশ সেনাবাহিনী পুরো লিবিয়া পার হয়ে তিউনিসিয়া আক্রমণ করে (১৯৪৩ সাল)।

১৯১৬ সালে ব্যালফুর ডিক্লারেশনের মাধ্যমে ইসরাইল তৈরি এবং ১৯৪৮ সালে স্বাধীন ইসরাইলের ঘোষণার পর থেকে ইসরাইলের নিরাপত্তা নির্ভর করেছে মিশরের উপর। ১৯৪৮, ১৯৫৬, ১৯৬৭ এবং ১৯৭৩ সালে মিশর ইসরাইলের সাথে যুদ্ধে পরাজিত হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে মিশর যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবে থাকার কারণেই মধ্যপ্রাচ্যের সবচাইতে বড় সেনাবাহিনী থাকার পরেও ছোট্ট ইসরাইলের হাতে বারংবার পরাজিত হয়েছে। পরাজিত হতে হতে মিশরের সেনাবাহিনীর আত্নবিশ্বাসটাই ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে। যে মিশরের কাজ হবার কথা পশ্চিমে লিবিয়া-তিউনিসিয়া থেকে শুরু করে দক্ষিণে নীলনদ বরাবর সুদান-ইথিওপিয়া এবং পশ্চিমে আরব-জেরুজালেম-সিরিয়ার নিরাপত্তা দেয়া, সেই মিশর এখন বিশাল সেনাবাহিনী নিয়ে পশ্চিমাদের বেঁধে দেয়া আন্তর্জাতিক সীমানা পাহারা দিচ্ছে।

লেখক: ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষক

এএসটি/

 

ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষণ: আরও পড়ুন

আরও