পাকিস্তানকে কেন ৬ হাজার কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে সৌদি আরব?

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৮ | ২৯ কার্তিক ১৪২৫

পাকিস্তানকে কেন ৬ হাজার কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে সৌদি আরব?

পরিবর্তন ডেস্ক ৪:৩১ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৩০, ২০১৮

পাকিস্তানকে কেন ৬ হাজার কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে সৌদি আরব?

চলতি সপ্তাহে সৌদি আরবের সঙ্গে ছয় হাজার কোটি ডলারের ঋণ চুক্তি করে দেশে ফিরেছেন পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। সম্ভবত সামান্য প্রতিবন্ধকতা থাকলেও এই চুক্তি রক্ষা করতে পারবেন খান, যদিও এর আগে এ ধরনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর পরই ব্যাপক আর্থিক সংকটের সম্মুখীন হয়েছেন খান। অন্যদিকে, সাংবাদিক জামাল খাসোগির হত্যাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিকভাবে নিরাপত্তা সংকটে রয়েছে সৌদি আরব। এই অবস্থায় ছয় শ কোটি ডলারের সৌদি ‍ঋণ ইমরান খানের জন্য এক প্রকার সাপে বর হয়ে দেখা দিয়েছে।

যদিও এই ঋণের বিনিময়ে পাকিস্তানকে সৌদি আরবের সঙ্গে গভীর সামরিক সম্পর্কে জড়াতে হতে পারে।

রিয়াদ এমন সময় পাকিস্তানের প্রতি এই দাক্ষিণ্য দেখালো যখন ইসলামাবাদ চরম অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিল করছে। তাছাড়া সংকটের মধ্যেই গত মাসে পাক সামরিক বাহিনীকে দেওয়া ৩০ কোটি ডলারের আর্থিক সাহায্য স্থগিত করে ট্রাম্প (মার্কিন প্রেসিডেন্ট) প্রশাসন।

দেশে ফিরে খান এক টেলিভিশন ভাষণে বলেছেন, ইয়েমেন সংকট সমাধানে পাকিস্তান ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, ‘ইয়েমেন সংকট সমাধানে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি আমরা।’

তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ঋণ দেওয়ার সঙ্গে রিয়াদ ইসলামাবদকে শর্তে জড়িয়েছে। যদিও খান তার সফর সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ করেননি।

ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত শিয়াপন্থী হোথি যোদ্ধাদের দমনে ২০১৫ সালে সৌদি আরব একটি কোয়ালিশন তথা জোট গঠন করে, যেখানে পাকিস্তানের সামরিক সাহায্য চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু পাক পার্লামেন্ট কোনো যুদ্ধে জড়ানোর বিপক্ষে ভোট দেয়।

পাকিস্তানের অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় মাত্র দুই সপ্তাহ আগেও ঋণের প্রস্তাব দিয়েছিল রিয়াদ। কিন্তু ইসলামাবাদ সে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। কারণ ওই ঋণের পেছনে অনেক শর্ত ছিল বলে এশিয়া টাইমসকে বলেছেন পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী ফাওয়াদ চৌধুরী।

কিন্তু ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে পাকিস্তান কেন তার অবস্থান থেকে সরে আসলো এমন প্রশ্নের জবাবে চৌধুরী বলেন, ‘নীতিগত পরিবর্তনের কারণে এমনটা হয়েছে। সৌদি আরবে সহযোগিতা দরকার সেটা স্পষ্ট। আমি মনে করি, পরিস্থিতি এখন পরিবর্তন হয়েছে।’

এশিয়া টাইমস বলছে, নানা কারণে সৌদি আরবের সুনাম নষ্ট হচ্ছে। আর পাকিস্তান অধিকতর সুবিধাজনক উপায়ে সেটার মধ্যস্থতা করতে পারবে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও সে ধরনের কোনো কৌশলের কথা প্রকাশ করা হয়নি।

চৌধুরী বলেন, ‘যেহেতু মধ্যস্থতা প্রক্রিয়া এখনও শুরু হয়নি সেহেতু সেইসব শর্তের ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি।’

চুক্তিকে ঘিরে করা শর্ত সংক্রান্ত তথ্য আগামী মাসেই প্রকাশ করা হতে পারে বলেও জানান তিনি।

বিষয়টি নিয়ে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করেছে হংকংভিত্তিক গণমাধ্যমটি।

তবে পাকিস্তানের সাবেক কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী মিফতাহ ইসমাইল বলেছেন, ‘বিষয়টি পার্লামেন্টে আনতে হবে এবং আমাদের বলতে হবে সৌদি আরব ঋণের পেছনে কী শর্ত দিয়েছে এবং তারা পাকিস্তান থেকে কী ফেরত চায়।’

গণমাধ্যমটি বলছে, সৌদি আরবের সঙ্গে আলোচনা সম্পর্কে অবহিত এমন একজন কূটনৈতিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, এই ঋণ শুধু বাণিজ্যিক চুক্তি নয়, বরং বেলুচিস্তানের বিষয়ে সৌদি আরবের স্বার্থ রয়েছে।

প্রসঙ্গত, কৌশলগত কারণে ইরান ও সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ বেলুচিস্তান। একদিকে ইরানের সীমান্তে অবস্থিত বেলুচিস্তান। অন্যদিকে, বেলুচিস্তানের উত্তরে রয়েছে আরব সাগর।

আরপি