এরদোয়ানের জয়ে যেসব প্রভাব পড়বে দেশে-বিদেশে

ঢাকা, সোমবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

এরদোয়ানের জয়ে যেসব প্রভাব পড়বে দেশে-বিদেশে

মোহাম্মদ মামুনূর রশিদ ৫:৫২ অপরাহ্ণ, জুন ২৫, ২০১৮

এরদোয়ানের জয়ে যেসব প্রভাব পড়বে দেশে-বিদেশে

রোববারের নির্বাচনে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট হিসেবে রজব তৈয়ব এরদোয়ানকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। দেশটির সর্বোচ্চ নির্বাচনী কর্তৃপক্ষ ওয়াইএসকে জানায়, রোববারের নির্বাচনে ৯৯.১৬ শতাংশ ব্যালট গণনা শেষে এরদোয়ান ৫২.৫৫ শতাংশেরও বেশি ভোট পেয়েছেন।

তুরস্কের মানুষ সেখানে স্থিতিশীল অবস্থা বজায় রাখতে এমন একজনকে ভোট দিয়েছে যিনি অর্থনৈতিক উন্নতি সাধন ও দেশটির অতীত গর্ব পুনরুদ্ধার করার কাজ করছেন।

এরদোয়ান প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার নতুন মেয়াদ শুরু করতে যাচ্ছেন অনেকগুলো নতুন ক্ষমতার অধিকারী হয়ে। গত বছর তুরস্কে নতুন একটি ব্যবস্থা চালু করতে গণভোটের আয়োজন করা হয়। সামান্য ভোট ব্যবধানে পাশ হওয়া নতুন নিয়মে প্রেসিডেন্টের হাতে আরও ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। সমালোচকরা বলছেন এটি ক্ষমতা কুক্ষিগত করার কৌশল।

নতুন ব্যবস্থায় তুরস্কে কোনো প্রধানমন্ত্রীর পদ থাকছেন না। সংসদের ক্ষমতা কমিয়ে দেয়া হয়েছে, এবং প্রেসিডেন্টের হাতে বিস্তৃত আকারে কার্যনির্বাহী ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে।

একই সাথে, এরদোয়ানের দল একেপি এবং এর মিত্র দল এমএইচপি একত্রে পার্লামেন্টে এখনও সংখ্যাগরিষ্ঠতা বজায় রেখেছে।

কার্যনির্বাহী ক্ষমতার অধিকারী প্রেসিডেন্ট হওয়ায় এরদোয়ান এখন আগের অনেক বেশি ক্ষমতাশালী হয়ে উঠবেন।

তিনি পার্লামেন্টে বিল প্রস্তাব করতে পারবেন, এবং এমএইচপির সাথে সুসম্পর্ক বজায় থাকলে সেখানে তার সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। সেই সাথে তিনি প্রশাসনে কার্যসম্পাদনের নির্দেশও দিতে পারবেন। বিচারবিভাগসহ অন্যান্য জায়গাতেও বিভিন্ন পদে নিয়োগ দেয়ার ক্ষমতা তার রয়েছে।

তবে সামনের মাসগুলোতে তাকে মূলত অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের ১৮ মাস আগে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার এটিও একটি কারণ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক অ্যান্থনি স্কিনার এরদোয়ানের বিজয় সম্পর্কে বলেন, 'তিনি এমন একটি সময়ে নির্বাচন আয়োজন করেছেন যখন পরিস্থিতি সামনে যতটা খারাপ হবে তার চেয়ে কম খারাপ রয়েছে।'

স্কিনার পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ভেরিস্ক ম্যাপেল্ক্রফটের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা বিভাগের প্রধান।

মুদ্রাস্ফীতি, বেকারত্ব এবং মুদ্রার মূল্যমানের ওঠানামা দেশটির অর্থনীতির জন্য চ্যালেঞ্জ। অনেক বিনিয়োগকারী মনে করেন এসব ক্ষেত্রে এরদোয়ানের প্রথাবিরোধী পদক্ষেপ কার্যকরী নয়।

অর্থনীতির অবস্থা খারাপ হওয়া সত্ত্বেও এরদোয়ান কেন্দ্রীয় ব্যাংককে সুদ কমানোর জন্য চাপ দিয়েছেন। আবার একই সঙ্গে তিনি বিশাল বিশাল অবকাঠামো উন্নয়নের প্রকল্পেরও উদ্যোগ নিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে কৃষ্ণ সাগর থেকে মারমারা পর্যন্ত খাল খননের একটি প্রস্তাবিত প্রকল্প।

অর্থনীতি ও বাজার বিশ্লেষক জেসন টুভে বলেন, 'অক্টোবর মাসে প্রেসিডেন্টের যে বাজেট উত্থাপনের কথা রয়েছে তা দেখলে আমরা বুঝতে পারব আগামী বছরগুলোতে রাজস্ব নীতি কী হবে। ঢিলেঢালা রাজস্ব নীতিতে ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে, যা তুরস্কের অর্থনীতির বাকি শক্তিশালী স্তম্ভগুলোকে দুর্বল করে দিবে। '

এরদোয়ানের পুনর্নির্বাচিত হওয়ায় তুরস্কের বৈদেশিক নীতিও আরও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতে পারে। তিনি সিরিয়া ও ইরাকের দক্ষিণ সীমান্তে আরও হস্তক্ষেপের সমর্থন দিতে পারেন। তার জোটে থাকা এমএইচপি দল ও তাদের সমর্থকদের মধ্যে এধরনের পদক্ষেপ জনপ্রিয়।

তিনি পূর্ব আফ্রিকারও বিভিন্ন জায়গার আভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে পারেন। একই সঙ্গে মিত্রদেশ কাতারের সাথে সৌদি আরব ও আরব আমিরাতের যে দ্বন্দ্ব চলছে তাতেও কাতারকে সমর্থন জোগাতে পারেন।

রোববারের ভোটের ফলে তুরস্ক কোন দিকে যাবে আগামী কয়েক দিনে তাই নিয়ে আগ্রহ নিয়ে পর্যবেক্ষণ করবে তুরস্কের সরকার ও বিরোধীদলীয় সমর্থকরা।

[‘Erdogan’s victory in Turkish election expands his powers’ শিরোনামের বিশ্লেষণটি লিখেছেন হংকং ভিত্তিক ইংরেজি নিউজ সাইট এশিয়া টাইমসের রাজনৈতিক বিশ্লেষক জোনাথন গ্রোভেট।]

এমআর/এএসটি