এক ম্যাচেই এত রেকর্ড ব্রাজিলিয়ান রদ্রিগোর!

ঢাকা, বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯ | ২৯ কার্তিক ১৪২৬

এক ম্যাচেই এত রেকর্ড ব্রাজিলিয়ান রদ্রিগোর!

পরিবর্তন ডেস্ক ৩:০৩ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ০৭, ২০১৯

এক ম্যাচেই এত রেকর্ড ব্রাজিলিয়ান রদ্রিগোর!

রিয়াল মাদ্রিদের তারা ভরা পরিবারে সবে মাত্র এসেছেন। বয়স কম বলে এখনো রিয়ালের মূল দলে নিজের জায়গাটা পাকা করতে পারেননি। তবে কাল সুযোগ পেয়ে এক ম্যাচেই এমন কীর্তি গড়ে ফেললেন ব্রাজিলিয়ান তরুণ রদ্রিগো গোয়েস, তারার স্বীকৃতি তাকে দিতেই হচ্ছে!

কাল উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে গালাতাসারাইয়ের বিপক্ষে এক ম্যাচেই যে রদ্রিগো গড়েছেন এক গাদা রেকর্ড। তার মধ্যে এমন একটা কীর্তি তিনি গড়েছেন, যে কীর্তি বিশ্বসেরা লিওনেল মেসি এবং ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোরও নেই!

নিজেদের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে গালাতাসারাইকে ৬-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে রিয়াল। এই ম্যাচ দিয়েই বার্নাব্যুতে অভিষেক হলো রদ্রিগোর। আর অভিষেক ম্যাচটিতেই দলকে বিশাল জয় এনে দিতে ১৮ বছর বয়সী রদ্রিগো করেছেন হ্যাটট্রিক। সেই হ্যাটট্রিকটিও আবার ‘পারফেক্ট হ্যাটট্রিক’। যে কীর্তি মেসি-রোনালদোরও নেই। মেসি-রোনালদোর কেউই ক্যারিয়ারে এখনো চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ‘পারফেক্ট হ্যাটট্রিক’ করতে পারেননি। মেসি তো তার পুরো ক্যারিয়ারে কখনোই কোনো টুর্নামেন্টে ‘পারফেক্ট হ্যাটট্রিক’ করতে পারেনি।

সেখানে রদ্রিগো তা করে ফেললেন মাত্র ১৮ বছর বয়সেই। এর মধ্যদিয়ে ব্রাজিলিয়ান তরুণ গড়ে ফেললেন চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড় হিসেবে ‘পারফেক্ট হ্যাটট্রিক’ করার রেকর্ড। কাল হ্যাটট্রিক করার দিনটিতে তার বয়স ছিল ১৮ বছর ৩০১ দিন। তার আগে এই রেকরইডটি ছিল পিএসজির ফরাসি বিস্ময়বালক কিলিয়ান এমবাপের দখলে। কদিন আগেই ক্লাব ব্রুজের বিপক্ষে দুর্দান্ত এক হ্যাটট্রিক করে রেকর্ডটা গড়েছিলেন। সেদিন তার বয়স ছিল ২০ বছর ৩০৬ দিন।

ডান পা, বাম পা এবং হেড-কোনো ম্যাচে কোনো ফুটবলার এই তিনভাবে গোল করতে পারলেই কেবল ‘তাকে পারফেক্ট হ্যাটট্রিক’ বলা হয়। রদ্রিগো কাল এটাই করেছেন। নিজের ৩ গোলের একটি করেছেন ডান পায়ে, একটি বা পায়ে এবং অন্যটি দুর্দান্ত এক হেডে।

হ্যাটট্রিক করার পথে রদ্রিগো ম্যাচের ৭ মিনিটের মধ্যেই করে ফেলেন ২ গোল। যেটা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে কোনো খেলোয়াড়ের দ্রুততম ২ গোল করার রেকর্ড। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে দ্রুততম হ্যাটট্রিকটাও কালই হয়ে যেতে পারত রদ্রিগোর। ম্যাচের ১৪ মিনিটে পেনাল্টি পেয়েছিল রিয়াল। সেই পেনাল্টি শটটা নিলে এবং তাতে গোল করতে পারলে রেকর্ডটা তার হতো। কিন্তু রিয়াল অধিনায়ক সার্জিও রামোস তাকে সেই সুযোগ দেননি। বরং নিজেই ‘পানেনকা শটে’ গোল করে দলকে ৩-০ গোলে এগিয়ে দেন রামোস।

দ্রততম হ্যাটট্রিক না হলেও তা নিয়ে রদ্রিগোর আফসোস থাকার কথা নয়। কারণ, ম্যাচে তিনি ঠিকই হ্যাটট্রিক করেছেন। এবং সেটা রেকর্ড গড়ে।

শুধু তাই নয়, কালকের হ্যাটট্রিকের মধ্য দিয়ে ক্লাব রিয়ালেরও একটা রেকর্ডের পাতায় ঢুকে পড়েছেন রদ্রিগো। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে রিয়ালের দ্বিতীয় কনিষ্ঠ হ্যাটট্রিক কারী এখন তিনি। রিয়ালের ইতিহাসে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে তার চেয়ে কম বয়সে হ্যাটট্রিক করেছেন কেবল কিংবদন্তি রাউল গঞ্জালেস।

রিয়ালের মূল দলের হয়ে এ নিয়ে ৬টি ম্যাচ খেললেন রদ্রিগো। তাতেই ৫ গোল করে ব্রাজিলিয়ান তরুণ বুঝিয়ে দিলেন, রিয়ালকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতেই এসেছেন তিনি। স্বাভাবিকভাবেই শিষ্যের এমন বিস্ময়কর পারফরম্যান্সে উচ্ছ্বসিত রিয়াল কোচ জিনেদিন জিদান। তবে ফরাসি মহানায়ক মোটেই বিস্মিত নন, ‘আমি মোটেই অবাক হইনি। বিস্ময়কর কিছু করার ক্ষমতা তার মধ্যে আছে।’

ম্যাচের ৭ মিনিটেই ২ গোল করে রেকর্টড গড়ার পরই পুরো বার্নাব্যু রদ্রিগোর নামে গান ধরে। সমর্থকদের সেই প্রশংসাসূচক গান তরুণ রদ্রিগোকে আরও উজ্জীবিত করে। ম্যাচের যোগ করা সময়ে ‘পারফেক্ট হ্যাটট্রিক’ পূর্ণ করা তারই ফসল। ম্যাচ শেষে উচ্ছ্বসিত রদ্রিগো নিজেই বলেছেন, ‘বার্নাব্যু আমার নামে গান ধরতেই স্বপ্নটা সত্যি হয়েছে। সত্যিই খুব ভালো লাগছে আমার।’

কেআর

 

ফুটবল: আরও পড়ুন

আরও