রদ্রিগো ৩, বেনজেমা ২, রিয়াল ৬

ঢাকা, বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯ | ২৯ কার্তিক ১৪২৬

রদ্রিগো ৩, বেনজেমা ২, রিয়াল ৬

পরিবর্তন ডেস্ক ৯:২৪ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ০৭, ২০১৯

রদ্রিগো ৩, বেনজেমা ২, রিয়াল ৬

এই তো গত শনিবার এই সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতেই একটা গোলের জন্য হাপিত্যেশ করে মরেছে রিয়াল মাদ্রিদ। আরেক ‍রিয়াল, রিয়ালি বেটিসের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করেছে। ৩ দিনের ব্যবধানে কাল সেই বার্নাব্যুতেই রিয়াল ঝরালো গোল-বৃষ্টি। উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচটিতে তুর্কি ক্লাব গালাতাসারাইকে ভাসিয়েছে ৬-০ গোলে।

রিয়ালের এই গোলের বান ডাকানো জয়ের নায়ক ব্রাজিলিয়ান তরুণ রদ্রিগো গোয়েস ও ফরাসি ফরোয়ার্ড করিম বেনজেমা। রদ্রিগো করেছেন হ্যাটট্রিক। ব্রাজিলিয়ান তরুণ গড়েছেন চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড় হিসেবে হ্যাটট্রিক করার অনন্য রেকর্ড।

তরুণ রদ্রিগোর এই অনন্য কীর্তির ছায়ায় ঢাকা পড়েছেন ঠিক। তবে বেনজেমাও কম যাননি। বার্নাব্যুতে গোল-বৃষ্টি নামাতে তিনি করেছেন জোড়া গোল। রিয়ালের অন্য গোলটি করেছেন অধিনায়ক সার্জিও রামোস পেনাল্টি থেকে।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে রেকর্ড ১৩ বারের চ্যাম্পিয়ন রিয়াল। সর্বশেষ ৪ মৌসুমের মধ্যে ৩ বারই টুর্নামেন্টের শিরোপা জিতেছে তারা। সেই রিয়ালের এবার শুরুটা হয়েছিল একদমই বাজে। প্রথম ম্যাচে পিএসজির কাছে ৩-০ গোলের হার এবং দ্বিতীয় ম্যাচে ক্লাব ব্রুজের বিপক্ষে ২-২ গোলের ড্রয়ের পর রিয়াল শিবিরে গ্রুপপর্ব থেকেই ছিটকে পড়ার শঙ্কা বেজে উঠেছিল।

গালাতাসারাইকে পেয়ে সেই শঙ্কা প্রায় মুছেই ফেলল রিয়াল। তুরস্কের ক্লাবটির বিপক্ষে অ্যাওয়ে এবং হোম, দুই লেগেই জিতে জিনেদিন জিদানের দল এখন অনেকটাই নির্ভার।

গালাতাসারাইয়ের মাঠে গিয়ে প্রথম লেগে ১-০ গোলে জিতেছিল রিয়াল। কাল দ্বিতীয় লেগে তো রদ্রিগো-বেনজেমা জাদুতে তুরস্কের ক্লাবটিকে স্রেফ উড়িয়েই দিল। ৪ থেকে ৭, কাল ম্যাচের এই ৫ মিনিটের মধ্যেই ২ গোল করে বসেন রদ্রিগো। ব্রাজিল তরুণ প্রথম গোলটি করেন তারই স্বদেশি মার্সেলোর পাশ থেকে। বক্সের মাঝবৃত্তে দাঁড়িয়ে তার বাঁ-পায়ের জোরালো শট খুঁজে পায় ঠিকানা।

৭ মিনিটেই আবার রিয়ালকে গোল উৎসবে ভাসান রদ্রিগো। এবারও তিনি গোলটা করেন স্বদেশি সতীর্থ মার্সেলোর পাশ থেকে। এরপর ম্যাচের ১৪ মিনিটেই ব্যবধান ৩-০ করে ফেলে রিয়াল। এবারের গোলটি করেন সার্জিও রামোস, পেনাল্টি থেকে।

কোচ জিদান চাইলে পেনাল্টিটা রদ্রিগোকে নিতে দিতে পারতেন। কারণ, তার আগেই ২ গোল করে হ্যাটট্রিক সম্ভাবনার সামনে দাঁড়িয়েছিলেন ব্রাজিলিয়ান তরুণ। কিন্তু রিয়াল কোচ রদ্রিগোর হ্যাটট্রিকের কথা না ভেবে নিজেদের দলীয় নীতিতেই থেকেছেন। ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো চলে যাওয়ার পর থেকে রিয়ালে পেনাল্টি নেওয়ার দায়িতদ্ব দেওয়া হয়েছে রামোসকে।

তবে রামোস কখনো সখনো অন্য সতীর্থদের পেনাল্টি নিতে দেন। কিন্তু কাল রামোসও সেই পথে হাঁটেননি। রদ্রিগোকে না ডেকে নিজেই নেন স্পট কিক। তাতে গোলও করেন তিনি। তবে কোচ জিদান বা সতীর্থ রামোস ওই সাহায্যটুকু না করলেও রদ্রিগো ঠিকই রিয়ালের জার্সি গায়ে নিজের প্রথম হ্যাটট্রিকটা করেছেন। যে হ্যাটট্রিকের মাধ্যমে নিজেকে ঠাই করে নিয়েছেন ইতিহাসের পাতায়।

রদ্রিগো হ্যাটট্রিকটা পূর্ণ করেছেন ম্যাচের অন্তিম সময়ে। ইনজুরি সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে। অর্থাৎ ম্যাচের ৯২ মিনিটে। তাকে হ্যাটট্রিক করে ইতিহাস লিখতে এগিয়ে আসেন করিম বেনজেমা। এই ফরাসি ফরোয়ার্ডের পাশ থেকেই নিজের তৃতীয় গোলটা করেন রদ্রিগো।

সতীর্থকে দিয়ে হ্যাটট্রিক করানোর সময় অবশ্য বেনজেমা নিজেও হ্যাটট্রিকের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। তার আগেই করেছেন ২ গোল। ম্যাচের ৪৫ ও ৮১ মিনিটে। তাই চাইলে বেনজেমা একটু স্বার্থপর হয়ে নিজেই শট নিয়ে হ্যাটট্রিকের চেষ্টাটা করতে পারতেন। কিন্তু সে পথে না হেঁটে বেনজেমা রদ্রিগোকেই পাশ বাড়ান। সতীর্থের বলিদানকে বিফলে যেতে দেননি রদ্রিগো।

দারুণ এই জয়ে ৪ ম্যাচে ৭ পয়েন্ট হলো রিয়ালের। এই জয়ের পরও অবশ্য এ গ্রুপে পয়েন্ট তালিকার দুই নম্বরেই রয়েছে রিয়াল। তবে তাদের নকআউট পর্বে যাওয়াটা এখন অনেকটাই নিশ্চিত। অন্যদিকে কালকের এই বিশাল হারে গালাতাসারাইয়ের গ্রুপপর্ব থেকে ছিটকে পড়াও এক রকম নিশ্চিত! ৪ ম্যাচে মাত্র ২ পয়েন্ট অর্জন করা তুরস্কের ক্লাবটির আশা বেঁচে আছে শুধু কাগজে-কলমের হিসেবে।

৪ ম্যাচের ৪টিতেই জিতে গ্রুপের আরেক দল পিএসজি এরই মধ্যে নকআউটপর্ব নিশ্চিত করে ফেলেছে। ফরাসি ক্লাবটি কালকেও ১-০ গোলে হারিয়েছে ক্লাব ব্রুজকে। নিজেদের ঘরের মাঠে পিএসজিকে জয়টা এনে দিয়েছেন আর্জেন্টাইন তারকা মাউরো ইকার্দি।

কেআর

 

ফুটবল: আরও পড়ুন

আরও