২ লালকার্ড, ২ পেনাল্টি, ২ আত্মঘাতী ও ৮ গোলের রোমাঞ্চ!

ঢাকা, বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯ | ২৯ কার্তিক ১৪২৬

২ লালকার্ড, ২ পেনাল্টি, ২ আত্মঘাতী ও ৮ গোলের রোমাঞ্চ!

পরিবর্তন ডেস্ক ১১:১৪ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ০৬, ২০১৯

২ লালকার্ড, ২ পেনাল্টি, ২ আত্মঘাতী ও ৮ গোলের রোমাঞ্চ!

গোল বৃষ্টি, ফাউলের প্রতিযোগিতা, ধাক্কাধাক্কি, পেনাল্টি, হলুদকার্ড, লালকার্ড, আত্মঘাতী গোল! একটা ফুটবল ম্যাচ উত্তেজনাকর ও রোমাঞ্চকর হয়ে উঠতে যেসব উপাদান দরকার, তার দুর্দান্ত একটা প্রদর্শনীই হয়েছে কাল স্টাম্পফোর্ড ব্রিজে। শিরোনামের তথ্যগুলো স্পষ্টই বলে দিচ্ছে, একটা ফুটবল ম্যাচে যা যা ঘটতে পারে, সবকিছুই ঘটেছে চেলসি ও আয়াক্সের মধ্যকার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচটিতে।

শুরু থেকে শেষ, চরম উত্তেজনা ও রোমাঞ্চে ঠাসা ম্যাচটির শেষ পরিণতিও হয়েছে রোমাঞ্চকর। ম্যাচে মোট গোল হয়েছে ৮টি। অথচ ফল ড্র! চেলসি-আয়াক্সের স্নায়ুক্ষয়ী লড়াই শেষ হয়েছে ৪-৪ গোলে! ৮ গোলের মধ্যে দুটি গোল আত্মঘাতী। দুটি গোল এসেছে পেনাল্টি থেকে।

মজাটা এখানেই শেষ নয়। ম্যাচে দুটি আত্মঘাতী গোলই উপহার পেয়েছে সফরকারী আয়াক্স। স্বাগতিক চেলসিকেও ঠকাননি ভাগ্যদেবী। ম্যাচে দুটি পেনাল্টিই পেয়েছে চেলসি। এবং তা থেকে দুটি গোলও পেয়েছে ইংলিশ ক্লাবটি। অদৃশ্যে বসে ভাগ্যদেবী যদি ম্যাচে কোনো দলকে ঠকিয়ে থাকেন, সেই দুর্ভাগা দলটি আসলে আয়াক্স। দুই আত্মঘাতীর বিপরীতে দুই পেনাল্টি। শোধ-বোধের ব্যাপারই এখানে। কিন্তু ম্যাচে যে দুটি লালকার্ড দেখিয়েছেন রেফারি, সেই দুটি লালকার্ডই দেখেছেন আয়াক্সের খেলোয়াড়েরা।

দুটি লালকার্ড আবার আয়াক্স পেয়েছে পরপর দুই মিনিটে। ৬৭ মিনিটে দ্বিতীয় হলুদকার্ড (যা কার্যত লালকার্ড) দেখে মাঠে ছাড়েন আয়াক্সের ডাচ ডিফেন্ডার ডেলে ব্লাইন্ড। পরের মিনিটেই মানে ৬৮ মিনিটে একই কাণ্ড করে (দ্বিতীয় হলুদকার্ড) দেখে মাঠ ছাড়েন তার সতীর্থ জোয়েল ভেতমান। দুই মিনিটে দুই খেলোয়াড়কে হারিয়ে ৯ জনের দলে পরিণত হয় আয়াক্স। চেলসি তারই ফায়দা তুলেছে ৭০ ও ৭৩ মিনিটে দুই গোল করে। যে গোল দুটি চেলসিকে এনে দিয়েছে রোমাঞ্চকর ড্র। অথচ নিজেদের মাঠে এক পর্যায়ে চেলসি ৪-১-এ পিছিয়ে ছিল!

ম্যাচের শুরুটাই হয় আত্মঘাতী গোল রোমাঞ্চের মধ্যদিয়ে। ম্যাচের প্রথম মিনিটেই দলকে বিপদমুক্ত করতে গিয়ে বল নিজেদের জালে জড়িয়ে দেন চেলসির ডিফেন্ডার টম্মি আব্রাহাম। ম্যাচ শুরু হতেই আয়াক্স এগিয়ে যায় ১-০ ব্যবধানে। দুই মিনিট পরই অবশ্য সমতায় ফেরে চেলসি। ম্যাচের ৩ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে ব্যবধান ১-১ করেন জোয়ারজিনহো ফ্রেলো। ২০ মিনিটের সময় আবার এগিয়ে যায় আয়াক্স।

ডাচ ক্লাবটির হয়ে এই গোলটি করেন কুইন্সি প্রোমেস। ৩৪ মিনিটে আবারও গোল উৎসবে মাতে আয়াক্স। দলকে বিপদমুক্ত করতে গিয়ে এবার উল্টো দলের বিপদ ডেকে আনেন চেলসির স্প্যানিশ গোলরক্ষক কেপা আরিজাবালাগা। আয়াক্স এগিয়ে যায় ৩-১ গোলে। এই ব্যবধান নিয়েই বিরতিতে যায় আয়াক্স। বিরতি থেকে ফেরার ৯ মিনিটের মধ্যেই আরও একটি গোল পেয়ে যায় ডাচ ক্লাবটি। ৫৪ মিনিটে দুর্দান্ত এক ফিনিশিংয়ে ব্যবধান ৪-১ করেন ডনি ফন ডি বীক।

স্টাম্পফোর্ড ব্রিজ তখন শোকে স্তব্ধ। জয় স্বপ্ন ভুলে দল আরও কয় গোল খায়, চেলসি সমর্থকদের গায়ে তখন সেই শঙ্কারই ঝড়। ভাগ্যদেবীর বুঝি চেলসি সমর্থকদের সেই অস্থিরতা দেখে বড় মায়া লাগে! অদৃশ্যে বসে তিনি তাই দ্রুতই পাল্টে ফেলে ম্যাচের চিত্রনাট্য। ৬২ মিনিটে টম্মি আব্রাহাম তার শুরুর ভুলের প্রায়শ্চিত্ব করেন দুর্দান্ত এক গোল করে। ব্যবধান নামিয়ে আনেন ৪-২-এ। এরপর সেই দুই মিনিটে চেলসির পক্ষে আয়াক্সের বিপক্ষে দুই লালকার্ড কাণ্ড। অতপর ৩ মিনিটের ব্যবধানে চেলসির আরও দুটি গোল। ৭০ মিনিটে দলের তৃতীয় এবং নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন জোয়ারজিহো ফ্রেলো। এরপর চতুর্থ গোলটি করেন রেসে জেমস। যে গোলে চেলসি পেয়েছে অবিশ্বাস্য ড্র।

বাকি সময়টুকুতে দুই দলই পাল্লা দিয়ে লড়েছে জয়সূচক গোল করার। কিন্তু ভাগ্যদেবী কারো মুখেই জয় হাসি ফোটাননি। এমন রোমাঞ্চকর নাটকীয় ম্যাচে জয়ের চেয়ে ড্র’টাই বোধ হয় বেশি মানানসই! কারো প্রতি অন্যায় হয়নি!

কেআর

 

ফুটবল: আরও পড়ুন

আরও