মেসির ক্যারিয়ার সেরা ১০ গোল

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯ | ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

মেসির ক্যারিয়ার সেরা ১০ গোল

পরিবর্তন ডেস্ক ৪:২৮ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৯, ২০১৯

মেসির ক্যারিয়ার সেরা ১০ গোল

এক এক করে পেপশাদার ক্যারিয়ারের ১৫ বছর পূর্ণ করলেন লিওনেল মেসি। গত ১৬ অক্টোবর ছিল বার্সেলোনা মূল দলের হয়ে অভিষেকের ১৫ বছর পূর্তি। সেদিনই তার হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেওয়া হয় রেকর্ড ষষ্ঠ সোনার জুতো। বিশেষ এই দিনটি উপলক্ষে স্পেনের জনপ্রিয় দৈনিকগুলোতে ছাপা হয়ে বিশেষ প্রতিবেদন।

জনপ্রিয় ক্রীড়া দৈনিক এএস যেমন পরিসংখ্যানের পাতা ঘেটে বাছাই করেছে মেসির ক্যারিয়ারের সেরা ১০টি গোল। সুদীর্ঘ ১৫ বছরে বার্সেলোনা মূল দলের হয়ে ৬০৪টি অফিসিয়াল গোল করেছেন মেসি। তার মধ্য থেকে সেরা ১০টি গোল বেছে নেওয়াটা কঠিন।

দর্শনীয় ও মুগ্ধতার মাপকাঠিতে তুলে সেই কঠিন কাজটা করেছে এএস্। পত্রিকাটির বাছাই করা মেসির ক্যারিয়ারের সেই সেরা ১০টি গোলের সংক্ষিপ্ত বিবরণ পরিবর্তন পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।

১. আলবেসেতের বিপক্ষে, ২০০৫ সালের ১ মে

সেরা গোলের প্রসঙ্গ উঠলে মেসি প্রায়ই বার্সার মূল দলের হয়ে নিজের সেই প্রথম গোলটির কথা বলেন। ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনালদিনহোর পাশ থেকে যে গোলটি তিনি করেছিলেন আলবেসেতের বিপক্ষে ২০০৫ সালের ১ মে। ঠিক তার আগের মিনিটেই অফ-সাইডের কারণে তার একটা গোল বাতিল করা হয়। তবে ওই আফসোস পরের মিনিটেই দূর হয়ে যায় মেসির।

জটলার ভেতর থেকে রোনালদিনহো স্কুপ করে পাশ বাড়ান মেসিকে। ততক্ষণে আলবেসেতের গোলরক্ষক রাউল ভালবুয়েনা অনেকটাই উপরে উঠে এসেছেন। বল অসাধারণ দক্ষতায় নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে তরুণ মেসি বৃদ্ধিমত্তার সঙ্গে গোলরক্ষক ভালবুয়েনার মাথার উপর দিয়ে লব করেন। ভালবুয়েনা পেছন ঘুরে অসহায় দৃষ্টিতে দেখেন বল জালে জড়িয়ে যাচ্ছে!

ওই বয়সেই এমন বৃদ্ধিমত্তার সঙ্গে গোল করা, মেসির গ্রেট ক্যারিয়ারের ইঙ্গিতটা মিলেছিল সেই গোলেই। এএসও তাই মেসির ক্যারিয়ারের সেরা ১০ গোলের একটি হিসেবে বেছে নিয়েছে ওই গোলটিকে। যে গোলটির কথা মনে করে মেসি এখনো বিস্ময়ের হাসি হাসেন।

২. গেটাফের বিপক্ষে, ২০০৭ সালের ১৮ এপ্রিল

২০০৭ সালের ১৮ এপ্রিল লা লিগার ম্যাচে গেটাফের বিপক্ষে একক প্রচেষ্টায় অবিশ্বাস্য এক গোলই করেন মেসি। মেসির যে গোলটি কিছুদিন আগে ডিয়েগো ম্যারাডোনার সেই বিশ্বখ্যাত ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’র গোলটিকেও হারিয়ে সেরা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে দুটি গোল করেছিলেন ম্যারাডোনা। তার সেই দুটি গোলই ইতিহাসের পাতায় বিশেষ জায়গা দখল করে আছে। একটি বিখ্যাত হয়ে আছে ‘হ্যান্ড অব গড’ হিসেবে। হাত দিয়ে গোল করে ম্যারাডোনা নিজেই তাকে ঈশ্বরের হাত বলে আখ্যায়িত করেছেন। অন্যটি পেয়েছে ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’র খেতাব।

ইংল্যান্ডের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়কে কাটিয়ে একক প্রচেষ্টায় যে গোলটা করেছিলেন ম্যারাডোনা। তবে সম্প্রতি এক জরিপে ম্যারাডোনার সেই ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’কে পেছনে ফেলে গেটাফের বিপক্ষে করা মেসির সেই গোলটিকেই ‘সেরা’ নির্বাচন করেছে। মেসি নিজেদের অর্ধেই বলটা পডান। সেখানেই গেটাফের দুজন খেলোয়াড়কে বোকা বানিয়ে বল নিয়ে তীব্রগতিতে দৌড় শুরু করেন। দৌড়ে বক্সে ঢুকে পরার আগে প্রতিপক্ষের আরও দুজন ডিফেন্ডারকে শরীরের কসরতে পরাজিত করেন। এরপর বক্সের ভেতর ঢুকে গেটাফের গোলরক্ষককেও কাটিয়ে ডান পায়ের প্লেসিং শটে বল জড়িয়ে দেন জালে। কী অবিশ্বাস্য গোল! যে গোলটি দেখলে মেসির পরম শত্রুরাও করতালি বাজাতে বাধ্য হন।

৩. রিয়াল জারাগোজার বিপক্ষে ২০১০ সালের ২১ মার্চ

ক্যারিয়ারের যে কয় গোল মেসিকে বেশি আলোচনায় তুলেছে, ২০১০ সালের ২১ মার্চ রিয়াল জারাগোজার বিপক্ষে করা গোলটি তার একটি। গেটাফের বিপক্ষের গোলটির মতো এই গোলটিও মেসি প্রায় একক প্রচেষ্টাতেই করেন। অর্ধ সীমানার কাছাকাছি বল পান মেসি। সেখানেই প্রতিপক্ষের একজন কাটিয়ে দূরন্তগতিতে মেসি বল নিয়ে ঢুকে পড়েন বক্সে। ‘স্প্রিন্টার’ মেসির দৌড়টা ছিল দেখার মতো। এরপর বক্সে ঢুকে প্রতিপক্ষের দুজনকে বোকা বানিয়ে দুর্দান্ত ফিনিশিং। গোলটি দেখে বিস্ময়ে রাকরুদ্ধ হয়ে যান বার্সেলোনার তৎকালীন কোচ পেপ গার্দিওলা।

৪. অ্যাথলেতিক বিলবাওয়ের বিপক্ষে, ২০১৩ সালের ২৭ এপ্রিল

মেসি ক্যারিয়ারের আরেকটি অবিশ্বাস্য গোল করেন ২০১৩ সালের ২৭ এপ্রিল, অ্যাথলেতিক বিলবাওয়ের বিপক্ষে। ম্যাচে বার্সেলোনা তখন ২-১ গোলে পিছিয়ে। মানে হার এড়াতে অন্তত একটা গোল তাদের চাই-ই। দলের সেই প্রয়োজন মেসি মেটান জাদুকরি এক গোল করে। সতীর্থ থিয়গো আলকাতার পাশটি যখন মেসি নিজের নিয়ন্ত্রণে নিলেন, তার চার পাশে তখন প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়েরা গিজগিজ করছে। সোজা পায়ে শট নেওয়ার কোনো উপায়ই ছিল না। কী করবেন, কীর করবেন! মুহূর্তের মধ্যেই মেসি সবাইকে বিস্মিত করে সাইশুটিং শটে বল জড়িয়ে দিলেন জালে। পা উল্টো করে এক পাশ দিয়ে শট নেওয়া। অবিশ্বাস্য গোলটির পর প্রতিপক্ষ বিলবাওয়ের খেলোয়াড়েরাও বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যান।

৫. কর্দোবার বিপক্ষে, ২০১৪ সালের ২০ ডিসেম্বর

প্রতিপক্ষকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিতে মেসি সেদিন দুটো গোল করেছিলেন। তার একটি ছিল দেখার মতো। দূর থেকে বার্সেলোনার এক খেলোয়াড়ের ক্রস। উড়ে আসা বল হেড করতে লাফিয়ে উঠেন কর্দোবার ডিফেন্ডার হোসে অ্যাঙ্গেল ক্রেসপো ও বার্সার ডিফেন্ডার জর্ডি আলবা। মেসি পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন। তো ক্রেসপো এবং জর্ডি আলবা দুজনেই সঠিকভাবে হেড করতে ব্যর্থ হন।

বল তাদের গায়ে লেগে চলে আসে মেসির পায়ে। কিন্তু সামনে কর্দোবার খেলোয়াড়েরা থাকায় এবারও সোজা শট নেওয়ার সুযোগ ছিল না। মেসি মুহূর্তেই ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে শট নেন ডান পায়ে। কর্দোবার গোলরক্ষক হুয়ান কার্লোসকে ফাঁকি দিয়ে বল জড়িয়ে যায় জালে।

৬. বার্য়ান মিউনিখের বিপক্ষে, ২০১৫ সালের ৬ মে

উপরের ৫টি গোলটিই মেসি করেছেন লা লিগায়। এএস এর সেরা দশের ষষ্ঠ গোলটি করেছেন উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে। ২০১৫ সালের ৬ মে বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে সেমিফাইনালের ফিরতি লেগে, বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে। ম্যাচে তার ৩ মিনিট আগেই ক্লাব বার্সেলোনাকে ১-০তে এগিয়ে দেন মেসি। সেই গোলের রেশ না কাটতেই ব্যবধান ২-০ করেন দর্শনীয় গোলে। ইভান রাকিতিচের পাশ উল্টো ঘুরে দুর্দান্ত দক্ষতায় নিজের নিয়ন্ত্রণে নেন মেসি। কিন্তু তার ঠিক পেছনেই ছিলেন বায়ার্ন ডিফেন্ডার জেরম বোয়াটেং। প্রথমে বোয়াটেং শারীরিক কসরতে বোকা বানান। এরপর দর্শনীয়ভাবে বোকা বানান বায়ার্ন গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যারকে।

৭. অ্যাথলেতিক বিলবাওয়ের বিপক্ষে, ২০১৫ সালের ৩০ মে

মেসি এই গোলটা করেন অ্যাথলেতিক বিলবাওয়ের বিপক্ষে কোপা ডেল রের ফাইনালে। প্রতিপক্ষের তিনজন ডিফেন্ডার ঘিরে ধরে তাকে। মেসি পায়ের অবিশ্বাস্য জাদুতে তিনজনকেই হারিয়ে দর্শনীয় ভঙ্গিতে বল জড়িয়ে দেন জালে। সেবার কোপার শিরোপা জয়ের পাশাপাশি ইতিহাসে দ্বিতীয় বারের মতো ট্রেবলও জেতান বার্সাকে।

৮. রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে, ২০১৭ সালের ২৩ এপ্রিল

অনেকের মতেই সেবারের এল ক্লাসিকোটা ছিল লা লিগার শিরোপা নির্ধারণী। তো ম্যাচের ৯২ মিনিট পর্যন্তও ২-২ সমতা ছিল। ঠিক তখনই মেসির জাদু। জাদু প্রথম দেখান আসলে সের্গি রবার্তো। ক্ষীপ্রগতির এক দৌড়ে তিনি বল নিয়ে ঢুকে পড়েন প্রতিপক্ষের বিপদ সীমায়। এরপর তিনি পাশ দেন জর্ডি আলবাকে।

জর্ডি আলবা স্কয়ার করে বল পাঠান মেসির দিকে। খানিকটা দৌড়ে এসে মেসির বুলেটগতির শট। তার অবিশ্বাস্য গোলে বার্সেলোনা ম্যাচটা জিতে যায় অবিশ্বাস্যভাবে। গোলটির পর মেসি এতটাই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন যে, জার্সি খুলে উদযাপন করে নিয়ম ভাঙার অপরাধ পর্যন্ত করে ফেলেন!

৯. রিয়াল সোসিয়েদাদের বিপক্ষে, ২০১৮ সালের ১৮ জানুয়ারি

এই গোলটা তিনি করেন ফ্রি কিক থেকে। ফ্রি কিক থেকে অনেক দর্শনীয় গোলই মেসি করেছেন। তবে ২০১৮ সালের ১৮ জানুয়ারি রিয়াল সোসিয়েদাদের বিপক্ষে করা গোলটি একটু বেশিই বিস্ময়কর ছিল। বার্সা ফ্রি কিকটা পেয়েছিল গোলপোস্ট থেকে ৩৫ গজ দূরে। এত দূর থেকে সচরাচর কেউ সরাসরি গোলে কিক নেন না। কিন্তু মেসি সেদিন সরাসরিই গোলে শট নেন। এবং সবাইকে বিস্ময়ে ভাসিয়ে বল জড়িয়েও যায় রিয়াল সোসিয়েদাদের জালে। বার্সা ম্যাচটাও জিতে নেয় ৪-২ গোলে।

১০. রিয়াল বেটিসের বিপক্ষে, ২০১৯ সালের ১৭ মার্চ

এএস-এর বিচারে মেসি ক্যারিয়ার সেরা ১০ গোলের একটা গোল করেছেন এ বছরই, ১৭ মার্চ রিয়াল বেটিসের বিপক্ষে। মেসি সেদিন দলকে ৪-১ গোলের জয় এনে দিতে করেন হ্যাটট্রিক। যার একটি গোল ছিল অবিশ্বাস্য। ইভান রাকিতিচের কাট-ব্যাক পাশ থেকে বল পেয়ে মেসির প্রথম প্রচেষ্টা প্রতিহত হয় ক্রস বারে। তবে ফিরতি বলে আবারও শট নেন মেসি। ১৮ গজ দূর থেকে তার সেই শট জাল খুঁজে নেওয়াটা ছিল অবিশ্বাস্য। কারণ, পেনাল্টি বক্সের ভেতরে তখন রিয়াল বেটিসের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়। তাদের গা এড়িয়ে বল জালে পাঠানোটা সহজ ছিল না। কিন্তু অবিশ্বাস্যভাবে মেসি কঠিন কাজটা করে ফেলেন নিমিষেই!

কেআর

 

ফুটবল: আরও পড়ুন

আরও