নিজের সব ‘সেরা’ বাছাই করলেন মেসি

ঢাকা, বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯ | ২৯ কার্তিক ১৪২৬

নিজের সব ‘সেরা’ বাছাই করলেন মেসি

পরিবর্তন ডেস্ক ৫:৪০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১০, ২০১৯

নিজের সব ‘সেরা’ বাছাই করলেন মেসি

লিওনেল মেসির ক্যারিয়ারের সেরা গোল কোনটি? তার সেরা ম্যাচ কোনটি? ক্যারিয়ারের সেরা সময়টা কাটিয়েছেন কখন? সবচেয়ে খারাপ সময়টাই বা কাটিয়েছেন কখন? তার সবচেয়ে প্রিয় এবং কঠিন প্রতিপক্ষ কে? তার সেরা কোচ কে?

তার ক্যারিয়ারের বয়স যখন মধ্যগগণে, তখন থেকেই এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বেড়াচ্ছেন ফুটবলপ্রেমীরা। বিশ্ব ক্রীড়া সাংবাদিকেরাও হন্যে হয়ে এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছে। কখনো সখনো নিজেরাই নিজেদের পছন্দ মতো একটাকে সেরা হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। কিন্তু মেসি কখনোই কোন একটি নির্দিষ্ট গোল বা ম্যাচকে ‘সেরা’র সার্টিফিকেট দেননি।

নির্দিষ্ট করে বলেননি সেরা বা খারাপ সময়ের কথা। অবশেষে সেই কাজটা করলেন মেসি। শত শত গোলের মধ্য থেকে মেসি নিজেই একটা গোলকে বেছে নিলেন ক্যারিয়ারের ‘সেরা’ গোল হিসেবে। নির্দিষ্ট করে বললেন ‘সেরা’ ম্যাচের কথা। জানালেন নিজের সেরা কোচের নাম। বললেন নিজের প্রিয় প্রতিপক্ষ এবং কঠিন প্রতিপক্ষের নাম।

সম্প্রতি স্প্যানিশ রেডিও স্টেশন আরএসিওয়ানকে দীর্ঘ এক সাক্ষাৎকার দেন মেসি। এরই মধ্যে খণ্ড খণ্ডভাবে সাক্ষাৎকারটির কয়েকটি অংশ প্রকাশিতও হয়েছে। এবার পুরো সাক্ষাৎকারটিই প্রকাশ করা হলো। তাতে মেসি নিজের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার ঘেটে বের করেছেন নিজের সব সেরা। পরিবর্তন পাঠকদের জন্য যা তুলে ধরা হলো।

১. সেরা মেসি

প্রশ্ন করা হয় আপনার মতে ক্যারিয়ারের ‘সেরা মেসি’র দেখা কখন মিলেছে? উত্তরে মেসি বলেছেন পেপ গার্দিওলা বার্সেলোনার কোচ থাকাকালীন সময়টার কথা। গার্দিওলা বার্সেলোনার মূল দলের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন ৪ বছর (২০০৮ থেকে ২০১২)। মেসির দাবি, কোচ গার্দিওলার নেতৃত্বাধীন সেই ৪টি বছরেই দেখা গেছে সেরা মেসিকে, ‘আমি প্রতিটি বছরই নিজের খেলায় উন্নতি করার চেষ্টা করি। তবে আমি মনে করি (পেপ) গার্দিওলার সময়টি ছিল খুবই বিশেষ (ভেরি স্পেশাল)। একজন খেলোয়াড় হিসেবে ওই সময়টায় আমি অনেক উন্নতি করেছি।’

২. সেরা গোল

ক্লাব বার্সেলোনার হয়েই অফিসিয়াল গোল করেছেন ৬০৪টি। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জাতীয় দলের হয়েও ৬৮টি গোল। এত এত গোলের মধ্য থেকে একটা গোলকে সেরা হিসেবে বেছে নেওয়া কটিন। এতদিন পর মেসি সেই কঠিন কাজটা করেছেন। ক্যারিয়ারের ‘সেরা’ হিসেবে বেছে নিয়েছেন ২০০৮-০৯ মৌসুমে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে করা সেই গোলটিকে। দলকে ২-০ গোলের জয় এনে দিতে যে গোলটা তিনি করেছিলেন হেড করে।

দর্শনীতার বিচারে মেসির এই রায়ে ফুটবলপ্রেমীরা সন্তুষ্ট হওয়ার কথা নয়। কারণ অনেকটা ফাঁকায় দাঁড়িয়ে মেসি অনায়াসেই গোলটা করেছিলেন। তার চেয়েও হাজার গুণ বেশি দর্শনীয় গোল মেসি করেছেন। ফ্রি কিক, দূরপাল্লার শট থেকেও কত মোহনীয় গোলই করেছেন। কিন্তু সেসব গোলকে বাদ দিয়ে রোমের অলিম্পিক স্টেডিয়ামে করা ওই গোলটিকে ‘সেরা’ হিসেবে বেছে নেওয়ার কারণ, গোলটা তিনি করেছিলেন হেডে। ফুটবলপ্রেমী মাত্রই জানেন, মেসি মাথার ব্যবহারে গোল করার তেমন দক্ষ নন। অদক্ষ সেই মাথার ব্যবহারে গোলটা করেছিলেন চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে। যে গোলটির পর মেসি নিজেও অবাক হয়েছিলেন! ওই গোলটি আজও মেসির কাছে বিস্ময় হয়েই আছে! তাই তো একবাক্যে ‘সেরা’র তকমাই লাগিয়ে দিলেন।

৩. সেরা ম্যাচ

মেসির জন্য সেরা ম্যাচ বাছাই করাটাও কঠিন। কারণ, অনেক অনেক ম্যাচেই একক কতিত্বে দলকে জিতিয়েছেন। হ্যাটট্রিকও করেছেন অসংখ্যবার। এমনকি এক ম্যাচে ৫ গোল করার বিস্ময়ও দেখিয়েছেন। কিন্তু মেসি ক্যারিয়ারের সেরা ম্যাচ হিসেবে বেছে নিয়েছেন ২০১০-১১ মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেই সেমিফাইনালটিকে। যে ম্যাচটিতে হোসে মরিনহোর রিয়ালের বিপক্ষে বার্সেলোনা জিতেছিল ২-০ ব্যবধানে। ম্যাচে দুটো গোলই করেছিলেন মেসি।

৪. সেরা সময়

সেরা মেসি’র ব্যাখ্যায় যে উত্তরটা দিয়েছিলেন মেসি, ক্যারিয়ারের সেরা সময় হিসেবেও সেই সময়র কথাই বলেছেন। স্পষ্ট করেই জানালেন, কোচ গার্দিওলার সময়টাই ছিল তার সেরা সময়।

৫. সবচেয়ে খারাপ সময়

ক্যারিয়ারের সবচেয়ে খারাপ সময় হিসেবে মেসি উল্লেখ করেছেন ২০১৩-১৪ মৌসুমকে। সেবার চোটের কারণে প্রায় দীর্ঘ তিন মাস মাঠের বাইরে কাটাতে হয়েছে। ফর্মেও কিছুটা ভাটা পড়েছিল। সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে করেছিলেন মাত্র ৪১টি গোল। শিরোপা বলতে জিতেছিলেন একমাত্র স্প্যানিশ সুপারকাপ। মাঠের পাশাপাশি মাঠের বাইরেও কাটাতে হয়েছে দুঃসময়। কর ফাঁকির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দিয়েছিল স্পেনের কর কর্তৃপক্ষ। যে মামলায় বারবার দাঁড়াতে হয় আদালতের কাঠগড়ায়। তীব্র সমালোচনা আর অপমানে অতিষ্ঠ হয়ে মেসি সেবার বার্সেলোনাই ছাড়তে চেয়েছিলেন।

৬. প্রিয় প্রতিপক্ষ

মেসির বিধ্বংসী রূপ লা লিগার সব ক্লাবই দেখেছে। দেখেছে ইউরোপের অন্য দেশগুলোর জায়ান্ট ক্লাবগুলোও। সবচেয়ে ক্যারিয়ারে যত প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলেছেন, তার মধ্যে মেসির সবচেয়ে প্রিয় প্রতিপক্ষ সেভিয়া। স্প্যানিশ এই ক্লাবটির বিপক্ষে মোট ৩৮ ম্যাচে তিনি গোল করেছেন ৩৭টি। যা একক ক্লাবের বিপক্ষে সবচেয়ে বেশি গোল করার রেকর্ড। এবারও মৌসুমে নিজের গোলের খাতা খুলেছেন এই সেভিয়ার বিপক্ষেই।

৭. সবচেয়ে কঠিন প্রতিপক্ষ

কোনো ক্লাব নয়, সবচেয়ে কঠিন প্রতিপক্ষ হিসেবে মেসি বেছে নিয়েছেন স্পেন জাতীয় দলকে। বলেছেন, ‘আমার মতে সবচেয়ে কঠিন প্রতিপক্ষ স্পেন জাতীয় দল। ২০১০ বিশ্বকাপের আগে আমরা তাদের বিপক্ষে অ্যাতলেতিকোর (মাদ্রিদ) মাঠে একটা প্রীতি ম্যাচ খেলেছিলাম। তখন আমাদের (আর্জেন্টিনার) কোচ ছিলেন (ডিয়েগো) ম্যারাডোনা। সেই ম্যাচে (স্পেন ২-১ গোলে জিতেছিল, স্পেনের হয়ে দুটো গোলই করেছিলেন জাবি আলোনসো। আর্জেন্টিনার একমাত্র গোলটা করেছিলেন মেসি) সত্যিই আমি আমাদের প্রতিপক্ষের খেলায় বিস্মিত হয়েছিলাম। স্পেনের বিপক্ষে আমাদের সর্বশেষ ম্যাচটিও, যে ম্যাচে আমি খেলিনি, আমাকে সে কথাই মনে করিয়ে দিয়েছে যে, প্রতিপক্ষের তুলনায় আমরা কতটা আন্ডারডগ! জুলিয়েন লোপেতেগুইয়ের অধীনে যে ম্যাচটিতে স্পেন আমাদের ৬-১ গোলে হারিয়েছিল। বল পজেশনের মধ্যদিয়ে তারা আমাদের নাস্তানুবাদ করে ছাড়ে।’

৮. মুখোমুখি হওয়া সবচেয়ে কঠিন ডিফেন্স

নির্দিষ্ট করে কোনো ক্লাবের নাম বলেননি মেসি। তবে ক্লাব এবং জাতীয় দলের হয়ে ক্যারিয়ারজুড়ে যত প্রতিপক্ষের বিপক্ষেই খেলেছেন, তাদের মধ্যে ইংলিশ ক্লাবগুলোর বিপক্ষে খেলাটাই বেশি কঠিন বলে জানিয়েছেন মেসি, ‘নির্দিষ্ট কোনো ক্লাব? আমি ঠিক বলতে পারব না। আমাদের অনেক কঠিন প্রতিপক্ষই আছে। তবে ইংলিশ ক্লাবগুলোর ডিফেন্স খুবই কঠিন। আমি নির্দিষ্ট করে কোনো ক্লাবের নাম বলতে চাই না।’

কেআর

 

ফুটবল: আরও পড়ুন

আরও