সেই ‘ট্রেডমার্ক’ ফ্রি-কিক থেকে অন্য ১০০ মেসির

ঢাকা, সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯ | ২৯ আশ্বিন ১৪২৬

সেই ‘ট্রেডমার্ক’ ফ্রি-কিক থেকে অন্য ১০০ মেসির

পরিবর্তন ডেস্ক ১১:১৫ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ০৭, ২০১৯

সেই ‘ট্রেডমার্ক’ ফ্রি-কিক থেকে অন্য ১০০ মেসির

প্রতিপক্ষের বক্সের বাইরে ফ্রি কিক পেয়েছে বার্সেলোনা। শট রুখে দেওয়ার জন্য সামনে ৪-৫ জনের মানব দেয়াল। বল নিজের মন মতো বসিয়ে কয়েক গজ পেছনে গিয়ে শট নেওয়ার অপেক্ষায় মেসি। মুখে হাত দিয়ে পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা সতীর্থকে বিড় বিড় করে কী যেন বলছেন মেসি!

এরপর রেফারির বাঁশি বাজতেই হালকা দৌড়ে এসে বাঁ-পায়ে আলতো করে বল বাতাসে ভাসিয়ে দিলেন মেসি। মানব প্রাচীরের উপর দিয়ে ভাসতে ভাসতে বাক খাওয়া শটটি পোস্টের বাম বা ডান কোণ ঘেষে ঢুকে গেল জালে! গোলরক্ষক অসহায়তের মতো দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছেন, বল কীভাবে তার সাধ্যের বাইরে দিয়ে জড়িয়ে যাচ্ছে জালে!

একবার দুবার নয়, ক্যারিয়ারে অসংখ্য বার এই ফ্রি কিক জাদু দেখিয়েছেন মেসি। ফ্রি কিকের এই দৃশ্যটাকে নিজের ‘ট্রেডমার্ক’ বানিয়ে ফেলেছেন বার্সেলোনার আর্জেন্টাইন তারকা। গতকাল রাতে সেই ‘ট্রেডমার্ক’ ফ্রি কিকেই মৌসুমে নিজের গোলের খাতা খুললেন মেসি। মৌসুমে এটাই তার প্রথম গোল।

শুধু গোলের খাতা খোলা নয়, কালকের এই ফ্রি কিক গোলটির মাধ্যমে অন্য রকম একটা সেঞ্চুরিও করেছেন রেকর্ড ৬ বারের ফিফা বর্ষসেরা ফুটবলার। ক্লাব বার্সেলোনার হয়ে বক্সের বাইরে তেকে এটা ছিল মেসির ১০০তম গোল।

সব মিলে বার্সেলোনার হয়ে এটা তার ৬০৪তম অফিসিয়াল গোল। এর মধ্যে ঠিক ১০০টি গোল তিনি করলেন বক্সের বাইরে থেকে। যার মধ্যে সরাসরি ফ্রি কিক থেকে এসেছে ৪৩টি গোল।

মানে এ নিয়ে ফ্রি কিকে লা লিগা প্রতিপক্ষ দলের গোলরক্ষকদের ৪৩ বারের মতো বোকা বানালেন মেসি। কালকের গোলটা করা অবশ্য তার জন্য একটু সহজই ছিল না। কারণ, বার্সেলোনা ফ্রি কিকটা পেয়েছিল সবচেয়ে সুবিধাজনক জায়গায়। যেখান থেকে শট নেওয়াটা মেসির জন্য সবচেয়ে বেশি স্বচ্ছন্দের।

ফ্রি কিকটা ছিল সেভিয়ার বক্সের বাম দিকে কিছুটা বাইরে। পোস্ট থেকে ২৫ গজ দূরে। বাঁ-পায়ের খেলোয়াড়দের ফ্রি কিক নেওয়ার সবচেয়ে আদর্শ জায়গায়। মেসির শট ঠেকাতে সামনে মানব প্রাচীর গড়েছিলেন সেভিয়ার ৫ জন খেলোয়াড়। সেভিয়ার গোলরক্ষক ভাকলিক শট ঠেকাতে মানব প্রাচীরটা প্রথম পোস্টে তৈরি করে নিজে দাঁড়ান দ্বিতীয় পোস্ট ঘেষে। মনে করেছিলেন জায়গা বেশি পেতে মেসি হয়তো শট দূরের পোস্টেই নেবেন।

কিন্তু তার ধারণাকে মিথ্যা প্রমাণ করে মেসি শটটা নেন প্রথম পোস্টেই। ৫ জনের মানব দেয়ালের উপর দিয়ে বল বাতাসে ভাসতে ভাসতে প্রথম পোস্টের উপরের কোণা ঘেষে ঢুকে যায় জালে। অনেকটা দূরে দাঁড়ানো সেভিয়ার গোলরক্ষক ভাকলিক অবশ্য শট ঠেকানোর জন্য বাম দিকে ঝাপ দিয়েছিলেন। কিন্তু তার সেই চেষ্টাটা মিছে ছিল। কোণা ঘেষে যাওয়া মেসির শটটি রুখে দেওয়ার সাধ্য কার্য়ত তার ছিল না!

প্রিয় প্রতিপক্ষ সেবিয়ার বিপক্ষে মেসির ৩৭তম গোল। মোট ৩৮ ম্যাচে এতোগুলো গোল করলেন তিনি। তবে তার মৌসুমের এই প্রথম গোলটি বার্সেলোনার জয়ে বড় ভূমিকা রাখেনি। জয়ের পরিধি বাড়িয়েছে মাত্র। কারণ, তার আগেই লুইস সুয়ারেজ, আরতুরো ভিদাল ও উসমানে ডেম্বেলের কল্যাণে ৩-০ গোলে এগিয়ে যায় বার্সা।

ম্যাচের ২৭ থেকে ৩৫, এই ৮ মিনিটের এক ঝড়ে গোল ৩টি আদায় করে নেন সুয়ারেজ, ভিদাল, ডেম্বেলে। ম্যাচটাও শেষ হয়ে যায় তখনই। মুহূর্তেই ৩-০ গোলে এগিয়ে যাওয়া বার্সার জয় রুখবে, সেভিয়ার সেই সাধ্য কি! বার্সার জয় তাই নিশ্চিত হয়ে যায় ওই ৮ মিনিটের ঝড়েই।

৭৮ মিনিটে করার মেসির অসাধারণ ফ্রি কিক গোলটি জয়ের ব্যবধানটা ৪-০ করেছে মাত্র। তবে তার মধ্যে মিশে রয়েছে মেসির মৌসুমে প্রথম গোল পাওয়ার স্বস্তি। গোল-মেশিন মেসির গোলের খাতা খোলা, বার্সা সমর্থকদের জন্য স্বস্তিটা ছোট না!

কেআর/জেডএস/

 

ফুটবল: আরও পড়ুন

আরও