৪ গোল করেও কষ্টে জিতল রিয়াল

ঢাকা, সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯ | ২৯ আশ্বিন ১৪২৬

৪ গোল করেও কষ্টে জিতল রিয়াল

পরিবর্তন ডেস্ক ৯:১৬ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ০৬, ২০১৯

৪ গোল করেও কষ্টে জিতল রিয়াল

গোল করার পর জার্সি খুলে উদযাপন দণ্ডনীয় অপরাধ। নিশ্চিত হলুদকার্ড। শাস্তি নিশ্চিত জেনেও ফুটবলাররা প্রায়ই অতি আবেগের বশে স্বেচ্ছায় এই অপরাধ করেন। কাল রাতে সেটাই করলেন হামেশ রদ্রিগেজ। রিয়াল মাদ্রিদের কলম্বিয়ান ফরোয়ার্ড গোল করেই এক টানে নিজের জার্সিটা খুলে ফেললেন। বক্সারের মতো পেশি বহুল উদোম শরীরটা বের করে সারলেন বাঁধ ভাঙা উদযাপন।

গোল করে হামেশ রদ্রিগেজের এই শাস্তিযোগ্য অপরাধ উদযাপনে মাতার মাহাত্ম্য দুটো। প্রথমত, সেই ২০১৭ সালের মে মাসের পর রিয়ালের জার্সি গায়ে প্রথম গোল করলেন কলম্বিয়ান ফরোয়ার্ড। দীর্ঘ প্রায় আড়াই বছর পর নিজের চুক্তিবদ্ধ ক্লাবের হয়ে গোল, যে গোলে আবার মিশে থাকল নিজেকে নতুন করে প্রমাণের বার্তা, হামেশ রদ্রিগেজ অতি-আবেগ, উচ্ছ্বাসে উল্টাপাল্টা কাজ তো করতেই পারেন!

দ্বিতীয়ত, ম্যাচের ইনজুরি সময়ে করা তার গোলটি রিয়াল মাদ্রিদকে কাঁপন থেকে বাঁচিয়েছে। নিশ্চিত করেছে জয়। রদ্রিগেজের এই গোলটি মিলিয়ে কাল নিজেদের মাঠে রিয়াল ৪-২ গোলে হারিয়েছে গ্রানাডাকে। ,ম্যাচের এই স্কোরকার্ড হয়তো রিয়ালের সহজ জয়ের বার্তাই দেয়। কিন্তু ম্যাচের বাস্তব চিত্রনাট্য ছিল পুরো উল্টো।

৭৭ থেকে ইনজুরি সময়ের ২ মিনিট পর্যন্ত, এই ১৫ মিনিট কেঁপে মরেছে রিয়াল মাদ্রিদ। রিয়ালের ভয়, অস্থিরতাটা টের পাওয়া যায় কোচ জিনেদিন জিদানের অবস্থা দেখে। ডাগআউটে অতি-শান্ত স্বভাব বা অভ্যাসের জন্য বিশেষ সুনাম আছে রিয়ালের ফরাসি কোচের। ম্যাচের বেশির ভাগ সময়ই জিদান রিজার্ভ বেঞ্চে মাথা নিচু করে চুপচাপ বসে থাকেন।

কিন্তু কাল সেই জিদান ওই ১৫ মিনিটে বেঞ্চে টিকতেই পারছিলেন না। এই বেঞ্চ থেকে ওঠে পায়চারী করছেন তো, পরে আবার বসে পড়ছেন বেঞ্চে। আবার ওঠে শুরু করে দিচ্ছেন পায়চারী। সীমানাপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আঙুল নাড়িয়ে অস্থির নির্দেশনা দিচ্ছেন খেলোয়াড়দের।

অথচ নিজেদের ঘরের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে রিয়ালের শুরুটা হয়েছিল স্বপ্নের মতো। দ্বিতীয় মিনিটেই রিয়ালে ১-০ গোলে এগিয়ে দেন ‘ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো’ হয়ে উঠা করিম বেনজেমা। এরপর প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে এডেন হ্যাজার্ড করেন রিয়ালের হয়ে নিজের প্রথম অফিসিয়াল গোল। ৬১ মিনিটে লুকা মড্রিচের গোলে রিয়াল এগিয়ে যায় ৩-০ গোলে।

চেপে বসা ভূত তাড়িয়ে অবশেষে বার্নাব্যুতে বড় জয় পেতে যাচ্ছে, এই বিশ্বাস-বার্তাই তখন ম্যাচে। জিদানও ফুরফুরে মন নিয়ে অতি-শান্তভাবে নিশ্চুপ বেঞ্চে বসা। কিন্তু ৬৯ থেকে ৭৭, এই সময়ে ২ গোল করে কোচ জিদানসহ পুরো রিয়াল মাদ্রিদ শিবিরকে কাঁপিয়ে দেয় সফরকারী গ্রানাডা।

৩-০ ব্যবধানকে ৩-২ করে ফেলার পর পুঁচকে গ্রানাডা যেন আরও বেশি উজ্জীবিত হয়ে উঠে। সমতাসূচক গোলটির জন্য সানাতে থাকে একের পর এক আক্রমণ। গ্রানাডার সেই প্রতিটি আক্রমণ কম্পন্ তুলেছে বার্নাব্যুর ভরা গ্যালারিতে। যোগ করার সময়ের দ্বিতীয় মিনিট পর্যন্তও বোঝা যাচ্ছিল না, ম্যাচের ভাগ্যে কি আছে। এগিয়ে থাকলেও স্বস্তি পাচ্ছিল না রিয়াল। বোঝা যাচ্ছিল না, সত্যিই রিয়াল জিততে পারবে কিনা।

অবশেষে বার্নাব্যুর সেই কাঁপন থেমেছে হামেশ রদ্রিগেজের গোলে। যে গোলে কলম্বিয়ান তারকা নিজে মিটিয়েছেন দীর্ঘ দিনের অবহেলা-তাচ্ছিলের ক্ষোভ! কোচ জিদানকে বুঝিয়ে দিয়েছেন, রিয়ালে নিয়মিত খেলার সামর্থ এখনো তার আছে। দূর করেছেন কোচ জিদানসহজ বার্নাব্যুর কম্পন-অস্থিরতা। নিশ্চিত করেছেন দলের জয়।

রদ্রিগেজের অতি উচ্ছ্বাসের আরও একটি কারণ, গোলটি তিনি করেছেন বদলি হিসেবে নামার ৮ মিনিটের মাথায়। কোচ জিদানের সঙ্গে সম্পর্কটা ভালো নয়। তাই তাকে গত দুটি মৌসুম ধারে খেলতে হয়েছে বায়ার্ন মিউনিখে। এ মৌসুমেও তার রিয়ালে ফেরার কথা ছিল না। কারণ রিয়ালের কোচ পদে তার সেই শত্রু জিদান। কিন্তু ভাগ্য তাকে ঠিকই রিয়ালে ধরে রেখেছে।

তবে ধরে রাখলেও রদ্রিগেজ খেলঅর সুযোগ পাচ্ছিলেন না। প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতিপর্বে নিয়মিত খেলালেও প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে তাকে সুযোগ দিচ্ছিলেন না কোচ জিদান। অবশেষে সুযোগ পেয়েই আড়াই বছর পর গোল করলেন রিয়ালের হয়ে। এমন আবেগঘন সময়ে হলুদকার্ড শাস্তির পরোয়অ কে করে! রদ্রিগেজও তাই উচ্ছ্বাসের স্রোতে ভেসে জার্সি খুলে মেতে উঠেন বাঁধভাঙা উদযাপনে। তার সঙ্গে উদযাপনে মাতে পুরো বার্নাব্যুও।

৭ ম্যাচে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে আগে থেকেই লা লিগার পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে ছিল রিয়াল। কালকের জয়ে শীর্ষস্থান ধরে রাখা রিয়ালের পয়েন্ট হলো ১৮।

কেআর

 

ফুটবল: আরও পড়ুন

আরও