কথায় পুরো আর্জেন্টিনা দলকে কাঁদিয়েছিলেন মেসি

ঢাকা, সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯ | ২৯ আশ্বিন ১৪২৬

কথায় পুরো আর্জেন্টিনা দলকে কাঁদিয়েছিলেন মেসি

পরিবর্তন ডেস্ক ১:৩৮ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ০৪, ২০১৯

কথায় পুরো আর্জেন্টিনা দলকে কাঁদিয়েছিলেন মেসি

এবারের কোপা আমেরিকায় একটু বেশিই আবেগি হয়ে উঠেছিলেন লিওনেল মেসি। সেমি ফাইনালে স্বাগতিক ব্রাজিলের কাছে ২-০ গোলে শিরোপা স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার পর চরম হতাশায় উগড়ে দেন মনের সব ক্ষোভ-আবেগ। নিজের স্বভাবসুলভ নীরবতা ভেঙে মেতে ওঠেন কট্টর সমালোচনায়। ধুয়ে দেন দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশীয় ফুটবল সংস্থা কনমেবলকে। শুধু কনবেমলকে কাঠগড়ায় তোলা নয়, কথার মাধ্যমে মেসি কাঁদিয়েছিলেন পুরো আর্জেন্টিনা দলকেও।

বোঝাই যাচ্ছে মেসি আর্জেন্টিনা দলকে কাঁদিয়েছিলেন আবেগি কথায়। ব্রাজিলের কাছে হেরে শিরোপা স্বপ্ন ভেস্তে যাওয়ার পর ড্রেসিংরুমে কয়েক মিনিটের বক্তৃতা দিয়েছিলেন মেসি। সতীর্থদের উদ্দেশ্যে বার্সেলোনা তারকার সেই কথাগুলো এতটাই আবেগ মিশ্রিত ছিল যে, তা শুনে আর্জেন্টিনা দলের কেউই চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। বক্তা মেসির বক্তৃতার সময়েই তার জাতীয় দল সতীর্থরা গুমরে গুমরে কেঁদেছে।

পুরো ড্রেসিংরুমের সেই কান্নার প্রত্যক্ষ সাক্ষী ছিলেন অ্যাঙ্গেল ডি মারিয়া। দলের অন্যতম সদস্য হিসেবে ড্রেসিংরুমের সেই কান্নার ঘটনার প্রত্যক্ষ সাক্ষী তিনি। মেসির কথায় সেদিন কেঁদেছিলেন পিএসজির এই তারকাও। এতদিন পর ডি মারিয়া নিজেই বলেছেন, মেসির কথায় সেদিন কেঁদেছিল পুরো দল।

সেই ঘটনার বিবরণ দিয়ে ইএসপিএনকে ডি মারিয়া বলেছেন, ‘ব্রাজিলের কাছে হারের সুন্দর কিছু কথা বলেছিল মেসি। পুরো দল নিয়ে নিজের গর্বের কথা জানিয়েছিল সে। আসলে আমাদের খুব বেশি (জাতীয় দল ছাড়া) একসঙ্গে থাকা হয় না। কোপায় আবার অনেকেই ডাক পেয়েছিল প্রথম বারের মতো। তারপরও মনে হয়েছে, আমরা কতদিন একসঙ্গে আছি।’

মেসি ঠিক কী বলেছিলেন, ডি মারিয়া জানিয়েছেন সেটিও, ‘সে বলেছিল, আমরা প্রথম দিন থেকেই (টুর্নামেন্টের) সবাই একই পথে লড়াই করেছি। জার্সির প্রতি (জাতীয় দলের জার্সি) তরুণদের নিবেদন দেখে সে খুবই গর্ববোধ করেছিল। বলেছিল, কোপা আমেরিকায় তরুণরা যেভাবে নিজেদের নিংড়ে দিয়েছে, তাতে তাদের প্রাপ্যটা এর চেয়েও বেশি ছিল। সত্যি বলতে, সেদিন তার কথায় কেউ কান্না লুকাতে পারেনি। বিশেষ করে তরুণরা বেশি কেঁদেছিল। তার কথাগুলো হৃদয় ছুঁয়ে গিয়েছিল সবার।’

ক্লাব বার্সেলোনার হয়ে জিতেছেন সবকিছুই। কিন্তু আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে এখনো কিছুই জিততে পারেননি। এ নিয়ে মেসিকে কম সমালোচনা শুনতে হয়নি। এমনকি খোদ আর্জেন্টিনাতেই সমালোচনাটা বেশি। মেসি ক্লাব বার্সেলোনার হয়ে যতটা ভালো, আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে ততটা নন, এই অপবাদও হরহামেশাই হজম করতে হয় মেসিকে। এই অপবাদও শুনতে হয়, আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে মেসি নিজের সবটুকু নিংড়ে দেন না। ঠিক যেভাবে মাঠে নিজেকে উজাড় করে দেন বার্সেলোনার জার্সি গায়ে।

কিন্তু বাইরের এই সমালোচনায় সায় নেই ডি মারিয়ার, ‘অনেক রকম সমালোচনাই তো হয়। সে জাতীয় সংগীত গায় না, কথা বলে না, কত কী! কিন্তু এবারের কোপা আমেরিকা ছিল আলাদা। সে নিজেকে প্রমাণ করেছে। আমি বেশি খুশি হয়েছি সে যেভাবে দল এবং গণমাধ্যমের সামনে কথা বলেছে। সত্যিই তার কথাগুলো ছিল অনুপ্রেরণামূলক। আমি এই মেসিকে খুব পছন্দ করি।’

আবেগঘন কথায় সতীর্থদের হৃদয়ে কান্নার ঝড় তুলেছিলেন বটে। তবে গণমাধ্যমের সামনে কথার যে ঝড় তুলেছিলেন, মেসিকে তার খেসারত দিতে হয়েছে। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে কট্টর সমালোচনা করায় মেসিকে দুই মাসের জন্য আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সেই নিষেধাজ্ঞার কারণেই মেসি বর্তমানে জাতীয় দলের বাইরে।

তাকে ছাড়াই গত সেপ্টেম্বরে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলেছে আর্জেন্টিনা। এ মাসে অনুষ্ঠেয় জার্মানি ও ইকুয়েডরের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ দুটির জন্য ঘোষিত দলেও নেই মেসি।

উল্লেখ, মেসিবিহীন আর্জেন্টিনা শক্তিশালী জার্মানির মুখোমুখি হবে ৯ অক্টোবর। ইকুয়েডরের মুখোমুখি হবে তার ৪ দিন পর, অর্থাৎ ১৩ অক্টোবর।

কেআর

 

ফুটবল: আরও পড়ুন

আরও