চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সবচেয়ে কম বয়সে অভিষেক যে ১০ জনের

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯ | ২ কার্তিক ১৪২৬

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সবচেয়ে কম বয়সে অভিষেক যে ১০ জনের

পরিবর্তন ডেস্ক ৩:১৩ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৯

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সবচেয়ে কম বয়সে অভিষেক যে ১০ জনের

মঙ্গলবার রাতে বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের বিপক্ষে জয় পায়নি বার্সেলোনা। গোল পাননি অভিষিক্ত আনসু ফাতিও। তবে এই ম্যাচ দিয়েই বার্সেলোনার তরুণ তুর্কি ঢুকে পড়েছেন ইতিহাসের পাতায়। বার্সেলোনার ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড় হিসেবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ খেলার রেকর্ড গড়েছেন তিনি। পাশাপাশি বার্সেলোনার ‘নতুন মেসি’ ঢুকে পড়েছেন চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ওভার অল ইতিহাসের পাতায়ও।

সব মিলে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে অভিষেক হওয়া দশম কম বয়সী খেলোয়াড় তিনি। মঙ্গলবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগে অভিষেকের দিনটিতে আনসু ফাতির বয়স ছিল ১৬ বছর ৩৫১ দিন। পরিসংখ্যান ঘেঁটে জানা যাচ্ছে, তার চেয়েও কম বয়সে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে অভিষেক হয়েছে ৯ জনের।

ইতিহাসের পাতায় নিজেদের ঠাঁই করে নেয়া সেই ৯ জন কে কে, পরিবর্তন পাঠকদের জন্য তাদের সংক্ষিপ্ত পরিচয় তুলে ধরা হলো এখানে—

১. চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সে অভিষেক হওয়ার অনন্য কীর্তিটি নরওয়ের সাবেক ডিফেন্ডার সেলেস্তিনে বাবায়েরোর দখলে। ১৯৯৪ সালের ২৩ নভেম্বর বেলজিয়ান ক্লাব আন্ডারলেখতের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে অভিষেক হয় তার। স্তেয়ানার বিপক্ষে অভিষেকের দিনটিতে তার বয়স ছিল মাত্র ১৬ বছর ৮৫ দিন। তার সেই কীর্তি এখনো কেউ ভাঙতে পারেননি।

২. সবচেয়ে কম বয়সী অভিষিক্তদের তালিকায় সেলেস্তিনে বাবায়েরোর পরেই আছেন ক্রোয়েশিয়ান তরুণ মিডফিল্ডার অ্যালেন হালিলোভিচ। ২০১২ সালের ২৪ অক্টোবর ক্রোয়েশিয়ান ক্লাব ডায়নামো জাগরেবের হয়ে অভিষেক হয় তার। পিএসজির বিপক্ষে অভিষেকের দিনে তার বয়স ছিল ১৬ বছর ৪ মাস ৬ দিন। ২৩-এ পা দেওয়া হালিলোভিচ বর্তমানে এসি মিলানের চুক্তিবদ্ধ খেলোয়াড়। তবে বর্তমানে তিনি ধারে খেলছেন ডাচ ক্লাব হেরেনফিনে।

৩. তালিকার ৩ নম্বরে আছেন ইউরি তিয়েলেমান্স। ২০১৩ সালের ২ অক্টোবর এই বেলজিয়ানের অভিষেক হয় চ্যাম্পিয়ন্স লিগে। স্বদেশি ক্লাব আন্ডারলেখতের হয়ে গ্রীক ক্লাব অলিম্পিয়াকোসের বিপক্ষে। অভিষেকের দিনে তার বয়স ছিল ১৬ বছর ৪ মাস ২৫ দিন। ২২-এ পা দেওয়া এই মিডফিল্ডার বর্তমানে ইংলিশ ক্লাব লেস্টার সিটির হয়ে খেলছেন।

৪. চার নম্বর স্থানটি নিজের দখলে রেখেছেন গ্রীসের উইঙ্গার চারালাম্পোস মাভরিয়াস। বর্তমানে নিকোসিয়ান ক্লাব ওমানিয়ার হয়ে খেলা মাভরিয়াসের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে অভিষেক হয় ২০১০ সালের ২০ অক্টোবর। রাশিয়ান ক্লাব রুবিন কাজানের বিপক্ষে অভিষেকের দিনটিতে তার বয়স ছিল ১৬ বছর ৭ মাস ২৯ দিন।

৫. তালিকার ৫ নম্বরে রয়েছেন ডেনমার্কের ফরোয়ার্ড কেনেথ জহোরে। তার অভিষেক হয় ঠিক চারালাম্পোস মাভরিয়াসের সঙ্গে একই দিনে। ২০১০ সালের ২০ অক্টোবর। তবে ডেনমার্কের ক্লাব কোপেনহেগেনের হয়ে বার্সেলোনার বিপক্ষে অভিষেকের দিনে কেনেথ জহোরের বয়স ছিল ১৬ বছর ৮ মাস ১৯ দিন।

৬. তালিকার ৬ নম্বরে ইতালিয়ান তরুণ ফরোয়ার্ড মইসে কিন। ২০১৬ সালের ২২ নভেম্বর, জুভেন্টাসের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে অভিষেক হয় তার। ২০০০ সালের পর জন্ম নেওয়া প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ খেলার কীর্তি গড়েন তিনি। তবে স্প্যানিশ ক্লাব সেভিয়ার বিপক্ষে অভিষেকের দিনটিতে তার বয়স ছিল ১৬ বছর ৮ মাস ২৫ দিন। ১৯ বছর বয়সী তরুণ বর্তমানে ইংলিশ ক্লাব এভারটনে খেলছেন।

৭. তালিকার ৭ নম্বরেও একজন ইতালিয়ান। তার নাম ব্রায়ান ক্রিস্তান্তে। ইতালিয়ান ক্লাব এসি মিলানের হয়ে এই মিডফিল্ডারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ অভিষেক হয় ২০১১ সালের ৬ ডিসেম্বর। ভিক্টোরিয়া প্লজেনের বিপক্ষে অভিষেক হয় তার। মাঠে নামেন ব্রাজিলিয়ান তারকা রবিনহোর বদলি হিসেবে। মজার ব্যাপার হলো, সেই ম্যাচ দিয়েই পেশাদার ফুটবলের শীর্ষ পর্যায়ে অভিষেক হয় তার। দুই অভিষেকের সেই দিনটিতে তার বয়স ছিল ১৬ বছর ৯ মাস ৩ দিন। ২৪-এ পা দেওয়া ইতালিয়ান তারকা এই মৌসুমেই যোগ দিয়েছেন এএস রোমায়।

৮. তালিকার ৯ নম্বরে আছেন রাশিয়ার সাবেক আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার আলেজান্দ্র পাভলেঙ্কো। ২০০১ সালের ৩১ অক্টোবর রাশিয়ান ক্লাব স্পার্তাক মস্কোর হয়ে ফেইনুর্দের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে অভিষেক হয় তার। সেদিন তার বয়স ছিল ১৬ বছর ১০ মাস ৫ দিন।

৯. তালিকার ৯ নম্বরে অস্ট্রিয়ার সাবেক ফরোয়ার্ড রোমান ওয়ালনার। স্বদেশি ক্লাব স্টাম গ্রাজের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে তার অভিষেক ১৯৯৮ সালের ৯ ডিসেম্বর। সেদিন তারও বয়স ছিল ৮ নম্বরে থাকা আলেজান্দ্র পাভলেঙ্কোর সমান ১৬ বছর ১০ মাস ৫ দিন।

১০. তালিকার ১০ নম্বরে বার্সেলোনার তরুণ তুর্কি আনসু ফাতি, এটা তো আগেই বলা হয়েছে।

উপরের এই তালিকায় একটা স্পষ্ট, সবচেয়ে কম বয়সী অভিষিক্তদের কেউই নিজেদের বিশ্ব তারকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেননি। বয়সে অবশ্য এখনো অনেকেই তরুণ। তবে তাদের খেলায় বিশ্ব তারকার পূর্বাভাস মিলছে না। এরই মধ্যে ‘নতুন মেসি’ খেতাব পাওয়া আনসু ফাতি পারবেন, বিশ্ব তারকা হয়ে ব্যতিক্রমী উদহারণ সৃষ্টি করতে?

এই প্রশ্নের উত্তর দেবে ভবিষ্যৎ। তবে ১৭ ছুঁইছুঁই আনসু ফাতি কিন্তু শুরুটাই করলেন ঝড় তুলে। কেউ কেউ তো তাকে মেসির চেয়েও বেশি প্রতিভাবান হিসেবে আখ্যায়িত করার চেষ্টা করছেন।

কেআর/

 

ফুটবল: আরও পড়ুন

আরও